শিরোনাম:

নির্যাতনের শিকার ১৪ জন বিএনপি কর্মী, রাজস্থলীতে এখনো দল থেকে বঞ্চিত

নির্যাতনের শিকার ১৪ জন বিএনপি কর্মী, রাজস্থলীতে এখনো দল থেকে বঞ্চিত

 

রাজস্থলী প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় একসময় রাজপথে নামার ত্যাগী বিএনপিকর্মীদের একটি অংশ আজ চরম অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। রাজনৈতিক দুঃসময়ে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, মামলা-হামলা ও নির্যাতন সহ্য করার পরও তারা এখন দলীয় স্বীকৃতি, পদ-পদবী এবং ন্যূনতম মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত—এমন অভিযোগ উঠেছে ১৪ জন তৃণমূল বিএনপিকর্মীর পক্ষ থেকে।

দলীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৩ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজস্থলী উপজেলায় আয়োজিত এক সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন তারা। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন এসব ত্যাগী কর্মী। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে চন্দ্রঘোনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (জিআর মামলা নং- ৩০২/১৩, মামলা নং- ০৩, তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০১৩; ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩৭৯/৩৪, দণ্ডবিধি)। মামলা দায়েরের পরপরই শুরু হয় তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘ সময় নিজ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। অনেকেই পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। কেউ কেউ জীবিকা হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এই দীর্ঘ দুর্ভোগের স্মৃতি আজও তাদের জীবনে গভীর ক্ষতের মতো রয়ে গেছে।

বঞ্চিত এই ১৪ জন ত্যাগী কর্মীর মধ্যে রয়েছেন— সুই চিং মারমা, আওয়াই শৈ মারমা, ক্যাচিং মারমা, থোয়াই চাই অং মারমা, উনুসিং মারমা, চাইথোয়াইমং মারমা, বাবলা দে, ক্যাচিং হ্লা মারমা, মংক্যচিং মারমা, চিং সুই উ মারমা, উসাচিং মারমা, উহ্লাচিং মারমা, মংসুইপ্রু মারমা এবং উয়েমং মারমা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দল পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার হলেও তাদের মতো ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন কিংবা পদ-পদবী বণ্টনের ক্ষেত্রেও তাদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দুঃসময়ে আমরা রাজপথে ছিলাম। নির্যাতন সহ্য করেছি, মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর পালিয়ে বেড়িয়েছি। পরিবার ছেড়ে অনিশ্চিত জীবন কাটিয়েছি। অথচ আজ দলীয় কোনো মূল্যায়ন পাচ্ছি না—এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

আরেকজন কর্মী বলেন, যারা দুঃসময়ে দলের পাশে ছিল, আজ তারাই অবহেলিত। নতুন যারা রাজনীতিতে এসেছে, তারা পদ-পদবী পাচ্ছে। কিন্তু আমরা বঞ্চিত—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন করেন। তারা চান, দলীয় কাঠামোর মধ্যে তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা হোক।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই ঘটনা শুধু ১৪ জন কর্মীর ব্যক্তিগত বঞ্চনার চিত্র নয় এটি তৃণমূল রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে। দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করা কর্মীরা যদি মূল্যায়ন না পান, তাহলে তা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দলীয় নেতৃত্বের উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এখন দেখার বিষয় দলীয় উচ্চপর্যায়ের নেতারা এই অভিযোগের প্রতি কতটা সাড়া দেন এবং বঞ্চিত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে দিতে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

রুমা প্রেসক্লাবের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত, সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগপত্র গৃহীত

নির্যাতনের শিকার ১৪ জন বিএনপি কর্মী, রাজস্থলীতে এখনো দল থেকে বঞ্চিত

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মারমা। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।

শুক্রবার (১লা মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ২নং রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদ ইউপি চেয়ারম্যান অফিসে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মারমা, অংবাচিং মারমা, উবাসিং মারমা, মথি ত্রিপুরা, মো. হাকিমসহ অন্যান্য সদস্যরা।

সভা শুরুর আগে বিগত মাসের সভার সিদ্ধান্ত ও আলোচ্য বিষয়সমূহ পুনরালোচনা করা হয়। পরে গত মাসের ৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ বা অব্যাহতি গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সদস্যদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় রুমা প্রেসক্লাবের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অংবাচিং মারমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রুমা প্রেসক্লাবের কার্যক্রম চললেও এখনো সংগঠনটির নিজস্ব কোনো ভবন বা স্থায়ী কার্যালয় নেই। একটি স্থায়ী ভবন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রুমা উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে হবে।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ শূন্য পদ দ্রুত পূরণের দাবি জানান। এ সময় সাংবাদিক উবাসিং মারমা আংশিকভাবে অংবাচিং মারমার নাম প্রস্তাব করে বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে এমন একজনকে দায়িত্ব দিতে হবে, যিনি সৎ, সত্যবাদী, দায়িত্বশীল এবং সংগঠনের স্বার্থে নিবেদিত থাকবেন।

