| ৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়ে জুমের গন্ধ, মেঘের বসতি এবং একটি আত্মপরিচয়ের লড়াই

পাহাড়ে জুমের গন্ধ, মেঘের বসতি এবং একটি আত্মপরিচয়ের লড়াই

 

ছন্দ সেন চাকমা :

​ক্যামেরার লেন্সে চোখ রাখলেই প্রথমে যে দৃশ্যটি ভেসে ওঠে, তা হলো—কুয়াশা মোড়ানো পাহাড়ের ঢালে এক কিশোরী জুমের ধান কাটছে, আর দূর থেকে ভেসে আসছে বাঁশির সুর। এই পাহাড়, এই অরণ্য কেবল কিছু ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নয়; এটি একটি জীবন্ত ইতিহাস, একটি যূথবদ্ধ জীবনদর্শন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ক্রিনে চোখ রাখলে সেই পাহাড়ের গায়ে এক ধরনের কৃত্রিম ও বিদ্বেষপূর্ণ কালির দাগ দেখতে পাই। ইতিহাস, নৃ-বিজ্ঞান আর মানবিক বোধকে পাশ কাটিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দাদের ‘বহিরাগত’ প্রমাণ করার এক অন্ধ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একজন ডকুমেন্টারি নির্মাতা ও আলোকচিত্রী হিসেবে যখন আমি পাহাড়ের বুক চিরে ইতিহাসের আলো খুঁজি, তখন শব্দ বেশ ধারী রাম, শ্যাম, যদু,মধু-এর মতো চিন্তকদের লেখনী আমাদের এক পরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

আজ সময় এসেছে রাজনৈতিক বা আবেগঘটিত চশমা সরিয়ে, সাহিত্যের খেরোখাতায় আর ইতিহাসের অমোঘ দলিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ করার।

​১. জুমের ঐতিহ্য ও কার্পাস মহলের আদি ইতিকথা ——-

​ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, সমতলের রাষ্ট্রব্যবস্থা যখন আজকের এই কাঠামোগত রূপ নেয়নি, তখন থেকেই পাহাড়ের ঢালে জীবন ডানা মেলেছিল। পাহাড়ের আদিম কৃষিপদ্ধতি ‘জুম চাষ’ কেবল জীবিকা নয়, এটি পাহাড়ের ১১টি নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও মনস্তত্ত্বের মূল ভিত্তি। মোগল ও ব্রিটিশ আমলের প্রাচীন দলিলে এই অঞ্চলকে অভিহিত করা হয়েছিল ‘কার্পাস মহল’ হিসেবে। তুলা আর জুমের ফসলে সমৃদ্ধ এই জনপদে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলো গড়ে তুলেছিল নিজস্ব সামাজিক ও বিচারিক কাঠামো—যার প্রতীকী রূপ আজও টিকে আছে রাজা বা সার্কেল চিফ প্রথার মাধ্যমে।

​নৃবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্র নামক আধুনিক ধারণার বহু আগেই এই পাহাড়ি সমাজগুলো ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বাধীন। ক্যামেরা হাতে যখন আমি কোনো প্রবীণ জুমচাষির বলিরেখা পড়া মুখের ছবি তুলি, তখন মনে হয়—ঐতিহ্যের এই প্রাচীন স্বাক্ষর কোনো আধুনিক আইন দিয়ে মুছে ফেলা অসম্ভব।

​২. মাইগ্রেশনের কাঁটাতার বনাম মাটির অধিকার —–

​একটি বহুল চর্চিত ও খণ্ডিত যুক্তি হলো—পাহাড়ের মানুষ তো তিব্বত বা মায়ানমার থেকে এসেছে, তবে তারা ‘আদিবাসী’ হয় কী করে?

​নৃবৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করতেই এমন প্রশ্ন তোলা হয়। মানব সভ্যতার ইতিহাস মূলত স্থানান্তরেরই ইতিহাস। পৃথিবীর কোনো অঞ্চলের মানুষই ভূগর্ভ থেকে আচমকা গজিয়ে ওঠেনি। আন্তর্জাতিক আইন (ILO Convention 107 & 169) এবং নৃবিজ্ঞানের স্বীকৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘আদিবাসী’ (Indigenous) নির্ধারণের মূল মাপকাঠি হলো—কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো বা ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম হওয়ার আগে থেকে কারা সেখানে বসবাস করছে।

​১৭৬০ সালে ব্রিটিশরা যখন চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তারও বহু আগে থেকে এই জনপদ পাহাড়িদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে ছিল। চাকমা রাজবংশের ইতিহাস প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো বলে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। ১৮৬০ সালের ‘হিল ট্র্যাক্টস’ জেলা ঘোষণা কিংবা ১৯০০ সালের ‘হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন’ প্রমাণ করে যে, সমতলের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এই জনজীবন ও ভূমি-ব্যবস্থাকে ব্রিটিশ শাসকেরাও বিশেষ মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়েছিল। সুতরাং, আধুনিক বাংলাদেশের সীমানা বা মানচিত্র আঁকার বহু আগেই তারা এই মাটির সন্তান, এই পাহাড়ের ভূমি-পুত্র।

​৩. সাংবিধানিক শব্দের মারপ্যাঁচ ও আত্মপরিচয়ের সংকট ——

​২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে এই জনগোষ্ঠীগুলোকে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, ‘উপজাতি’ বা ‘সম্প্রদায়’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র হয়তো কৌশলী শব্দচয়নে তাদের ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে পাশ কাটিয়ে গেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের নৈতিক ভিত্তি এবং মাটির ইতিহাসকে তো অস্বীকার করা যায় না।

