| ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাই সেনা জোনের বিশেষ উদ্যোগ: প্লাস্টিক বর্জ্য ময়লা অপসারণ অভিযান পরিচালিত কার্য্যক্রম

কাপ্তাই সেনা জোনের বিশেষ উদ্যোগ: প্লাস্টিক বর্জ্য ময়লা অপসারণ অভিযান পরিচালিত কার্য্যক্রম

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

রাঙামাটির জেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ সৌন্দর্যময় সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং সকলকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে একটি বিশেষ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) কাপ্তাই জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অভিযানের আওতায় কাপ্তাই আর্মি ক্যাম্প এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ এবং আশপাশের জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল ও অন্যান্য পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য সংগ্রহ ও ময়লা আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। এ অভিযান চলাকালে সেনাসদস্যরা পরিবেশ সংরক্ষণে প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতনতামূলক করেন এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশ দূষণ হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

কাপ্তাই জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী সপ্তাহে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকা, পিডিবি এলাকা এবং বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকায় অনুরূপ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে জানান।

ছবি ক্যাপশন : পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযানে অংশগ্রহণ করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

রামগড় ৪৩ বিজিবির অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

কাপ্তাই সেনা জোনের বিশেষ উদ্যোগ: প্লাস্টিক বর্জ্য ময়লা অপসারণ অভিযান পরিচালিত কার্য্যক্রম

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় ৪৩ বিজিবির অভিযানে চট্টগ্রামের ভূজপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক বহনকারী চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গাঁজাভত্তি বস্তা ফেলে ভারতে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টায় রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)-এর আওতাধীন ভূজপুর বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত মেইন পিলার ২২১০-এর নিকট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ দূরে উত্তর আঁধারমানিক এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়। টহলদলের সদস্যরা দেখতে পান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে তিনজন ব্যক্তি কয়েকটি বস্তা নিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা সঙ্গে থাকা তিনটি বস্তা ফেলে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বস্তাগুলোর ভেতর থেকে সাতটি ছোট প্যাকেটে রাখা মোট ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন।

রামগড় ৪৩ বিজিবির জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সীমান্ত সুরক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জমকালো আয়োজনে দীঘিনালায় জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

কাপ্তাই সেনা জোনের বিশেষ উদ্যোগ: প্লাস্টিক বর্জ্য ময়লা অপসারণ অভিযান পরিচালিত কার্য্যক্রম

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দীঘিনালায় জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার ১৯ জুন বিকেলে উপজেলার মিনি স্টডিয়াম খেলার মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেলুন উরিয়ে শুভ উদ্বোধন করেন দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেপ্টেন্যাল কর্ণেল মো: আল- আমিন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিল পারভেজ, ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা ও ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা (জ্ঞান) উপস্থিত ছিলেন।

খেলা শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে নলেস চাকমা বলেন, যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টুর্নামেন্টে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ৬টি দল অংশ গ্রহন করেছে। প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে দুই শক্তিশালী দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। খেলার শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে। মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ এবং দর্শকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করতে সহায়ক হবে। খেলায় ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদকে ৪ শুন্য গোলে পরাজিত করে লাভ করে ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদ একাদশ।

কাপ্তাইয়ে ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

কাপ্তাই সেনা জোনের বিশেষ উদ্যোগ: প্লাস্টিক বর্জ্য ময়লা অপসারণ অভিযান পরিচালিত কার্য্যক্রম

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

অনাথ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আশ্রয়দান ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক সেবায় এক অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে ‘পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন’। আর্তমানবতার সেবায় ব্রত এই প্রতিষ্ঠানটি এবার কাপ্তাইয়ের ১০০টি হতদরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

​শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টায় কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ভাইবোনছড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কাপ্তাই হ্রদের মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সংসার চালানো যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই তাদের সংকটময় পরিস্থিতির বিষয়টি পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের পরিচালনা পর্ষদের নজরে আসে। অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এই ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

দেশি ও বিদেশি দাতা সংস্থার অনুদান সংগ্রহ করে পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের অধ্যক্ষ ও সভাপতি ভদন্ত দেব তিষ্য ভিক্ষুর নেতৃত্বে এই মানবিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়। ত্রাণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ১ লিটার সরিষার তেল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ৫০০ গ্রাম লবণ, বড় এক প্যাকেট নুডলস এবং একটি করে সাবান প্রদান করা হয়।

​উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবু সুজয় বিকাশ চাকমা, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের অর্থ সম্পাদক বুদ্ধ ধন চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুখ ময় তঞ্চঙ্গ্যা, অত্র এলাকার গ্রাম প্রধান (কার্বারী) গান্ধি লাল চাকমা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন পালবার লিং সেন্টারের একদল নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক।

ত্রাণ বিতরণ শেষে আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোই এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও মানবিক এ ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

×