শিরোনাম:

পাহাড়ে পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি

পাহাড়ে পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

বিদায়ী বছরের সব গ্লানি, দুঃখ-বেদনা আর অপূর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন আশায় বুক বেঁধে নতুন বছরকে বরণ করতে প্রস্তুত পাহাড়ি জনপদ। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। উৎসবমুখর পরিবেশে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অংশগ্রহণে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পুরো এলাকায়।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। রঙিন আলোকসজ্জা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় পাহাড়ি আদিবাসি শিল্পীরা।থাকছে নাচ, গান, আবৃত্তি ও পাহাড়ি সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উৎসবকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নতুন বছরকে বরণ করতে এসেছেন। তাদের মতে, শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে নতুন বছর শুরু করা এক ভিন্ন অনুভূতি। সব মিলিয়ে, আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর নতুন স্বপ্ন নিয়ে পাহাড় প্রস্তুত নতুন বছরকে বরণ করতে। বিদায়ী বছরের সব ক্লান্তি ভুলে নতুন সূর্যের আলোয় ভরে উঠুক সবার জীবন—এই প্রত্যাশাই এখন সবার মুখে।

রাঙ্গামাটিতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন

পাহাড়ে পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

 

এম এস শ্রাবন মাহমুদ :

সোববার (৬ এপ্রিল) ২৬খ্রিঃ।রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে বাংলা নববর্ষ, বৈসাবি – ১৪৩৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালি’টি রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ হতে শুরু হয়ে সদরস্থ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়ে বেলুন উড়ানোর মধ্যে দিয়ে ০৫ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল মূল উৎসব ঘরোয়াভাবে পালিত হবে এবং মারমাদের ঐতিহ্যবাহী “জলকেলি” উৎসবের মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, কর্নেল মোহাম্মদ সাদাত বিন শহিদ, লেঃ কর্নেল একরামুল রাহাত, নাজমা আশরাফী, জেলা প্রশাসক, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, পুলিশ সুপার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, সহ আরও উপস্থিত ছিলেন-ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জীতেন চাকমা।

এসময় বক্তব্যকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ সরকারের লক্ষ্য হলো সমতল ও পাহাড়ের মধ্যে কোনো প্রকার বৈষম্য না রাখা এবং দেশকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নেওয়া।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড় এবং সমতলে সমান উন্নয়নের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। সকলকে শান্তি-শৃঙ্খলার সাথে আনন্দঘন পরিবেশে এই উৎসব পালনের আহ্বান জানান।

অন্য দিকে পুলিশ সুপারের বক্তব্যে’তে বলেন
উৎসব- আনন্দ সকলের জন্য, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকলকে আইন মেনে চলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব।

এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলীকদম–পোয়ামুহুরী সড়ক সেনাবাহিনী থেকে সড়ক বিভাগের নিকট হস্তান্তর

পাহাড়ে পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের  আলীকদম থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

‎সোমবার (৬ এপ্রিল) পোয়ামুহুরী নদীর চরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্মাণ সংস্থা ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (ইসিবি) এই সড়ক হস্তান্তর অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।

‎জানা গেছে, ২০১৭ সালে সেনাবাহিনী ১৬ ইসিবি দিয়ে আলীকদম– কুরুপাতা–পোয়ামুহুরী সড়কের কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ১৭ ইসিবি আলীকদম জালানীপাড়া থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করে। মূল নির্মাণকাজ ২০২২ সালে সমাপ্ত হলেও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালে সড়কটি সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‎প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে ১৭ ইসিবি কাজ শেষে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েছে।

‎হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৭ ইসিবির প্রকল্প পরিচালক মেজর এহসানুর আকাশ।

‎অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “দুর্গম এই অঞ্চলে সড়ক নির্মাণের ফলে মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। আগে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতায় কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতেন না। এখন সড়ক চালু হওয়ায় পণ্য সহজে পরিবহন করা সম্ভব এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছেন।”

‎স্হানীয় কারবারী পাচ্ছো ম্রো বলেন, “ বর্তমান সড়কটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্মিত হওয়ার ফলে যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। আগে কষ্ট করে নদীপথে নৌকা যোগে চলাচল করতে হতো,এখন গাড়ির মাধ্যমে দ্রুত বাজারে পৌঁছানো সম্ভব। আমাদের উৎপাদিত ফসলও এখন ন্যায্য দামে বিক্রি করা যায়।”

‎এলাকাবাসীর প্রত্যাশা,সড়কটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খাগড়াছড়িতে বৈসাবি ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর মতবিনিময় সভা

পাহাড়ে পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

আসন্ন বাংলা নববর্ষ ও পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সাসাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে। উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন’র কনফারেন্স রুমে এ ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্ব এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি সদর জোন অধিনায়ক মোঃ খাদেমুল ইসলাম, রিজিয়নের জিটুআই মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন, পুলিশ সুপার মোঃ মোরতোঁজা আলী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার, সাংবাদিক, মারমা, ত্রিপুরা ও বৈসাবি উদযাপন কমিটির নেতারা।

এদিকে মতবিনিময় সভার শুরুতে গত দুই দশকে পাহাড়ে বৈসাবি ঘিরে বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ঘটনাবলীর কথা তুলে ধরা হয়। এ বছর খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় উদযাপিত হবে বৈসাবি তাই বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি সর্তক রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাহাড়ের ক্ষুদ্র ঘটনা’কে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন কতৃক পর্যটক অপহরণের মতোও সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও উঠে আসে মতবিনিময় সভায়।

×