সভাপতি শৈহ্লাচিং মারমা সমাপনী বক্তব্যে বলেন, রুমা প্রেসক্লাবকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচনের আশ্বাস দেন এবং জানান, খুব শিগগিরই সকল সদস্যকে নিয়ে বিশেষ সভার আয়োজন করা হবে। সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ ও সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে সভাপতি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বাঘাইছড়িতে মে দিবস পালিত

নির্যাতনের শিকার ১৪ জন বিএনপি কর্মী, রাজস্থলীতে এখনো দল থেকে বঞ্চিত

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত আসবে এবার নবপ্রভাত”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলন আয়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি, বাঘাইছড়ি; থানা অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন মজুমদার; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর আলম; উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী এবং সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম জাবেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

সভায় বক্তারা মহান মে দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন,এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক গৌরবময় দিন। ১৮৮৬ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা (৮ ঘণ্টা কর্মদিবস), কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিই এই দিনের মূল প্রতিপাদ্য। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে শ্রমজীবী মানুষের অবদান গুরুত্বপূর্ণ , তাই তাদের অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বক্তারা আরও বলেন, মে দিবস শুধু স্মৃতিচারণের দিন নয়—এটি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, কাজের পরিবেশব্যবস্থা কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা জোরদার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা। সরকারসহ সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও উৎপাদনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ওপর জোর দেন বক্তারা।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাঘাইছড়িতে মে দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শিক্ষার আলোহীন সিতা পাহাড় ; জীর্ণ ঘরে চলে পাঠদান, সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র হাহাকার

নির্যাতনের শিকার ১৪ জন বিএনপি কর্মী, রাজস্থলীতে এখনো দল থেকে বঞ্চিত

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​পাহাড়ের বুক চিরে প্রতিদিন সূর্য ওঠে, আবার পাহাড়ের আড়ালেই তা হারিয়ে যায়। কিন্তু রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের অতি দুর্গম নারানগিরি সিতা পাহাড় এলাকার চিত্রটি ভিন্ন। এখানে শতাধিক মারমা পরিবারের শিশুদের ভাগ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছানোর আগেই যেন সন্ধ্যার আঁধার নেমে আসছে। কাপ্তাই উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্ব হলেও, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া থেকে আজও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এই জনপদ। নেই কোনো গাড়ি যাতায়াত ব্যবস্থা, নেই সুপেয় পানির নূন্যতম নিশ্চয়তা।

উঁচু-নিচু পাহাড় আর বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এই এলাকা থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ‘পায়ে হাঁটা’। যাতায়াতের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পক্ষে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হেঁটে শিক্ষা গ্রহণ করা কার্যত অসম্ভব। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী এবং চরম অসচ্ছল। পেটের দায়ে যুদ্ধ করা এসব মানুষের কাছে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এখন বিলাসিতা মাত্র।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ‘সংগ্রাম’ নামক একটি এনজিও সংস্থা এই দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলটি ছিল এই শিশুদের একমাত্র ভরসা। জেলা পরিষদের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৫ বছর আগে স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জীর্ণ ও পরিত্যক্ত বেড়ার ঘরটি অচল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষকরাও স্কুল বন্ধ হওয়ার পর আর এলাকায় ফেরেননি। বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ায় যখন শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তখন আশার প্রদীপ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুব সমাজ। জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভাঙা স্কুল ঘরটিতেই এলাকার শিক্ষিত তরুণ অংসাচিং মারমা ও তরুণী সাইনুচিং মারমা নিজেদের উদ্যোগে শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো বেতন বা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কেবল শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই অসাধ্য সাধন করছেন তারা।

তাদের স্পষ্ট কথা— “প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়া আমাদের জনপদের উন্নতির কোনো বিকল্প নেই। তাই কষ্ট হলেও আমরা হাল ছাড়িনি।” শিক্ষার অভাবের পাশাপাশি এই এলাকায় বড় সংকট সুপেয় পানি। শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক ছড়া শুকিয়ে গেলে এলাকায় পানির হাহাকার পড়ে যায়। আবার বর্ষাকালে পাহাড় থেকে নেমে আসা ময়লা ও ঘোলা পানি বাধ্য হয়ে পান করতে হয়। এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা।

সিতা পাহাড় এলাকার কার্বারি পাইচিংমং মারমা, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ক্যথোয়াই অং মারমা এবং স্থানীয় ব্যক্তিত্ব সের খান আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার অভাবে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া আমাদের স্বপ্নটা আজ ধ্বংসস্তূপ। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই, আমাদের এই দুর্গম এলাকায় একটি স্থায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং পানীয় জলের সুব্যবস্থা করে এই অবহেলিত মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন।”

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমি অনেকবার ওই এলাকা পরিদর্শনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমি শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

​অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সিতা পাহাড় এলাকাটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে এবং যাতায়াত অত্যন্ত দুর্গম। আমি ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি।” ​পাহাড়ের এই দুর্গম জনপদ কি তবে অন্ধকারেই থেকে যাবে? নাকি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে সিতা পাহাড়ের শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে কোনো নতুন বিদ্যালয়? এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এলাকাবাসী।

×