শিরোনাম:

পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভা

পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভা

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎‎বান্দরবানের “আলীকদমে দ্যা পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ” এর ৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০ টা থেকে নয়াপাড়া রূপমুহুরী রিসোর্ট হল রুম প্রাঙ্গণে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়। ‎সাধারণ সভায় সমিতির প্রায় ৭ শত নারী ও পুরুষ সদস্য অংশ নেয়। অঙ্গ্য মার্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলীকমপাহাড়িকা কো- অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর চেয়ারম্যান আবু মং মার্মার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সমবায় কার্যালয় সহকারী পরিদর্শন ইসতিয়াক উদ্দিন রাকিব। ‎অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন, সমীরণ কান্তি দাশ, জেলা ব্যবস্থাপক কালব্ বান্দরবান, বানুপতি দাশ উপজেলা ব্যবস্হাপক কালব্ আলীকদম উপজেলা। ‎

সাধারণ সভায় উপস্থিতিদের স্বাক্ষর গ্রহণ, জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, অতিথিদের আসন গ্রহণ, ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ, সভাপতির স্বাগত বক্তব্য, বিগত সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন, ব্যবস্থাপনা পরিষদ, ঋণদান, পর্যবেক্ষণ ও আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদন অনুমোদন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের নিরীক্ষিত আয়-ব্যয় হিসাব অনুমোদন, লভ্যাংশ বন্টন প্রস্তাব অনুমোদন, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট, ২০২৪-২০২৫, ২০২৫- ২০২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন।

‎সূত্রে জানা যায়, আলীকদম পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ ২০১৪ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩০০ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭৮৮ জন (সকল বিভাগ মিলে)। সমবায় সমিতি’র উজ্জ্বল আরেক দৃষ্টান্ত এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মূলধন প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা চলমান। ‎

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আবু মং মার্মা জানান, “টেকসই ক্রেডিট ইউনিয়ন” এই স্বপ্ন নিয়ে ‘সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য গুনগত সেবা নিশ্চিত করন’ উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে পাহাড়িকা। পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর আজকের এই সফলতার অংশীদার সংস্থাটির সকল সাধারণ সদস্য, পরিচালনা কমিটি ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আরো নতুন নতুন হাতে নিয়ে দি পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এগিয়ে যাবে এই স্বপ্ন আমাদের। ‎এছাড়া লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর সাধারণ সদস্যদের মাঝে তাদের লভ্যাংশ বন্টন করে দেয়। আমাদের চলমান সেবা সমূহ শেয়ার ও মূলধন সংগ্রহ, সাধারণ সঞ্চয়, শিশু সঞ্চয়, ডিপিএস, লাখপতি সঞ্চয়, বাধ্যতামূলক সঞ্চয়, উৎসব সঞ্চয়, প্রতিষ্ঠানিক সঞ্চয়, মাসিক মূনাফা সঞ্চয় আমানত, পেনশন সঞ্চয় স্কীম, দৈনিক সঞ্চয়, ঝুঁকি মোকাবেলা সঞ্চয়, স্বপ্ননীড় সঞ্চয়, লাইভ সার্বিস বেনিফিট, বীমা সুবিধা, চিকিৎসা সহায়তা, বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ। সুস্হ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাবনা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুমোদন, র‌্যাফল ড্র, পুরস্কার বিতরন, অতিথির বক্তব্যের শেষে অনুষ্টানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার 

পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভা

 

বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট এলাকায় উগুদোছড়িতে  ৩৩৬ পরিবারের বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার।

আজ শনিবার সকালে  খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন মহালছড়ি জোনের ক্যাপ্টেন নাহিদের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল ক্যায়াংঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানের সময় এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেন। খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার করা হচ্ছে মিথ্যা ও বানোয়াট।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

সেনা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এই তথ্যগুলো মূলত বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে ছড়ানো অপপ্রচারের অংশ হতে পারে। ইতোমধ্যে ভুল তথ্য প্রচারে জড়িত কিছু ভারতীয় নাগরিককে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে সাজেকে নিরাপত্তা জোরদার, ৫৪ বিজিবির টহল বৃদ্ধি

পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনাল :

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাজেক ও আশে পাশের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সাজেক সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে উপজেলার বাঘাইহাট ৫৪ বিজিবি। শনিবার ৭ মার্চ সকালে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল বৃদ্ধি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের ৫৪ বিজিবির লে: কর্ণেল মহি উদ্দিন ফারুকর বিজিব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য আনার চেষ্টা বাড়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। এ পরিস্থিতিতে সাজেক সীমান্তের দুর্গম এলাকাগুলোতেও নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আর জানান, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য, অবৈধ পণ্য ও অন্যান্য চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। কেউ চোরাচালান বা সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রমের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, দেশের সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এবং অবৈধ কার্যক্রম নির্মূলে ভবিষ্যতেও তাদের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড়ি নারীরা পরিশ্রমী—স্বামীর সংসারে তাদের অবদান অপরিসীম

পাহাড়িকা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ এর ৯ম বার্ষিক সাধারণ সভা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

পাহাড়ি জনপদের নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি ও সংসার পরিচালনায় পাহাড়ি নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামীর সংসারের বেশির ভাগ দায়িত্বই তারা নিজের কাঁধে তুলে নেন। পাহাড়ি নারীদের দিন শুরু হয় খুব ভোরে।

ঘরের কাজকর্ম যেমন রান্না, ঘর পরিষ্কার, সন্তানদের দেখাশোনা—এসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা কৃষিকাজ, জুমচাষ, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ, পাহাড়ি ঝর্ণা বা দূরবর্তী স্থান থেকে পানি আনা এবং বাজারে গিয়ে পণ্য বিক্রির মতো কঠিন কাজও করে থাকেন। ফলে সংসারের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক পাহাড়ি পরিবারে নারীরাই পরিবারের প্রধান সহায়ক শক্তি। স্বামীদের পাশাপাশি তারা সমানভাবে পরিশ্রম করে সংসারের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখেন। নিজেদের উৎপাদিত সবজি, ফলমূল, ও হস্তশিল্প বাজারে বিক্রি করে তারা পরিবারের আয় বৃদ্ধিতেও সহায়তা করেন।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি সমাজে নারীদের এই নিরলস পরিশ্রম পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের শ্রম, ধৈর্য ও ত্যাগ পাহাড়ি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পাহাড়ি নারীদের এই অবদানকে যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হলে পাহাড়ি সমাজ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন।

×