পাহাড়ি মাটিতে লটকনের জয়যাত্রা, রামগড়ের গবেষণায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা
সাইফুল ইসলাম, রামগড় :
খাগড়াছড়ির রামগড়ে পাহাড়ি মাটিতে লটকন চাষ নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণায় সফলতা অর্জন করেছেন পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। গবেষণার এ সাফল্য পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সমতল অঞ্চলে লটকন চাষ জনপ্রিয় হলেও পাহাড়ি এলাকায় এ ফলের উপযোগিতা নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে কয়েক বছর আগে রামগড়ের পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র পাহাড়ি মাটিতে লটকন চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। গবেষণার অংশ হিসেবে কেন্দ্রের বাগানে পরীক্ষামূলকভাবে বারি ১, এর কয়েকটি লটকন গাছ রোপণ করা হয় এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরিচর্যা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে গাছগুলোর বৃদ্ধি, অভিযোজন ক্ষমতা এবং ফলন পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণার শুরুতে পাহাড়ি মাটি ও আবহাওয়ায় লটকন গাছের অভিযোজন এবং ফলন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ধীরে ধীরে গাছগুলো স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। কয়েক বছরের পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের পর গাছগুলোতে আশানুরূপ ফলন দেখা দিতে শুরু করে। বর্তমানে গবেষণা কেন্দ্রের বাগানে থাকা লটকন গাছগুলোতে সন্তোষজনক ফলন পাওয়া যাচ্ছে, যা পাহাড়ি এলাকায় এ ফলের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এমদাদুল হক বলেন, “পাহাড়ি মাটিতে লটকন চাষ নিয়ে শুরুতে আমরা কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম। কারণ এ অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু গাছগুলোর জন্য কতটা উপযোগী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে আমাদের বৈজ্ঞানিক দলের দীর্ঘ গবেষণা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার ফলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। বর্তমানে গাছগুলোতে ভালো ফলন হচ্ছে, যা পাহাড়ি এলাকায় লটকন চাষের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে লটকন চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষকদের নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি হবে এবং পাহাড়ি এলাকায় অর্থকরী ফল চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
রামগড় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এস,কে, এম – গোলাম সাকলাইন বলেন লটকন একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফল। পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক ফল উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং কৃষির বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে,তিনি আরো জানান কৃষক,কে উদ্বুদ্ধ করতে ইতিমধ্যে কৃষি অফিস থেকে লটকন চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে।

| ৭ জুলাই ২০২৬

















