শিরোনাম:

বিঝু উদযাপন কমিটির মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছে দীঘিনালা সেনা জোন

বিঝু উদযাপন কমিটির মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছে দীঘিনালা সেনা জোন

 

বিশেষ প্রতিবেদক, খাগড়াছড়িঃ

আসন্ন পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিঝু উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ৯টি বিঝু উদযাপন কমিটির মাঝে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন দীঘিনালা সেনা জোন।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দীঘিনালা সেনা জোনের উদ্যোগে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। উৎসবকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে জোন সূত্রে জানা যায়।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল আমিন, মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ, ক্যাপ্টেন আব্দুল্লা আল আজমী এবং মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ জয়নুল আবেদিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ-সময় অধিনায়ক জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিঝু উৎসব সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেনাবাহিনীর এ ধরনের সহায়তা স্থানীয় জনগণের উৎসব উদযাপনকে আরও উৎসাহিত করবে এবং সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় বিভিন্ন বিঝু উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিন্ডদান দিলেন দীঘিনালা ভৈরফা এলাকাবাসি

বিঝু উদযাপন কমিটির মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছে দীঘিনালা সেনা জোন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

দীঘিনালায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিণ্ডদান কর্মসূচি পালন করেছেন ভৈরফা এলাকার বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ভোর সকালে ভৈরফা সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও এলাকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ভিক্ষুদের দান করেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। পরে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে ভাত, তরকারি, ফলসহ নানা ধরনের খাবার পিণ্ডদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্ষুরা দান গ্রহণের পর ধর্মদেশনা প্রদান করেন এবং দাতাদের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন। এ সময় তারা মানবকল্যাণ, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন।

আয়োজকরা জানান, পিণ্ডদান বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষঙ্গ, যা দানশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

 

অনুষ্ঠানে পরম পুজ্য শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে বলেন, পিণ্ডদান বৌদ্ধ ধর্মের একটি মহৎ দানশীলতার অনুশীলন, যা মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। তিনি বলেন, “দান মানুষের লোভ-লালসা দূর করে এবং পরের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। পিণ্ডদানের মাধ্যমে গৃহীরা পুণ্য সঞ্চয় করেন এবং তা তাদের ইহকাল ও পরকালে মঙ্গল বয়ে আনে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য দান, শীল ও ভাবনার চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজন। সবাইকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ জীবন যাপনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি দাতাদের কল্যাণ কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা পরিচালনা করেন।

এ সময় শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন এবং ধর্মীয় পরিবেশে পিণ্ডদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

দিঘীনালায় ৫ দিনব্যাপী বৈসাবি মেলার উদ্বোধন

বিঝু উদযাপন কমিটির মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছে দীঘিনালা সেনা জোন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বৈসাবিকে কেন্দ্র করে ৫ দিনব্যাপী বৈসাবি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। ৮ এপ্রিল সকাল থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার শুভ সূচনা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিঝু উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও দিঘীনালা ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকমা সার্কেল চীপ বেরিষ্টার দেবাশীষ রায়। অনুষ্টানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শ্রী বিমল কান্তি চাকমা সভাপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাবেক মহালছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘীনালা ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা, সচেতন নাগরীক সমাজের সদস্য সমির চাকমাসহ জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে চাকমা সার্কল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। এই মেলা সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে এনে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। মেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, খাবার এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের৷ আকর্ষণ করছে। শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে নাচ, গান ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আয়োজকরা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। বৈসাবি মেলার মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

বিঝু উদযাপন কমিটির মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছে দীঘিনালা সেনা জোন

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, পরিচয়পত্রসহ নানা সেবা পেতে জনগণকে এই প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতেও চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব সেবা নিতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি জন্মনিবন্ধন অনলাইনে করতে ২০ থেকে ৩০ দিন, কখনো তারও বেশি সময় লাগছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা প্রতিটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন, যা সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, একটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হয়। সরকার তো এত টাকা নির্ধারণ করেনি, তাহলে আমরা কেন দেব? একই ইউনিয়নের শিক্ষার্থী রিপন ম্রো জানান, জন্মনিবন্ধন করতে ইউনিয়নে না পেয়ে রুমা উপজেলা সদরে যেতে হয়, এতে যাতায়াতে প্রায় ৪০০/১০০০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে একটি জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি ফি অনুযায়ী, জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য দেশে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা জানান, আমাদের নির্ধারিত কোনো বেতন নেই। অতিরিক্ত টাকা নিতে হয় এবং এই টাকা একা আমরা নেই না—চেয়ারম্যান, সদস্য ও সচিবদেরও ভাগ দিতে হয়। এছাড়া জন্মনিবন্ধন করতে গেলে নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে বারবার ঘোরানো হয়। কখনো বিদ্যুৎ নেই, কখনো সার্ভার সমস্যা, আবার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত—এভাবে দিনের পর দিন হয়রানি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। শুধু জন্মনিবন্ধনই নয়, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতেও ঘুষ ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়নের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাত ও কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নাগরিক সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছেন।

×