থানচিতে দুর্গম দুই ইউনিয়ন– সড়ক নেই, নৌপথই ভরসা
চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়ন— যেখানে পৌঁছানোই এক ধরনের অভিযাত্রা। নৌকা কিংবা পাহাড়ি পথ ছাড়া বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও আধুনিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য যেন এখানকার মানুষের ভাগ্যে নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক অনিয়মিত, স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, আর উপজেলা সদরে সাথে যোগাযোগের এখনো সাঙ্গু নৌপথেই ভরসা করতে হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের ভাষ্যমতে, নৌকা ও পায়ে হাঁটা ছাড়া বিকল্প না থাকায় যাতায়াত এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। যোগাযোগ, সড়ক ও বিদ্যুৎ সুবিধা এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা। পুরোপুরি সৌর বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করায় মেঘলা দিনে চার্জ না হলে রাত কাটে অন্ধকারে। ঝরনার পানি—বর্ষায় বেশি, শুষ্ক মৌসুমে কম—তাই পানির সংকটও নিত্যসঙ্গী। স্কুল-কলেজেও যেতে শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।
স্থানীয়রা জানান, তাদের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা প্রকৃতির ওপর— বিশেষ করে পানি। নেটওয়ার্ক ও সড়ক যোগাযোগ এখনো পুরোদমে বিচ্ছিন্ন, বর্ষাকালে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে গেলে নৌযাত্রা হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। শুস্ক মৌসুমেও দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। ফলে চিকিৎসা, বাজার কিংবা জরুরি সেবা পাওয়া হয়ে ওঠে অত্যন্ত কঠিন।
জানা গেছে, ডিম পাহাড় হয়ে তিন্দু পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন পৌঁচ্ছালেও রেমাক্রী ইউনিয়নের বিকল্প কোনো সড়ক এখনো স্থাপন করা হয়নি। তিন্দু-রেমাক্রীর অন্যতম আকর্ষণীয় ট্রেকিং রুট হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি কষ্টের প্রতিদিনের পথ। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামা-ওঠা, নদী পার হওয়া—প্রতিটি যাত্রাই ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে নৌকা মাঝিরা বলেছেন, সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা সাঙ্গু নদী আর কুয়াশায় ঢেকে থাকা তিন্দু-রেমাক্রীর বিস্তীর্ণ জনপদ। উন্নয়ন-অগ্রগতির ঢেউ পার্বত্য অঞ্চলের দোরগোড়ায় পৌঁছালেও এখনো প্রকৃতির ওপরেই ভরসা করে দিন পার করছেন এখানকার হাজারো মানুষ। দুর্গম দুই ইউনিয়নের প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ মৌলিক সেবার বড় ঘাটতি পূরণে সরকারের কাছে দাবি এলাকাবাসীর।
এবিষয়ে জানতে রেমাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে তিন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—দুটোই মেনে নিতে হয়। রেমাক্রী ইউনিয়নের যোগাযোগের সাঙ্গু নৌপথে হলেও তিন্দু ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, তিন্দু ও রেমাক্রীর অন্তত্য গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ইউনিয়ন। সেখানে সাঙ্গু নৌপথে যেতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা তিন্দু-রেমাক্রীবাসীর সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের ব্যাপারে মাসিক সভায় উপস্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে থানচির দুর্গম এলাকায় তিন্দু ও রেমাক্রীবাসীর আশা—একদিন আধুনিক সুবিধা পৌঁছাবে পাহাড়ের চূড়ায় থাকা তাদের গ্রামে। যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলে বদলে যাবে তাদের জীবনযাত্রা। পাহাড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলো তাই উন্নয়নের আরও শক্ত পদক্ষেপের অপেক্ষায়।














