নানা আয়োজনে দিঘীনালা বন বিহারে বনভান্তের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
রুপম চাকমা, দিঘীনালা প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দিঘীনালা বন বিহারে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বনভান্তের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহতি পূর্ণ্যানুষ্ঠান পালিত হয়েছে।
দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ৯ টায় বেলুন উড়িয়ে অনুষ্টানের শুভ সুচনা করেন দিঘীনালা বন বিহারে অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় শুভ বদ্ধন মহাস্থবির ভান্তে।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভোরে প্রার্থনা ও বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, হাজার প্রদীপ দান ও ধর্ম দেশনা শ্রবণ, ভিক্ষু সংঘকে আহার দান এবং বিশেষ মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা।
এতে পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন বিহার থেকে আগত ভিক্ষু সংঘসহ বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা উপজেলার কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানো চাকমা তিনি বলেন, বনভান্তে ছিলেন শান্তি, অহিংসা ও মানবকল্যাণের প্রতীক। তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা আজও মানুষকে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির পথে চলতে অনুপ্রেরণা জোগায়। বনভান্তের দেখানো পথে চললে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা মন্তব্য করেন। অনুষ্টানে ধর্ম দেশনা প্রদান করেন স্মৃটি বিজয় ভান্তে ও শ্রদ্ধেয় শুভ বদ্ধন মহাস্হবির ভান্তে দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং সকল জীবের মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বনভান্তের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই মহতি পূর্ণ্যানুষ্ঠান দিঘীনালা বন বিহারে এক উৎসবমুখর ও ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।
বনভান্তের ১০৭তম জন্মবার্ষিকীর হলো তাঁর জীবন ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধদের কাছে এক বিশাল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উৎসব; এই দিনে পুণ্যার্থীরা তাঁর আদর্শ, ধ্যান ও করুণার বাণী স্মরণ করে, পুণ্যাহ ও দানযজ্ঞের মাধ্যমে তাঁর জন্মস্থানে শ্রদ্ধা জানায় এবং তাঁর জীবন দর্শন অনুসরণের অঙ্গীকার করে। এটি শুধু একটি জন্মদিন নয়, বরং তাঁর ‘লোকোত্তর’ জীবন ও বোধিপ্রাপ্তির স্মরণে সম্মিলিত ধর্মীয় চেতনার জাগরণ।















