শিরোনাম:

বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

 

‎আনোয়ার হোসেন, ‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলায় আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। “প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার” এবং “টেকসই আগামীর জন্য জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।

‎রবিবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। ‎আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথিদের উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দীন মজুমদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়াস চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর আলম, কাচালং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর কামাল হোসেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবছার হোসেন, চট্টগ্রাম থেকে আগত চট্টগ্রাম রিজিয়ন রেঞ্জার ইসামা এবং গার্লস গাইড চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিশনার বিনা প্রভা চাকমা।

‎আলোচনা সভায় বক্তারা, নারীর অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ এবং সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, একটি সমতাভিত্তিক ও উন্নত সমাজ গঠনে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নারীর উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা গেলে সমাজ ও দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। ‎‎তারা আরও বলেন, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে। সমাজে নারীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা, রাজনীতি, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

বক্তারা নারীদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ‎অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, নারী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ‎

প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। এ দিবসে নারীদের অধিকার, মর্যাদা এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে তাদের অবদান তুলে ধরা হয়। এ বছরও বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

বাঘাইছড়ি মিনি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমি এবং বাঘাইছড়ি ফুটবল একাডেমি। খেলাটি উপভোগ করতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো স্টেডিয়ামকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (পিএসসি), অধিনায়ক, মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিওএম. শাহিনুর রহমান, উপ-অধিনায়ক, মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি এবং বিজিবি এমএস মোঃ হাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক (কোয়ার্টার মাস্টার), মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ওমর আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা, রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন বাহারী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আশিকুর রহমান মানিক। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করে বাঘাইছড়ি ফুটবল একাডেমি। খেলা শুরুর আগে অতিথিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ, শৃঙ্খল জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ম্যাচে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমি বিজয়ী হয়। খেলা শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বেতবুনিয়া বেণুবন উত্তমানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে দানকার্য সম্পাদন

বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল)২৬খ্রিঃ রাঙ্গামাটি সদরস্থ কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়ন’র বেণুবন উত্তমানন্দ বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে অষ্টপরিষ্কার সংঘদান ও জ্ঞাতিভোজন অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।
বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত অজিতানন্দ মহাথের’র শ্রদ্ধেয় পিতা কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান প্রয়াত অনন্ত বড়ুয়া (ধর্মবংশ)-এর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং মাতা প্রয়াত শান্তি বালা বড়ুয়ার তিথি উপলক্ষে পুত্র-কন্যা ও পরিবারের সদস্যদের আয়োজনে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

পশ্চিম সোনাইছড়ি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত নাইন্দা বাসা মহাথের’র সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যম মনাইপাড়া শান্তিদ্বয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।

সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করেন পূর্ব মনাইপাড়া শান্তি নিকেতন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত নাইন্দাচারা মহাথের, শীলছড়ি অভয় অরণ্য ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ ভদন্ত সাধনানন্দ মহাথের, বেণুবন সোনাইছড়ি সব্ব মঙ্গল বুদ্ধ ধাতু জাদী বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত রাহুলাপায়া থের,বেতবুনিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত উত্তরা থের এবং সোনাইছড়ি ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞাদ্বীপ থের সহ প্রধান পুণ্যার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুঁই চাকমা, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. বাদল বরণ বড়ুয়া এবং সভাপতি মাষ্টার প্রকাশ বড়ুয়া, মাষ্টার পংকজ কুসুম বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বেতবুনিয়া, মনাইপাড়া ও বেনুবণ এলাকার দায়িক-দায়িকা, বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের প্রতিনিধিসহ প্রয়াত অনন্ত বড়ুয়া (ধর্মবংশ)-এর পরিবারবর্গ একত্রিত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক পুণ্যার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বেণুবন উত্তমানন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত মাহাথের

গালেংঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়লেট সংকট: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

 

মথি ত্রিপুরা , রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত “গালেংঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এ দীর্ঘদিন ধরে অচল ও জরাজীর্ণ ল্যাট্রিনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

গত (২০ এপ্রিল ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একমাত্র ল্যাট্রিনটি বহু বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেয়ালের রং উঠে গিয়ে কাঠামোটি ভঙ্গুর অবস্থায় পরিণত হয়েছে। চারপাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল গড়ে ওঠায় এটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত স্থাপনায় রূপ নিয়েছে।

বিদ্যালয়ে ওয়াশরুমের অভাবও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য এটি মারাত্মক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যা বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বিদ্যালয়ের জন্য সরকারি বরাদ্দ এলেও তার সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, বছরের পর বছর কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উটিংশেয়ে মারমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, টয়লেট রয়েছে এবং আমি নিজেও ব্যবহার করছি। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তব চিত্র তার বক্তব্যের সাথে মিলছে না।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক উহাইনু মারমা বলেন, টয়লেটের অভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত একটি ব্যবহারযোগ্য টয়লেটের ব্যবস্থা করা হলে সবাই উপকৃত হবে।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে টয়লেট সংস্কার ও আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

×