বিলাইছড়িতে বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা
সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ
রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ত্রি-স্মৃতি বিজরিত বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শুত্রুবার (১ মে) সকালে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখা এবং বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ -এর আয়োজনে বাজার প্রাঙ্গণ হতে উপজেলা হয়ে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পরে ধূপ্যাচর ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে এসে সমাপ্ত হয়। এর পরে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি আর্য্যলঙ্কার মহাথের, সাধারণ সম্পাদক বিপুল জ্যোতি মহাথের, উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শাক্যপ্রিয় ভিক্ষু, সদস্য সচিব তেজবর্ণ ভিক্ষু, কুতুবদিয়া সদ্ধর্মোদয় বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ চন্দ্রকীর্তি ভিক্ষুসহ অন্যান্য ভিক্ষু সংঘ। দায়ক-দায়িকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অমৃতসেন তঞ্চঙ্গ্যা ও উৎপলা চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাথোয়াই মার্মা বাবুলাল তঞ্চঙ্গ্য, স্বপ্না তঞ্চঙ্গ্যা, বিশুপুরী তঞ্চঙ্গ্যা, দয়া রঞ্জন মেম্বার, থুইপ্রু কার্বারী, আরতি চাকমা, স্নেহ কুমার চাকমা, স্নেহ বালা চাকমা, সইনু মাষ্টার, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, চন্দ্রাদেবী তঞ্চঙ্গ্যা, রুপম চাকমা ও সুমতি রঞ্জন চাকমা, দীলিপ তঞ্চঙ্গ্যা, নিরুপন তঞ্চঙ্গ্যা, বীথিময় তঞ্চঙ্গ্যা।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বৌদ্ধ ভিক্ষু, দায়ক-দায়িকা সহ বিভিন্ন বয়সীর নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর অংশ নেয়। আজকের এই দিনে ভগবান বৌদ্ধ পৃথিবীতে জন্ম নেন, বৌদ্ধত্ত্ব লাভ করেন এবং আবার একই দিনটিতে নির্বান লাভ করেন। তাই ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত আজকের দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ দিন।
এছাড়াও তিনদিন ব্যাপী (বৃহস্পতি, শুক্র, শনি) অনুষ্ঠানে বাজার সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার সহ উপজেলা প্রায় ৬০টি বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা নানা আয়োজন পালন কর। তাই এ দিনটি উপলক্ষে বৌদ্ধরা ভগবান বৌদ্ধের উদ্দেশ্যে ভক্তরা বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমায় উপাসক-উপাসিকা ও পূণ্যার্থীরা বুদ্ধপূজা, পিন্ডদান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধ মূর্তিদান, কেক কাটেন। এরপরে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। গৌতম বুদ্ধে অহিংসা বানী প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ফিরবে, অভার, অসুখ দূর হবে, আয়-উন্নতি বাড়বে এমন প্রত্যাশা সবার।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সহায়তা করেন উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি, সমিতি-কমিটি ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। নিরাপত্তায় দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ বিলাইছড়ি থানা।


