​‘আদিবাসী’ শব্দটি কেবল একটি জাতিগত তকমা নয়; এটি তাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ভূমির অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার এক আন্তর্জাতিক আইনি রক্ষাকবচ। ক্যামেরার ফ্রেমে যখন লুপ্তপ্রায় কোনো ভাষার শেষ গায়কের অবয়ব ধরে রাখি, তখন বুঝি—এই আইনি সুরক্ষার অভাব কীভাবে একটি সংস্কৃতিকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেয়। রাষ্ট্র তাদের যে নামেই ডাকুক, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তাদের আদিবাসিত্বের পক্ষে আজীবন সাক্ষ্য দেবে।

​৪. ভার্চুয়াল জগতের বিষবাষ্প ও আমাদের দায় ——

​বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষদের প্রতি এক ধরনের তীব্র বিদ্বেষ ও অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রবণতা দেখা যায়। না জেনে, না পড়ে কাউকে ‘বিদেশি’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলা কেবল অজ্ঞতা নয়, বরং এক ধরনের বর্ণবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

একটি বৈচিত্র্যময় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে শ্রদ্ধা জানানোই একজন সুনাগরিকের প্রথম পাঠ হওয়া উচিত। গালাগালি বা ট্রোলিং করে কোনো জাতির হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাসকে ফেসবুকের পাতা থেকে মুছে ফেলা যায় না। এখানে প্রয়োজন পারিবারিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক উদারতা এবং সঠিক ইতিহাস চর্চা।

সহাবস্থানের সুর :

​পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড বা পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্র নয়; এটি নান্দনিক সংস্কৃতির এক জীবন্ত জাদুঘর। পাহাড়, নদী, ঝরনা আর জুমের প্রতিটি ছত্রে মিশে আছে পাহাড়ের মানুষের কান্না, হাসির আর লড়াইয়ের গল্প। ​নিজের দেশের ভেতরের এই বর্ণিল বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করা মানে নিজের দেশের ইতিহাসকেই খণ্ডিত করা। প্রকৃত দেশপ্রেম ঘৃণা ছড়ানোয় নয়, বরং বৈচিত্র্যকে উদযাপনের মধ্যে নিহিত থাকে। পাহাড় ও সমতলের মাঝে দূরত্বের যে দেওয়াল তোলার চেষ্টা চলছে, তা ভাঙতে হবে পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং পরম সহিষ্ণুতার মাধ্যমে। আদিবাসীদের অধিকার ও পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখেই কেবল আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। লেন্সের ওপার থেকে আমি সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখি।

 

​(লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর রীতিনীতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশ নিয়ে কাজ করা একজন ভিডিও ডকুমেন্টারি নির্মাতা এবং ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার।)

রাঙামাটির সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়স উদ্দিন গ্রেপ্তার

পাহাড়ে জুমের গন্ধ, মেঘের বসতি এবং একটি আত্মপরিচয়ের লড়াই
সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :
রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃষকেতু চাকমা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দু’জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতয়ালী থানার মামলা জিআর ০৯/২৫ এ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) বেলা ২টায় শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকা থেকে এ দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। পরে সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিকেল ৪টায় কোতয়ালী থানা থেকে জেলা আদালতে দু’জনকে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত দু’জনকেই কারাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, দুপুরে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানাতে আদালতে আসেন বৃষকেতু চাকমা ও গিয়াস উদ্দিন। পরে আদালত এলাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা দু’জনকে।
রাঙামাটির কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, কোতয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকে কোতয়ালী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা জিআর ০৯/২৫ এ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

পাহাড়ে জুমের গন্ধ, মেঘের বসতি এবং একটি আত্মপরিচয়ের লড়াই

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা:

খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে দীঘিনালা মাহেন্দ্র সমিতি।

সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার ৫ জুলাই থেকে দীঘিনালা হইতে বাঘাইহাট বাজার মাহিন্দ্র যানবাহনের ভাড়া ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীঘিনালা মাহিন্দ্র সমিতির সাধারন সম্পাদক মো; রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় যাত্রীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভাড়া কমানোর ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তারা এ মানবিক উদ্যোগের জন্য মাহিন্দ্র সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাহিন্দ্র সমিতির লাইমেন্স বাবুধন চাকমা বলেন জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সমিতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

রুমার দুর্গম চারটি স্কুলে ১১২ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করল রুমা জোন (৩৬ বীর)

পাহাড়ে জুমের গন্ধ, মেঘের বসতি এবং একটি আত্মপরিচয়ের লড়াই

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করেছে রুমা জোন (৩৬ বীর)।

গত (৪ জুলাই) রোজ শনিবার “সবার জন্য সেনাবাহিনী” এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি-এর নির্দেশনায় এবং মো: নেওয়াজ মোর্শেদ -এর তত্ত্বাবধানে রাইংখিয়ং পুকুর আর্মি ক্যাম্পের আওতায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সহায়তা পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, চারটি বিদ্যালয়ের মোট ১১২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে স্কুল ড্রেস ও একটি করে ছাতা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ জন, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষার্থী এ সহায়তা পেয়েছে।

এ সময় স্থানীয় কারবারি, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা প্রসার ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এ ধরনের মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও পোশাক পেয়ে উপকৃত হবে।

এদিকে সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের পাশে থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা সর্বদাই প্রশংসনীয়।

রুমা জোন কর্তৃপক্ষ জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

×