শিরোনাম:

খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার 

খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার 

 

বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট এলাকায় উগুদোছড়িতে  ৩৩৬ পরিবারের বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার।

আজ শনিবার সকালে  খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন মহালছড়ি জোনের ক্যাপ্টেন নাহিদের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল ক্যায়াংঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানের সময় এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেন। খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার করা হচ্ছে মিথ্যা ও বানোয়াট।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

সেনা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এই তথ্যগুলো মূলত বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে ছড়ানো অপপ্রচারের অংশ হতে পারে। ইতোমধ্যে ভুল তথ্য প্রচারে জড়িত কিছু ভারতীয় নাগরিককে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে সাজেকে নিরাপত্তা জোরদার, ৫৪ বিজিবির টহল বৃদ্ধি

খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার 

 

রুপম চাকমা, দিঘীনাল :

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাজেক ও আশে পাশের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সাজেক সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে উপজেলার বাঘাইহাট ৫৪ বিজিবি। শনিবার ৭ মার্চ সকালে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল বৃদ্ধি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের ৫৪ বিজিবির লে: কর্ণেল মহি উদ্দিন ফারুকর বিজিব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য আনার চেষ্টা বাড়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। এ পরিস্থিতিতে সাজেক সীমান্তের দুর্গম এলাকাগুলোতেও নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আর জানান, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য, অবৈধ পণ্য ও অন্যান্য চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। কেউ চোরাচালান বা সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রমের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, দেশের সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এবং অবৈধ কার্যক্রম নির্মূলে ভবিষ্যতেও তাদের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড়ি নারীরা পরিশ্রমী—স্বামীর সংসারে তাদের অবদান অপরিসীম

খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার 

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

পাহাড়ি জনপদের নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি ও সংসার পরিচালনায় পাহাড়ি নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামীর সংসারের বেশির ভাগ দায়িত্বই তারা নিজের কাঁধে তুলে নেন। পাহাড়ি নারীদের দিন শুরু হয় খুব ভোরে।

ঘরের কাজকর্ম যেমন রান্না, ঘর পরিষ্কার, সন্তানদের দেখাশোনা—এসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা কৃষিকাজ, জুমচাষ, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ, পাহাড়ি ঝর্ণা বা দূরবর্তী স্থান থেকে পানি আনা এবং বাজারে গিয়ে পণ্য বিক্রির মতো কঠিন কাজও করে থাকেন। ফলে সংসারের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক পাহাড়ি পরিবারে নারীরাই পরিবারের প্রধান সহায়ক শক্তি। স্বামীদের পাশাপাশি তারা সমানভাবে পরিশ্রম করে সংসারের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখেন। নিজেদের উৎপাদিত সবজি, ফলমূল, ও হস্তশিল্প বাজারে বিক্রি করে তারা পরিবারের আয় বৃদ্ধিতেও সহায়তা করেন।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি সমাজে নারীদের এই নিরলস পরিশ্রম পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের শ্রম, ধৈর্য ও ত্যাগ পাহাড়ি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পাহাড়ি নারীদের এই অবদানকে যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হলে পাহাড়ি সমাজ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন।

চিংম্রংয়ে বর্ণাঢ্য সাংগ্রাই আয়োজনের প্রস্তুতি ; গঠিত হলো উদযাপন কমিটি

খাগড়াছড়িতে ৩৩৬ পরিবার বসতি স্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার 

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম (চিংম্রং) এলাকায় মারমা সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের উৎসবকে বর্ণিল ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উথোয়াই মং মারমা-কে আহ্বায়ক এবং মংসুই উ মারমা-কে সদস্য সচিব করে একটি শক্তিশালী উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ​সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চার সদস্যের এই মূল কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, আহ্বায়ক কাপ্তাই উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক উথোয়াই মং মারমা, ​যুগ্ম আহ্বায়ক চিৎমরম আগা পাড়া কার্বারী উসাই মং মারমা, সদস্য সচিব: উন্নয়ন কর্মী মংসুই উ মারমা, যুগ্ম সচিব চিৎমরম সহ-সাধারণ সম্পাদক সাচিং উ মারমা। নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মারমা সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় তিন দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে ১৩ এপ্রিল (সাংগ্রাই বরণ) উৎসবের প্রথম দিনে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। এদিন প্রতিটি বসতবাড়ি থেকে শুরু করে গৃহপালিত সকল প্রাণীকে তাজা ফুল দিয়ে সাজানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে।​

১৪ এপ্রিল (মূল সাংগ্রাই) দ্বিতীয় দিনে পাড়ায় পাড়ায় উৎসবের আমেজ থাকবে তুঙ্গে। এদিন সকালে বিহারে বিহারে ছোয়াইং পূজা (অন্নদান), বুদ্ধ স্নান এবং প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে। এছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করিয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করা হবে। দিনব্যাপী থাকবে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও ধর্মীয় দেশনা গ্রহণ। ​১৫ এপ্রিল (জল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) উৎসবের সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘সাংগ্রাই জল উৎসব’। পবিত্র জল ছিটিয়ে পুরনো বছরের গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হবে। দিনব্যাপী নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মারমা ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হবে।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমা বলেন, “চিংম্রং সাংগ্রাই জল উৎসব এখন কেবল পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২০২৬ সালের আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

​সদস্য সচিব মংসুই উ মারমা জানান, তিনি দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সর্বস্তরের মানুষকে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

×