রাঙামাটির বাজারে ফলের দাম নিয়ে কৃষকের হাহাকার : পুঁজিতেই টান
ছন্দ সেন চাকমা, রাঙামাটি :
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বনরুপা সমতা ঘাটে এখন ভরা মৌসুমের ফলের সমাহার। তবে এই ভরা মৌসুমেও হাসি নেই কৃষকদের মুখে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে কৃষকদের এখন চরম দুর্দিন। বাজারের বেহাল অবস্থায় আমের দরপতন আর কাঁঠাল-লিচুর নজিরবিহীন কম দামে পাহাড়ের প্রান্তিক চাষিদের পুঁজি তোলা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে।

বনরুপা সমতা ঘাট ঘুরে দেখা যায়, নৌকা ও ট্রলারে করে পাহাড় থেকে আনা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে আম, কাঁঠাল ও আনারস। I সমতা ঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা হয়েছে আনারস ও কাঁঠালের বড় বড় চালান। এছাড়া ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হরেক জাতের আম দেখা গেলেও, এই ফলগুলোর পেছনে যে শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় বিক্রয়মূল্য অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি শত কাঁঠাল ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা এবং প্রতি শত লিচু ২০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।
এমন পরিস্থিতির শিকার রাঙামাটির প্রান্তিক চাষিরা, তারা জানান, হুট করে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে বাগানের ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার ওপর বাজারের এই দরপতন তাদের হতাশ করে তুলেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান বাজারে যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূল পুঁজিটাই উঠবে না।

বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি এবং ফলের দ্রুত পচনশীলতা তাদের বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, ‘পরিবহন বা ক্যারিং খরচ অনেক বেশি। আবার ফল খুব দ্রুত পচনশীল, ফলে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। যে কোনো সময় ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পাইকাররাও ফলের দাম কম বলছেন।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সংরক্ষণের হিমাগার না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন ও সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না করলে আগামীতে পাহাড়ের ফল চাষিরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।


| ১২ জুন ২০২৬









