ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দিঘীনালায় সুশীল সমাজের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার
রুপম চাকমা, দিঘীনালা :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলায় সুশীল সমাজের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুত্রুবার ৩০ জানুয়ারী সকাল ১১ টার সময়ে দিঘীনালা উপজেলার সদরে আয়োজিত এ সভায় শান্তি চাকমার চঞ্চালনায় স্বাগতিক ব্যক্তব্য রাখেন প্রিতী বিকাশ চাকমা আলোচনা সভায় আরো উপস্তিত ছিলেন কুসুম চাকমা, কৃপা রজ্ঞন চাকমা, অনুপম চাকমা, প্রদীে দেওয়ান, হেমব্রুত চাকমা, দিঘীনালা কার্বারী এসোসিয়নের সভাপতি সুসময় চাকমা, চন্দ্র রতন চাকমা চেয়ারম্যানসহ দিঘীনালা উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনাকালে তারা এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, সাবেক এমপি সমীরণ দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করে করে গেছেন তার নেতৃত্বে দিঘীনালার সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয় এবং যেকোনো সহিংসতা ও গুজব থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়।

সভায় নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে জয়ী করতে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে গোড়ার প্রতীকের প্রার্থী ধর্ম জ্যোতিকে নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে যা, জুম্ম ধ্বংস ও সংঘাতের পথে যাওয়ার অভিযোগ তিনি আরো বলেন পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন মহল ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, ধানের শিষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে নির্বাচনে জয়ী করার লক্ষ্যে ইউপিডিএফ (গোড়া) প্রতীকের প্রার্থী ধর্ম জ্যোতিকে ব্যবহার করে পাহাড়ে সংঘাত ও বিভাজন উসকে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, এই কৌশলের মাধ্যমে জুম্ম জনগোষ্ঠীর ঐক্য নষ্ট করা হচ্ছে এবং পাহাড়ে দীর্ঘদিনের শান্তি ও সহাবস্থানের পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তারা দাবি করেন, নির্বাচনী স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করছে ইউপিডিএফ, যা পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল শুধু একটি পক্ষের লাভের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।
সভায় চন্দ্র রতন চাকমা মনে করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন। সভা শেষে উপস্থিত সুশীল সমাজের সদস্যরা আগামি ১২ ফেব্রুয়ারী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।














