রুমার গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক জরাজীর্ণ, ঝুঁকিতে সেবা কার্যক্রম, ভবনটি পুনঃনির্মানে দাবি স্থানীয়দের
মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক বর্তমানে জরাজীর্ণ, অকেজো ও ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ে অফিসের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ক্লিনিকের অবস্থা নানামূখী সমস্যায় জর্জরিত দেখা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা পুনঃর্নির্মাণ না হওয়ায় ক্লিনিক ভবনটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে সেখানে দায়িত্বরত কর্মীরা ঝুঁকি নিয়েই অফিস করছেন। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শীকা উছাইমে মারমা জানান, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছেন। এসে দেখেন ক্লিনিকে কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুতের সংযোগও নেই। এক কথায় ক্লিনিকটি সম্পূর্ণ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আমি পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছি। ভারী বৃষ্টিপাত হলে ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছাদ থেকে পানি পড়ে। রুমের ভিতরে থাকা যায়না। আমরা চরম ঝুঁকিতে আছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্লিনিক ভবনটি অনেক পুরোনো এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনেক সময় কর্মীরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। এতে স্থানীয় জনগণ স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের সুপারভাইজার ক্রেডি চাকমা জানান, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং প্রকৌশলীরাও পরিদর্শনে এসেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার পতনের পর কাজটি আর এগোয়নি। তিনি আরও জানান, ক্লিনিকের জন্য একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, জনবল নিয়োগ, চিকিৎসাসেবা নিয়মিতকরণ, পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের অফিসে নিয়মিত উপস্থিতির নিশ্চিতসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত করে ক্লিনিকটি সচল করতে যাহাতে স্থানীয় এলাকাবাসীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়ে সেদিকে নজরদারির জন্য এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা যেন সার্বক্ষণিকভাবে দেয়া যায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।
















