| ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

আশ্রমপাড়ার কাঠের সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী

আশ্রমপাড়ার কাঠের সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ২নং রুমা সদর ইউনিয়নের আশ্রমপাড়া এলাকায় উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নির্মিত কাঠের সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর বিভিন্ন অংশের কাঠ পচে যাওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পাড়ার বাসিন্দা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রমপাড়া মরা ঝিরির ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটির বেশ কয়েকটি তক্তা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সেতুর ওপরিভাগ অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় “আশ্রমপাড়া মরা ঝিরিতে কাঠের সেতু নির্মাণ ও সেতুর দুই পাশে আরসিসি সিঁড়ি নির্মাণ” প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ২নং রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা। ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য মো. মঈন উদ্দীন এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ২নং রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদ।

পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কয়েকদিন আগে এক শিক্ষার্থী পাশের এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় সেতুর পচা তক্তায় পা পিছলে প্রায় ৩০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। এরপরও সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুলে ও বাজারে যাতায়াত করি। সেতুর কাঠগুলো পচে ঝরে পড়ছে। খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত সেতুটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।

আশ্রমপাড়া কারবারি উবাসিং মারমা বলেন, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে কাঠগুলো আরও নরম হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। অতীতে একজন শিক্ষার্থী পড়ে আহত হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেতুটি সংস্কার করা জরুরি।

স্থানীয়রা জানান, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ বাজারের পণ্য, কৃষিপণ্য ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহন করেন। ফলে সেতুটি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে ২নং রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা মুঠোফোনে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। উন্নয়ন তহবিল থেকে কাজটি করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু অডিট শেষ না হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তবে জুন মাসের অর্থবছরের তোলট্যাক্স বরাদ্দ থেকে অর্থ পাওয়া গেলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে, দ্রুত সংস্কার না করা হলে সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আশ্রমপাড়ার বাসিন্দারা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রামগড় ৪৩ বিজিবির অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

আশ্রমপাড়ার কাঠের সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় ৪৩ বিজিবির অভিযানে চট্টগ্রামের ভূজপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক বহনকারী চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গাঁজাভত্তি বস্তা ফেলে ভারতে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টায় রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)-এর আওতাধীন ভূজপুর বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত মেইন পিলার ২২১০-এর নিকট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ দূরে উত্তর আঁধারমানিক এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়। টহলদলের সদস্যরা দেখতে পান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে তিনজন ব্যক্তি কয়েকটি বস্তা নিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা সঙ্গে থাকা তিনটি বস্তা ফেলে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বস্তাগুলোর ভেতর থেকে সাতটি ছোট প্যাকেটে রাখা মোট ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন।

রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জমকালো আয়োজনে দীঘিনালায় জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

আশ্রমপাড়ার কাঠের সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দীঘিনালায় জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার ১৯ জুন বিকেলে উপজেলার মিনি স্টডিয়াম খেলার মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেলুন উরিয়ে শুভ উদ্বোধন করেন দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেপ্টেন্যাল কর্ণেল মো: আল- আমিন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিল পারভেজ, ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা ও ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা (জ্ঞান) উপস্থিত ছিলেন।

খেলা শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে নলেস চাকমা বলেন, যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টুর্নামেন্টে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ৬টি দল অংশ গ্রহন করেছে। প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে দুই শক্তিশালী দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। খেলার শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে। মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ এবং দর্শকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করতে সহায়ক হবে। খেলায় ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদকে ৪ শুন্য গোলে পরাজিত করে লাভ করে ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদ একাদশ।

কাপ্তাইয়ে ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

আশ্রমপাড়ার কাঠের সেতু মৃত্যুফাঁদে পরিণত, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-গ্রামবাসী

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

অনাথ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আশ্রয়দান ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক সেবায় এক অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে ‘পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন’। আর্তমানবতার সেবায় ব্রত এই প্রতিষ্ঠানটি এবার কাপ্তাইয়ের ১০০টি হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

​শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টায় কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ভাইবোনছড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কাপ্তাই হ্রদের মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সংসার চালানো যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই তাদের সংকটময় পরিস্থিতির বিষয়টি পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের পরিচালনা পর্ষদের নজরে আসে। অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এই ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

দেশি ও বিদেশি দাতা সংস্থার অনুদান সংগ্রহ করে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের অধ্যক্ষ ও সভাপতি ভদন্ত দেব তিষ্য ভিক্ষুর নেতৃত্বে এই মানবিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়। ত্রাণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ১ লিটার সরিষার তেল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ৫০০ গ্রাম লবণ, বড় এক প্যাকেট নুডলস এবং একটি করে সাবান প্রদান করা হয়।

​উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবু সুজয় বিকাশ চাকমা, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের অর্থ সম্পাদক বুদ্ধ ধন চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুখ ময় তঞ্চঙ্গ্যা, অত্র এলাকার গ্রাম প্রধান (কার্বারী) গান্ধি লাল চাকমা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন পালবার লিং সেন্টারের একদল নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক।

ত্রাণ বিতরণ শেষে আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোই এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও মানবিক এ ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

×