শিরোনাম:

বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ফুটপাত দখল নিয়ে চরম নৈরাজ্য : বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য, সভাপতিকে ‘বুড়ো আংগুল’ দেখানোর অভিযোগ

বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ফুটপাত দখল নিয়ে চরম নৈরাজ্য : বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য, সভাপতিকে ‘বুড়ো আংগুল’ দেখানোর অভিযোগ

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ফুটপাত ও সড়ক দখলকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাজার কমিটির একাধিকবার নির্দেশনার পরও এক শ্রেণির সবজি ব্যবসায়ী ফুটপাত ও চলাচলের মূল সড়কের ওপর অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গালহালিয়া বাজারটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত বাজার। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বাজারে কেনাকাটার জন্য আসেন। কিন্তু ফুটপাত ও সড়ক দখলের কারণে পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং রোগী বহনকারী যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

বাজার কমিটি জানায়, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে একাধিকবার মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট সবজি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা সে নির্দেশ মানছেন না। বরং প্রকাশ্যে বাজার কমিটির সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করছেন।

এ বিষয়ে বাঙ্গালহালিয়া বাজার কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বারবার অনুরোধ করেছি যেন তারা ফুটপাত ও রাস্তা ছেড়ে নির্ধারিত স্থানে বসে। কিন্তু তারা কেউ কথা শুনছে না। উল্টো আমাকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে ওই জায়গাতেই বসে আছে। এটা শুধু আমার প্রতি নয়, পুরো বাজার ব্যবস্থাপনার প্রতি চরম অবমাননা।”

তিনি আরও বলেন, বাজার কমিটির পক্ষে জোরপূর্বক কাউকে উচ্ছেদ করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু ব্যবসায়ীদের এমন আচরণ বাজারে অরাজকতা সৃষ্টি করছে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।

স্থানীয় ক্রেতা ও পথচারীরা জানান, ফুটপাত দখলের ফলে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাজারে আসলেই হাঁটার জায়গা পাওয়া যায় না। বাচ্চা বা বয়স্ক মানুষ নিয়ে বাজারে আসা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাজারে এ ধরনের অবৈধ দখল দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি চোখে পড়ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বাঙ্গালহালিয়া বাজারকে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দুর্ঘটনায় আহত কর্মীর পাশে ছাত্রদল নেতা নাইমুল ইসলাম রনি, বাচিং মং মার্মাকে আর্থিক সহায়তা ও পাশে থাকার আশ্বাস

বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ফুটপাত দখল নিয়ে চরম নৈরাজ্য : বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য, সভাপতিকে ‘বুড়ো আংগুল’ দেখানোর অভিযোগ

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনির্বাচিত মন্ত্রী এবং ২৯৯নং রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের নির্বাচনী প্রচারণা সভায় অংশ নিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া বাচিং মং মার্মার পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাইমুল ইসলাম রনি।

আজ (১৭ ফ্রেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের স্বনামধন্য বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র সার্জিস্কোপ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন বাচিং মং মার্মাকে দেখতে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। পরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে সংঘটিত ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাচিং মং মার্মা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ছাত্রদল নেতা নাইমুল ইসলাম রনি বলেন— বাচিং মং মার্মা আমাদের সংগ্রামের একজন সাহসী সহযোদ্ধা। দল ও আদর্শের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমরা কেউ একা নই—দুর্দিনে আমরা একে অপরের পাশে থাকবো, এটাই আমাদের অঙ্গীকার। তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য আমরা সবাই দোয়া করছি। চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো।”

তিনি আরও বলেন, মানবিক রাজনীতি মানে শুধু মঞ্চে বক্তব্য দেওয়া নয়, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আজ আমরা সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ বাচিং মং মার্মা দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।” এ সময় স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ আহত বাচিং মং মার্মার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কাপ্তাইয়ে কাবাডির লড়াই ; শিরোপা জিতল চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়

বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ফুটপাত দখল নিয়ে চরম নৈরাজ্য : বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য, সভাপতিকে ‘বুড়ো আংগুল’ দেখানোর অভিযোগ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক কর্মসূচির আওতায় কাপ্তাই উপজেলায় অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উপজেলা পর্যায়ের কাবাডি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার মোট ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত লড়াই শেষে অনন্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে, রানার্স-আপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়।

খেলা শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রুহুল আমিন।

​জেলা ক্রীড়া অফিসার মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসান, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব হাসান এবং সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ তঞ্চঙ্গ্যা।

​বক্তারা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এই খেলাকে টিকিয়ে রাখা এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সাজেকে সাবেক ভুমি রক্ষা কমিটির সদদ্য সচিব ধশরত চাকমার মৃত্যু

বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ফুটপাত দখল নিয়ে চরম নৈরাজ্য : বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য, সভাপতিকে ‘বুড়ো আংগুল’ দেখানোর অভিযোগ

 

রুপম চাকম, দিঘীনালা :

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার গঙ্গারাম কলাবনিয়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও সাবেক ভুমি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ধশরত চাকমা আর নেই। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি গতকাল মধ্যরাতে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ধশরত চাকমা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ভূমি অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায় এবং সামাজিক আন্দোলনে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রাতে নিজ বাড়িতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

×