| ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পাকুয়াখালীসহ সকল বাঙালি গণহত্যার বিচার করতে হবে: পিসিসিপি

পাকুয়াখালীসহ সকল বাঙালি গণহত্যার বিচার করতে হবে: পিসিসিপি

 

লংগদু প্রতিনিধি :

রাঙ্গমাটির লংগদুতে ৯ সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবসের স্মরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি  লংগদু উপজেলা শাখার উদ্যােগে শোক র‌্যালি দোয়া মোনাজাত ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে লংগদু উপজেলা সদরে শোক র‌্যালি করে প্রধান সড়ক ঘুরে এসে মাঠে পাকুয়াখালীতে নিহত গণকবরের সামনে দোয়া, মোনাজাত ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি লংগদু উপজেলার সহ-সভাপতি মোঃ মামুনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রচার সম্পাদক জাহিদ বিন খলিল, লংগদু সদর ইউনিয়নের সভাপতি মো. নাসির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হৃদয়, সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম মাইনী মুখ ইউনিয়ন সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম সহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভুক্তভোগীর পরিবার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস’র সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর হাতে অসংখ্য বর্বরোচিত, নারকীয় ও পৈশাচিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে পাবর্ত্য অঞ্চলের বাঙালিরা। অসংখ্য ঘটনার মধ্যে আজ শনিবার পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি নৃশংসতম বর্বর গণহত্যা দিন, পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস।

১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস এর সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালীতে নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াদের ওপর নির্মম নির্যাতনের পর হত্যাকান্ড চালিয়ে তাদের বীভৎস মানসিকতার এক জঘন্যতম জিংঘাসার স্বরূপ উন্মোচন করে। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি একটি নৃশংসতম বর্বর গণহত্যার দিন। এই দিনে ৩৫ জন নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছিল শান্তি বাহিনী। তাদের ক্ষত-বিক্ষত, বিকৃত লাশের নির্মম দৃশ্য দেখে সেদিন শোকে ভারী হয়ে ওঠেছিল পরিবেশ। হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা-দিয়ে কুপিয়ে এবং বন্দুকের বেয়নেট ও অন্যান্য দেশি অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নানাভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছিল সেদিন অসহায় ওই মানুষগুলোকে। প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সেদিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শান্তিবাহিনী।

বক্তারা বলেন, মানবাধিকার এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে পাবর্ত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই পাকুয়াখালী গণহত্যাসহ পাহাড়ে সকল বাঙালি গণহত্যাকান্ডের তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। অন্যথায় পাবর্ত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা কোনোদিনই সফল হবে না। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ও সম্প্রীতি রক্ষায় সশস্ত্র অবৈধ অস্ত্রধারী ও দেশদ্রোহী সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যার দায়ে খুনি সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসা সহ তাদের সংগঠনের সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূল শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বাঘাইছড়িতে সরকারি আইনগত সহায়তা নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

পাকুয়াখালীসহ সকল বাঙালি গণহত্যার বিচার করতে হবে: পিসিসিপি

 

আনোয়ার হোসেন,
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙ্গামাটি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আয়োজনে এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিচারক এ এস এম ইমরান, চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আমানত ইসলাম শাহীন, সিনিয়র লিগ্যাল জজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দীন বাবু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর আলম, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার এবং বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রদত্ত বিভিন্ন সেবা, সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদন করার পদ্ধতি, বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা গ্রহণের সুযোগ এবং মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা, আইনি পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের সেবা, আবেদনপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া এবং সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদনের নিয়ম সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করা হয়।

এ সময় অসচ্ছল, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভায় সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে এ সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য নন্দিতা দাশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে উপজেলা যুবদল ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ

পাকুয়াখালীসহ সকল বাঙালি গণহত্যার বিচার করতে হবে: পিসিসিপি

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বিলাইছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নন্দিতা দাশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিলাইছড়ি উপজেলা যুবদল, উপজেলা মহিলা দল এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিজ কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী দিলু আরা বেগম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রায় চাকমা (রায়বাবু) এবং উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদা বেগম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ওমর ফারুক (মনি), উপজেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি রত্না বেগম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ববিতা চাকমা, সদস্য প্রীতি তঞ্চঙ্গ্যা, যুবদলের সদস্য অধীর লাল চাকমা, ফারুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি যতীন তঞ্চঙ্গ্যা, সাধারণ সম্পাদক অংলা মার্মা, সাংগঠনিক সম্পাদক নিত্যলাল তঞ্চঙ্গ্যা, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মনির হোসেন, সহ-সভাপতি মো. রফিক মীর, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক ইমন চাকমা, কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের বিনয় ভূষণ চাকমা, মিলন চাকমা ও ফাক্কো চাকমাসহ উপজেলা মহিলা দল, সদর ইউনিয়ন যুবদল ও ফারুয়া ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

কাপ্তাইয়ে ৪১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার সিএনজিসহ দুইজন আটক

পাকুয়াখালীসহ সকল বাঙালি গণহত্যার বিচার করতে হবে: পিসিসিপি

 

​কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকাসহ দুইজন চোরাকারবারিকে আটক করেছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)। এসময় অবৈধ পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করা হয়।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক সকাল ৮টা ৫ মিনিটে কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের ১ নম্বর জিপি গেইট সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

​আটককৃতরা হলেন— রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ব্যাঙছড়ি এলাকার উছিলা মারমার ছেলে নিঠু মারমা (৩৩) এবং একই জেলার নাও ভাংগা এলাকার সুনীল চাকমার ছেলে সুপ্রিয় চাকমা (২০)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, অভিযানে আটককৃতদের কাছ থেকে নগদ ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ছাড়াও পাচারকাজে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি (চট্টগ্রাম-থ-১৫-১৭৬৪), ১টি স্মার্টফোন, ১টি বাটন ফোন, ২টি সিম কার্ড এবং আসামীদের নিকট থাকা ব্যক্তিগত নগদ ২,৯৬০ টাকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব মালামাল ও গাড়ির মোট আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ৩৬০ টাকা। কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস্-এর দিকনির্দেশনায় হাবিলদার মো. এখলাছ উদ্দিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

​অভিযান শেষে আটককৃত আসামী জব্দকৃত নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মালামাল কাপ্তাই থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস আরও জানায়,  সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান দমন, মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ ও পাচার রোধ এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) সবসময় সজাগ রয়েছে। দেশের স্বার্থে এবং জননিরাপত্তায় বিজিবির এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

×