শিরোনাম:

পুরান বছরের সমস্ত হতাশা, দুঃখ, গ্লানিকে ভুলে গিয়ে নুতন আশা আনন্দ উদ্দীপনায় “বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ” কে বরণ করলো পার্বত্যবাসী

পুরান বছরের সমস্ত হতাশা, দুঃখ, গ্লানিকে ভুলে গিয়ে নুতন আশা আনন্দ উদ্দীপনায় “বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ” কে বরণ করলো পার্বত্যবাসী

 

অরূপ মুৎসুদ্দি, বিশেষ প্রতিবেদক :

বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে আজ ১৫ এপ্রিল বুধবার বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন পরিষদ, মাঝিরবস্তি, তবলছড়ি উদ্যোগে সকালে বণার্ঢ্য শোভা যাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং শোভাযাত্রা শেষে শাহ্ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পান্তা ভাত উৎসব’র মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ বাংলাকে বরণ করা হয়।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন পরিষদ, মাঝিরবস্তি, তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি আবাহন বাংলার এ ঐতিহ্যবাহি আয়োজন করেন। ৩৪তম নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রা এবং পান্তাভাত উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, বৈশাখী শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সাধারন সম্পাদক ও বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা এ্যাড, মামুনুর রশীদ।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব দল, রাঙ্গামাটি জেলার সাধারন সম্পাদক ও বাংলা বর্ষ বরণ উদযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্টপোষক আবু শাদাৎ মোঃ সায়েম, জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ হাবীব আজম এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খীষ্টান ঐক্য পরিষদ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা সভাপতি শিক্ষক অরুপ কুমার মুৎসুদ্দী।

বৈশাখী শোভাযাত্রাটি সকাল সাড়ে ৯ ঘটিকায় তবলছড়ি মিনিষ্ট্রী ক্লাব প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহ্ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা শেষে সকলে বাংলাদেশ ও বাঙালিদের ঐতিহ্য পান্তা ভাত উৎসবে অংশ নেয়।

মৈত্রী পানিবর্ষণে রঙিন কাপ্তাই চিৎমরমে জলকেলি উৎসবে মেতেছেন তরুণ-তরুণীরা

পুরান বছরের সমস্ত হতাশা, দুঃখ, গ্লানিকে ভুলে গিয়ে নুতন আশা আনন্দ উদ্দীপনায় “বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ” কে বরণ করলো পার্বত্যবাসী

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র কাপ্তাইয়ের চিৎমরম এখন উৎসবের জনপদ। মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই রিলং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসবের মৈত্রী পানিবর্ষণে ধুয়ে মুছে গেছে পুরনো বছরের সব গ্লানি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান (এমপি)।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই আমাদের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ‘সাংগ্রাই’ এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, এটি পাহাড়ের সকল জাতি-গোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।”

​তিনি আরও বলেন, এই উৎসবগুলো আমাদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ, আজকের এই বিশাল মিলনমেলাই তার প্রমাণ। তবে পাহাড়ের অনেক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে, যা রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে।

মন্ত্রী কর্তৃক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় উৎসবের মূল আকর্ষণ ‘জলকেলি’। এ বছর উৎসবের বিশেষত্ব ছিল তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মোট ১০৮টি দল এই জলকেলি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি দলে ১৮ জন তরুণ এবং ১৮ জন তরুণী একে অপরের গায়ে পবিত্র পানি ছিটিয়ে মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাদ্যের তালে তালে তরুণ-তরুণীদের এই পানিবর্ষণ পুরো এলাকায় এক নান্দনিক আবহ তৈরি করে।

উৎসবের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শত শত নর-নারী একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন। র‍্যালিটি এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উৎসবের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে গত ১৩ এপ্রিল থেকেই চলছে বৈশাখী মেলা। বিহারে বুদ্ধ পূজা, বুদ্ধ মূর্তি স্নান ও বয়স্কদের স্নান করানোর মাধ্যমে ধর্মীয় আচারগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।

সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াইমং মারমার সভাপতিত্বে এবং সানুচিং মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টু ও সাইফুল ইসলাম পনির, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রবীন্দ্র চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেনসহ সামরিক-বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

​উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ের বর্ষবরণ উৎসবের ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হওয়া মারমাদের এই জলকেলি উৎসব কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পল্লীতে আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। উৎসবকে ঘিরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে বৃহত্তর জলকেলি উৎসবের মধ্য দিয়ে এবারের পাহাড়ের বর্ষবরণ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

রুমায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন: পাহাড়ী-বাঙালির মিলন মেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ

পুরান বছরের সমস্ত হতাশা, দুঃখ, গ্লানিকে ভুলে গিয়ে নুতন আশা আনন্দ উদ্দীপনায় “বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ” কে বরণ করলো পার্বত্যবাসী

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

১৪৩৩ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাহাড়ী-বাঙালী সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

গতকাল (১৪ এপ্রিল) নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে পাহাড়ী-বাঙালী, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে শোভাযাত্রাটি সম্পন্ন হয়।

সকাল ১০টায় ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী। এসময় উপস্থিত ছিলেন রুমা থানার অফিসার ইনচার্জ, চারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রুমা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কমান্ডার, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, অধ্যক্ষ রুমা সরকারি কলেজ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ক্রেডিট সুপারভাইজার/মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের
কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

লোকজ মেলায় স্থানীয় সংস্কৃতি, হস্তশিল্প এবং পাহাড়ী-বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। পরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় নৃত্য, গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি ও পাহাড়ী সংস্কৃতির সমন্বয় তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বলেন, আমি সম্প্রতি রুমা উপজেলায় যোগদান করেছি। এটি আমার এখানে প্রথম অনুষ্ঠান। আমি নতুন, আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রুমা উপজেলার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আপনারা আমার পাশে থাকবেন, আমিও আপনাদের পাশে থাকবো। তিনি আরও জানান, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনই তাদের মূল লক্ষ্য।

স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।

চিৎমরম সাংগ্রাইয়ের রঙে রঙিন পাহাড় ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলায় দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়

পুরান বছরের সমস্ত হতাশা, দুঃখ, গ্লানিকে ভুলে গিয়ে নুতন আশা আনন্দ উদ্দীপনায় “বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ” কে বরণ করলো পার্বত্যবাসী

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র রঙে এখন রঙিন পাহাড়। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলা। মারমা সংস্কৃতির কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই এই বিশেষ আয়োজন। ​

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে কাপ্তাইয়ের বুদ্ধ বিহার সংলগ্ন মাঠে এই খেলার আয়োজন করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, রঙিন পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মারমা যুবকদের সাহসিকতা ও শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত এই হা-ডু-ডু খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ দর্শক সমবেত হন। মাঠের চারপাশে দর্শকদের করতালিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাংগ্রাই মূলত মারমা সম্প্রদায়ের নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব। জল কেলির (পানি খেলা) পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা এই উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আয়োজক কমিটির আহবায়ক উথোয়াইমং মারমা পক্ষ থেকে জানানো হয়, ​”আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। সাংগ্রাইয়ের এই শুভক্ষণে হাডুডু খেলার মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন আনন্দ করছি, অন্যদিকে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।” চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলা উপজেলার বিভিন্ন পাড়া ও গ্রাম থেকে আসা একাধিক দল অংশগ্রহণ করে। দম নেওয়া আর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছোঁয়ার এই লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। হা-ডু-ডু ছাড়াও এদিন হাড়ি ভাঙা, রশি টানাটানি, লাটিম এবং ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলার আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

​উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের আয়োজন কেবল মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পাহাড়ের সকল জাতিসত্তার মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে। সাংগ্রাইয়ের এই আনন্দ যেন সারা বছর পাহাড়ে শান্তি ও সংহতির বার্তা বয়ে আনে। আজ সন্ধ্যায় বুদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য ‘সাংগ্রাই র্যালি’। এরপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জল কেলি’ বা মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব। ​দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একুস্টিক ব্যান্ড শো, লটারি এবং ঐতিহ্যবাহী যাত্রা পালার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এরপর আগামী কয়েকদিন পাড়ায় পাড়ায় চলবে মৈত্রী পানিবর্ষণ ও মারমা সংস্কৃতির নানা আয়োজন।

×