প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪ নম্বর গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুইফ পাড়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের একটি সিসি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য (চাল) বরাদ্দের বিপরীতে বর্তমান ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রোর নামে “রুইফ পাড়া হতে ঝিড়ি যাওয়ার রাস্তা সিসি রাস্তা নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য মোট ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৪ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় কোনো ধরনের নির্মাণকাজের অস্তিত্ব নেই। সেখানে দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি গাছের সাঁকো এবং কাঁচা পাহাড়ি রাস্তা ছাড়া উন্নয়নকাজের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, পাড়ার মানুষ এই পথ ব্যবহার করে ঝিড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করেন। ঝিড়িতে পৌঁছানোর আগে একটি ছোট গাছের সাঁকো পার হতে হয়, যা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় এটি এখন “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ওই সাঁকো থেকে পড়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া পানি আনতে যাওয়া বৃদ্ধ নারীরাও প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এখন সমাজের নেতা থেকে শুরু করে অনেক জনপ্রতিনিধির ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। প্রকল্পের নামে সরকারি অফিসে কাগজপত্র দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে কাজ হয় না। অনেক সময় প্রকল্পের বরাদ্দের সুবিধাও সাধারণ মানুষ জানতে পারে না।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রো বলেন, আমার নামে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে শুনে আমি রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) সহকারী জিপঙ্করের সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে থুইসাইঅং মারমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, থুইসাইঅং মারমার সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানান, প্রকল্পের টাকা আমাকে দেওয়া হবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে সংসদ সদস্যের রুমা সফর এবং সাংগ্রাই উৎসবে অনেক ব্যয় হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঙাংরাও ম্রো বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক করেছি। আমি সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি জানাবো। কারণ এমপি মহোদয় তো মনে করবেন আমি প্রকল্পটি পেয়েছি। তিনি কাজ দেখতে এলে আমি কী জবাব দেব?
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য থুইসাইঅং মারমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার সহকর্মী বিপ্লব মারমা বলেন, ২৫ জুন কাজ শুরু করা হবে বলে কথা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার ঙাংরাও ম্রো জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ কেউ কাজ শুরু করতে আসেননি।
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাউছার আলী বলেন, প্রকল্পটির জন্য মোট ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হয়েছে, যাতে কাজ শুরু করা যায়। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সমাপ্তির ছবি ও প্রতিবেদন জমা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাকি ২ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হবে। নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না হলে অবশিষ্ট বরাদ্দ প্রদান করা হবে না এবং তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হলে রুইফ পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং নিরাপদে চলাচল ও পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

| ২৫ জুন ২০২৬












অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।