| ১২ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

রাঙামাটির বাজারে ফলের দাম নিয়ে কৃষকের হাহাকার : পুঁজিতেই টান

রাঙামাটির বাজারে ফলের দাম নিয়ে কৃষকের হাহাকার : পুঁজিতেই টান

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙামাটি :

​পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বনরুপা সমতা ঘাটে এখন ভরা মৌসুমের ফলের সমাহার। তবে এই ভরা মৌসুমেও হাসি নেই কৃষকদের মুখে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে কৃষকদের এখন চরম দুর্দিন। বাজারের বেহাল অবস্থায় আমের দরপতন আর কাঁঠাল-লিচুর নজিরবিহীন কম দামে পাহাড়ের প্রান্তিক চাষিদের পুঁজি তোলা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে।

​বনরুপা সমতা ঘাট ঘুরে দেখা যায়, নৌকা ও ট্রলারে করে পাহাড় থেকে আনা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে আম, কাঁঠাল ও আনারস। I সমতা ঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা হয়েছে আনারস ও কাঁঠালের বড় বড় চালান। এছাড়া ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হরেক জাতের আম দেখা গেলেও, এই ফলগুলোর পেছনে যে শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় বিক্রয়মূল্য অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি শত কাঁঠাল ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা এবং প্রতি শত লিচু ২০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।

​এমন পরিস্থিতির শিকার রাঙামাটির প্রান্তিক চাষিরা, তারা জানান, হুট করে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে বাগানের ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার ওপর বাজারের এই দরপতন তাদের হতাশ করে তুলেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান বাজারে যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূল পুঁজিটাই উঠবে না।

​বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি এবং ফলের দ্রুত পচনশীলতা তাদের বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, ‘পরিবহন বা ক্যারিং খরচ অনেক বেশি। আবার ফল খুব দ্রুত পচনশীল, ফলে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। যে কোনো সময় ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পাইকাররাও ফলের দাম কম বলছেন।’

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সংরক্ষণের হিমাগার না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন ও সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না করলে আগামীতে পাহাড়ের ফল চাষিরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।

রুমা থানাপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে এলাকাবাসী

রাঙামাটির বাজারে ফলের দাম নিয়ে কৃষকের হাহাকার : পুঁজিতেই টান

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার থানাপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (রাত) আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগুনের তীব্রতায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি রুমা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রচলিত ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রথাগত নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে রাঙ্গামাটিতে হেডম্যান সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাঙামাটির বাজারে ফলের দাম নিয়ে কৃষকের হাহাকার : পুঁজিতেই টান

 

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙ্গামাটি :

‘প্রচলিত ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রথাগত নেতৃত্বের ভূমিকা ও করণীয়: পার্বত্য চুক্তি ও বর্তমান অবস্থা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্ক সম্মেলন-২০২৬’।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং পার্বত্য চুক্তির বর্তমান প্রেক্ষাপটে হেডম্যানদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীসহ স্থানীয় প্রথাগত নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের আয়োজনে এবং এএলআরডি (ALRD)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি অধিকার ও সুশাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।

নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু।

রাঙামাটির বাজারে ফলের দাম নিয়ে কৃষকের হাহাকার : পুঁজিতেই টান

মোঃ আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান সদর হাসপাতালের সম্প্রসারিত ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বান্দরবান সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকরা হলেন মো. সাকিব (২০) ও কামরুল হাসান (৩৫)। তারা ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করছিলেন সাকিব ও কামরুল হাসান। কাজ করার একপর্যায়ে ভবনের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক মুল তারের সঙ্গে একটি লোহার অ্যাঙ্গেলের সংস্পর্শ হলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়, এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

পরে খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেন।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন,বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজন শ্রমিক নেতা হয়েছে, তারা কাজ কারো সময় ১১ হাজার লাইন বিদ্যুতের খুটির সাথে আর্থিং হয়ে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়।

×