| ১২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ফল বিপর্যয়, পাশের হার ৪৯.৪৮, কেউ পাশ করেনি ৮ বিদ্যালয়ের

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ফল বিপর্যয়, পাশের হার ৪৯.৪৮, কেউ পাশ করেনি ৮ বিদ্যালয়ের

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

জিপিএ-৫ কমেছে ২১৪৫, পাশের হার কমেছে ১২.৫৯ শতাংশ চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫-দুটিই কমেছে।

এবার এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন।
গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ কমেছে ২ হাজার ১৪৫টি।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।

ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০ঃ০০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে বেশি।

চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এবার পাসের হার ৭৪ শতাংশ।
গত বছর এ হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

গত বছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ। চট্টগ্রামের বাইরের চার জেলাতেও এবার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। কক্সবাজারে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে এবার পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, গত বছর ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর বান্দরবানে এবার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, গত বছর ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও পার্থক্য রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও এবার বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার মাত্র ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। বিপরীতে এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।

এদিকে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে।

নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

ফলাফলের সার্বিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে পাসের হার কমেছে ব্যাপকভাবে।

একই সঙ্গে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক থেকে বেড়ে আটে পৌঁছানোও এবারের ফলাফলের দুর্বল চিত্রকে স্পষ্ট করেছে।

বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত 

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ফল বিপর্যয়, পাশের হার ৪৯.৪৮, কেউ পাশ করেনি ৮ বিদ্যালয়ের

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়িতে – “ভিন্ন প্রক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্খা ” – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালন করা হয়েছে।

বুধবার (১২ই আগস্ট) দুপুর ১২ টায় উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে কনফারেন্স রুমে দিবসটি উপলক্ষে এক সভা আয়োজন করা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন এবং সভপতিত্ব করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জবা রানী বড়ুয়া।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ এর প্রতিনিধি এসআই (নিঃ) মোঃ সিরাজ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল বড়ুয়াসহ যুবরা উপস্থিত ছিলেন।

রামগড়ে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা, প্রতিবন্ধীদের হুইল-চেয়ার বিতরণ

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ফল বিপর্যয়, পাশের হার ৪৯.৪৮, কেউ পাশ করেনি ৮ বিদ্যালয়ের

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জন ব্যক্তির মাঝে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী শামীম।

এ সময় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এর আওতায় উপজেলার বিভিন্ন প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষের মাঝে মোট ১৭টি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে গুরুতর প্রতিবন্ধী রোগীদের ব্যবহারের জন্য ৩টি হুইলচেয়ার রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রেহান উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপস্থিত অতিথিরা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল সহজ করতে সরকারের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা সরকারের এ সহায়তা কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে”: কাপ্তাইতে বিশ্ব হাতি দিবসের র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ফল বিপর্যয়, পাশের হার ৪৯.৪৮, কেউ পাশ করেনি ৮ বিদ্যালয়ের

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

“হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে, বন বাঁচলে আমরা বাঁচব” এবং “বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি”—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব হাতি দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে কাপ্তাই রেঞ্জ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় কাপ্তাই উপজেলা মিলনায়তনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম।

​সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মুহাম্মদ জামাল হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং কাপ্তাই তথ্য সহকারী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রহমান।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী সরকার, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. লোকমান আহমেদ এবং ডেপুটি রেঞ্জার মো. মিঠু তালুকদার।

আলোচনা সভায় বক্তারা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানব-হাতি সংঘাত নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, হাতি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাতির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা এবং মানব ও হাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

×