| ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিরোনাম:

রং-তুলি আর বর্ণমালায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালো কাপ্তাইয়ের শিশুরা

রং-তুলি আর বর্ণমালায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালো কাপ্তাইয়ের শিশুরা

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুন্দর হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ​

উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আঁকায় উঠে আসে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, শহীদ মিনার ও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রূপ। পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালার সঠিক ও সুন্দর গাঁথুনিতে তারা ফুটিয়ে তোলে হাতের লেখার নৈপুণ্য। ​

প্রতিযোগিতা চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঁখি তালুকদার, বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাশ, রাইখালী জুমিয়া পুর্নবাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি দে, ওয়াগ্গা হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক জ্যোতিময় তঞ্চঙ্গ্যা, নুনছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবদানন্দ বড়ুয়া সহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাশ, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২১শে ফেব্রুয়ারির চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

রামগড়ে ইফতার প্রস্তুতকালে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার ; ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রং-তুলি আর বর্ণমালায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালো কাপ্তাইয়ের শিশুরা

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুতকালে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম। এসময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনশীল রাখা এবং ইফতার সামগ্রীর মান নিশ্চিত করতে উপজেলার বিভিন্ন দোকান ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে তদারকি করা হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইফতার প্রস্তুতকালে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে জিলাপি তৈরি করা হচ্ছে এবং পচা বেগুন দিয়ে বেগুনি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় দুইটি পৃথক মামলায় সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে মোট চার হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, রমজান মাসে কোনো অবস্থাতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি কিংবা খাদ্যে ভেজাল সহ্য করা হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসময় উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও পুলিশের একটি বিশেষ টিম উপস্থিত ছিলেন।

একাত্তর টিভির খবরের জেরে কাপ্তাইয়ে নূরুল হুদা কাদেরী স্কুলে নির্মিত হলো প্রথম শহীদ মিনার

রং-তুলি আর বর্ণমালায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালো কাপ্তাইয়ের শিশুরা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার বরইছড়ি কর্ণফুলী নূরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচলো। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময়ের পর এই প্রথম বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে বাঙালির গর্বের প্রতীক ‘শহীদ মিনার’।

জনপ্রিয় ৭১ টেলিভিশনে এই বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকা নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার হওয়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরে আসে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখে। আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রথমবারের মতো নিজ বিদ্যালয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন নির্মিত এই শহীদ মিনারকে ঘিরে বিদ্যালয় জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে শহীদ মিনার এলাকা পরিষ্কার ও আল্পনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। ​বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আগে আমাদের বাঁশ-কাগজ দিয়ে অস্থায়ী বেদি বানাতে হতো। এবার আমরা কয়েক বছর পর নিজ বিদ্যালয়ের স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দেব, এটা ভেবেই খুব আনন্দ হচ্ছে”।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার ছিল না। এ বিষয়ে ৭১ টিভি-তে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের বিশেষ উদ্যোগে দ্রুত এই মিনারটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

বরইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জয়সীম বড়ুয়া বলেন: “৭১ টিভিকে আমরা ধন্যবাদ জানাই আমাদের সমস্যাটি সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য। এখন আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ আঙিনাতেই মহান ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে পারবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান: “শিক্ষার পরিবেশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা জরুরি। এই উদ্যোগ বাকিদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”​নূরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মিত হলেও কাপ্তাইয়ের আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে এখনো ভাষা শহীদদের স্মরণে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নেই। রাইখালী ডংনালা উচ্চ বিদ্যালয়,​ ওয়াগ্গা কুকিমারা লোটাস আবাসিক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোটাস উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল আমিন নূরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, তৈয়াবিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ​

এলাকাবাসীর দাবি, ৭১ টিভির এই ‘ম্যাজিক’ যেন পর্যায়ক্রমে এই প্রতিষ্ঠান গুলোতেও পৌঁছায়, যাতে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় কীটনাশক যুক্ত মশারি বিতরণ

রং-তুলি আর বর্ণমালায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালো কাপ্তাইয়ের শিশুরা

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারি (ITN) বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ১৫০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১২টায় বাঘাইছড়ির মুসলিম ব্লক মাঠ প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় ব্র্যাক ও সহযোগী সংস্থাসমূহের উদ্যোগে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা-১২১২ এর অধীনে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কীটনাশকযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী মশারি ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তিনি সকলকে নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, মিন্টু চাকমা সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, ব্র্যাক স্বাস্থ্য প্রোগ্রাম, বাঘাইছড়ি উপজেলা তেপান্তর চাকমা প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নিখিল চাকমা ফিল্ড অর্গানাইজার।

বক্তারা বলেন, ম্যালেরিয়া নির্মূলে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। মশারি বিতরণের পাশাপাশি উপস্থিত জনগণের মাঝে ম্যালেরিয়ার লক্ষণ, সংক্রমণের কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম ও দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এবং এ ধরনের সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

×