| ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে ‘পার্টনার’ ফিল্ড কংগ্রেসের উদ্বোধন কৃষিতে উৎপাদন বিপ্লবের আহ্বান

কাপ্তাইয়ে ‘পার্টনার’ ফিল্ড কংগ্রেসের উদ্বোধন কৃষিতে উৎপাদন বিপ্লবের আহ্বান

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে ‘ফিল্ড কংগ্রেস’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আধুনিক ও টেকসই কৃষির রূপান্তরের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাপ্তাই উপজেলা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টারের হলরুমে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ‘Program on Agricultural and Rural Transformation for Nutrition, Entrepreneurship and Resilience in Bangladesh’ (PARTNER) প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং পার্টনার ফিল্ড শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
​রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিল্ড কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কৃষিখাতে প্রকৃত উন্নয়ন ও উৎপাদন বিপ্লব ঘটাতে হলে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকারের স্মার্ট কৃষি গড়ার লক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যাপক সুফল বয়ে আনছে।”

কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বাপ্পা মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. রহমত উল্লাহ
​জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক অরুণ চন্দ্র রায়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হতে পারবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা উদ্যানতত্ত্ববিদ রাকিব জোবায়ের, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিমেল কান্তি দে, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা থোয়াইনু চিং মারমা। কৃষকদের পক্ষ থেকে নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কৃষক আশীষ কুমার তঞ্চঙ্গ্যা
​উদ্বোধনী পর্ব শেষে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের কার্যক্রম ও এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষে সফলতা অর্জন রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের

কাপ্তাইয়ে ‘পার্টনার’ ফিল্ড কংগ্রেসের উদ্বোধন কৃষিতে উৎপাদন বিপ্লবের আহ্বান

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষে সফলতা অর্জন করেছে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। দীর্ঘ গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

জানা গেছে, রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শুরুতে বিষয়টি গবেষকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ সমতল এলাকার তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় এ ফলের চাষ উপযোগী করা সহজ ছিল না। তবে নিরলস গবেষণা, উন্নত পরিচর্যা পদ্ধতি ও উপযোগী জাত নির্বাচন করে গবেষকরা ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে গবেষণা কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক বাগানে উৎপাদিত আলুবোখারা গাছে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক ফল চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে গবেষণা কেন্দ্র। আলুবোখারা চাষ সফল হওয়ায় পাহাড়ি কৃষকদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা (বারি ১) চাষ একসময় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দীর্ঘ গবেষণা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা সফলতা পেয়েছি। এখন পাহাড়ি এলাকার কৃষকরাও এ ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে আলুবোখারা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় বহুমুখী ফল চাষের সম্ভাবনাও আরও বিস্তৃত হবে।

রাশিয়ায় ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন রামগড়ের মেধাবী তরুণ ফারহান

কাপ্তাইয়ে ‘পার্টনার’ ফিল্ড কংগ্রেসের উদ্বোধন কৃষিতে উৎপাদন বিপ্লবের আহ্বান

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার কৃতী সন্তান এসানুল বারী ফারহান রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য মর্যাদাপূর্ণ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষাঙ্গন ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ফারহান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অবস্থিত মস্কো পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এমপিইআই)-এ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। স্কলারশিপের আওতায় তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাসিক ভাতা ও অন্যান্য শিক্ষা-সুবিধা পাবেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির জন্য ইতোমধ্যে তাঁর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বর মাসে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে জানা গেছে।

ফারহান রামগড় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গর্জনতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মাওলানা এমদাদুর রহমান ও আলেমা হাছিনা আক্তারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। ২০০৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী ফারহান শৈশব থেকেই মেধাবী ও অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছিলেন।

তাঁর সেই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ রাশিয়ার অন্যতম স্বনামধন্য প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করেছেন। ফারহানের এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন নিঃসন্দেহে একটি গৌরবজনক ঘটনা। এটি রামগড়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ফারহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় সংকল্পই তাকে এ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। তারা সকলের কাছে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করেছেন, যাতে তিনি সফলভাবে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

রামগড় ৪৩ বিজিবির অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

কাপ্তাইয়ে ‘পার্টনার’ ফিল্ড কংগ্রেসের উদ্বোধন কৃষিতে উৎপাদন বিপ্লবের আহ্বান

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় ৪৩ বিজিবির অভিযানে চট্টগ্রামের ভূজপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক বহনকারী চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গাঁজাভত্তি বস্তা ফেলে ভারতে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টায় রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)-এর আওতাধীন ভূজপুর বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত মেইন পিলার ২২১০-এর নিকট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ দূরে উত্তর আঁধারমানিক এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়। টহলদলের সদস্যরা দেখতে পান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে তিনজন ব্যক্তি কয়েকটি বস্তা নিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা সঙ্গে থাকা তিনটি বস্তা ফেলে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বস্তাগুলোর ভেতর থেকে সাতটি ছোট প্যাকেটে রাখা মোট ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন।

রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

×