| ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

শিক্ষার আলোহীন সিতা পাহাড় ; জীর্ণ ঘরে চলে পাঠদান, সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র হাহাকার

শিক্ষার আলোহীন সিতা পাহাড় ; জীর্ণ ঘরে চলে পাঠদান, সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র হাহাকার

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​পাহাড়ের বুক চিরে প্রতিদিন সূর্য ওঠে, আবার পাহাড়ের আড়ালেই তা হারিয়ে যায়। কিন্তু রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের অতি দুর্গম নারানগিরি সিতা পাহাড় এলাকার চিত্রটি ভিন্ন। এখানে শতাধিক মারমা পরিবারের শিশুদের ভাগ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছানোর আগেই যেন সন্ধ্যার আঁধার নেমে আসছে। কাপ্তাই উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্ব হলেও, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া থেকে আজও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এই জনপদ। নেই কোনো গাড়ি যাতায়াত ব্যবস্থা, নেই সুপেয় পানির নূন্যতম নিশ্চয়তা।

উঁচু-নিচু পাহাড় আর বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এই এলাকা থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ‘পায়ে হাঁটা’। যাতায়াতের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পক্ষে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হেঁটে শিক্ষা গ্রহণ করা কার্যত অসম্ভব। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী এবং চরম অসচ্ছল। পেটের দায়ে যুদ্ধ করা এসব মানুষের কাছে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এখন বিলাসিতা মাত্র।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ‘সংগ্রাম’ নামক একটি এনজিও সংস্থা এই দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলটি ছিল এই শিশুদের একমাত্র ভরসা। জেলা পরিষদের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৫ বছর আগে স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জীর্ণ ও পরিত্যক্ত বেড়ার ঘরটি অচল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষকরাও স্কুল বন্ধ হওয়ার পর আর এলাকায় ফেরেননি। বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ায় যখন শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তখন আশার প্রদীপ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুব সমাজ। জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভাঙা স্কুল ঘরটিতেই এলাকার শিক্ষিত তরুণ অংসাচিং মারমা ও তরুণী সাইনুচিং মারমা নিজেদের উদ্যোগে শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো বেতন বা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কেবল শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই অসাধ্য সাধন করছেন তারা।

তাদের স্পষ্ট কথা— “প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়া আমাদের জনপদের উন্নতির কোনো বিকল্প নেই। তাই কষ্ট হলেও আমরা হাল ছাড়িনি।” শিক্ষার অভাবের পাশাপাশি এই এলাকায় বড় সংকট সুপেয় পানি। শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক ছড়া শুকিয়ে গেলে এলাকায় পানির হাহাকার পড়ে যায়। আবার বর্ষাকালে পাহাড় থেকে নেমে আসা ময়লা ও ঘোলা পানি বাধ্য হয়ে পান করতে হয়। এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা।

সিতা পাহাড় এলাকার কার্বারি পাইচিংমং মারমা, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ক্যথোয়াই অং মারমা এবং স্থানীয় ব্যক্তিত্ব সের খান আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার অভাবে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া আমাদের স্বপ্নটা আজ ধ্বংসস্তূপ। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই, আমাদের এই দুর্গম এলাকায় একটি স্থায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং পানীয় জলের সুব্যবস্থা করে এই অবহেলিত মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন।”

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমি অনেকবার ওই এলাকা পরিদর্শনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমি শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

​অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সিতা পাহাড় এলাকাটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে এবং যাতায়াত অত্যন্ত দুর্গম। আমি ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি।” ​পাহাড়ের এই দুর্গম জনপদ কি তবে অন্ধকারেই থেকে যাবে? নাকি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে সিতা পাহাড়ের শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে কোনো নতুন বিদ্যালয়? এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এলাকাবাসী।

আবারও চট্টগ্রাম ভাসল মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

শিক্ষার আলোহীন সিতা পাহাড় ; জীর্ণ ঘরে চলে পাঠদান, সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র হাহাকার

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের টানা ভারী বৃষ্টিতে’ই আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী।

শুক্রবার (১৯ জুন)২৬খ্রিঃ সকালে হওয়া এই বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
ফলে ছুটি’র দিনেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী পেশাজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টার সময় শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। অল্প সময়ের এ বর্ষণেই চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকটি সড়ক দ্রুত পানির নিচে চলে যায়। সড়কে পানি জমে থাকায় অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ে।
অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা জলাবদ্ধতার সমস্যা ভোগ করছেন। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

রিকশাচালক রাসেল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাইম বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় যানবাহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ সুযোগে কিছু পরিবহনচালক অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার জন্য আলোচিত প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি জমতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালে চলমান উন্নয়নকাজের ফলে ওই এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

তবে আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় সামগ্রিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, শুক্রবার সকাল ৯ঃ০০টা পর্যন্ত নগরীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভারী বর্ষণের কারণেই নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমেছে।
দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনর্খনন ও সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।

আলীকদমে শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে রিজিয়ন কমান্ডারের মতবিনিময়

শিক্ষার আলোহীন সিতা পাহাড় ; জীর্ণ ঘরে চলে পাঠদান, সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র হাহাকার


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।

‎ শনিবার (২০ জুন) আলীকদমের মুরুং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ সভায় পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং মুরুং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

‎সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম।

‎এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

‎সভায় জানানো হয়, বর্তমানে মুরুং কমপ্লেক্সের ছাত্রাবাসে ১২৪ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে আবাসনের সুযোগ দিতে ছাত্রাবাসের ধারণক্ষমতা ২০০ থেকে ২৫০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন রিজিয়ন কমান্ডার।

‎এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত দুইজন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হলে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় কুরুকপাতা ইউনিয়নে নতুন একটি মুরুং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন,“শিক্ষাই পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

‎সভায় বক্তারা মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও জীবনমান উন্নয়নে মুরুং কমপ্লেক্সের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এর অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎বক্তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে আলীকদম জোন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মুরুং কমপ্লেক্স সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষে সফলতা অর্জন রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের

শিক্ষার আলোহীন সিতা পাহাড় ; জীর্ণ ঘরে চলে পাঠদান, সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র হাহাকার

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষে সফলতা অর্জন করেছে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। দীর্ঘ গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

জানা গেছে, রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শুরুতে বিষয়টি গবেষকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ সমতল এলাকার তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় এ ফলের চাষ উপযোগী করা সহজ ছিল না। তবে নিরলস গবেষণা, উন্নত পরিচর্যা পদ্ধতি ও উপযোগী জাত নির্বাচন করে গবেষকরা ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে গবেষণা কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক বাগানে উৎপাদিত আলুবোখারা গাছে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক ফল চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে গবেষণা কেন্দ্র। আলুবোখারা চাষ সফল হওয়ায় পাহাড়ি কৃষকদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা (বারি ১) চাষ একসময় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দীর্ঘ গবেষণা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা সফলতা পেয়েছি। এখন পাহাড়ি এলাকার কৃষকরাও এ ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে আলুবোখারা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় বহুমুখী ফল চাষের সম্ভাবনাও আরও বিস্তৃত হবে।

×