সাজেকে বনানি বন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা
রুপম চাকমা, দিঘীনালা প্রতিনিধি :
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বাঘাইহাট বনানি বন বিহারে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। শনিবার ২ মে ২০২৬ দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ ভুক্ত অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্টানে সংঘ প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুধর্ম লংকার মহাস্হবির ভান্তে সাজেক, কল্যান সিদ্দি ভান্তে দুলুবনিয়া অরণ্য কুঠির, ধর্ম সিদ্দি মহাস্থবির ভান্তে নন্দরাম অরণ্য কুঠির লুংবিনি কুঠির ও বাঘাইহাট বনানি বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় কৃপারত্ন মহাস্থবির ভান্তে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা, বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবদি চাকমা, বাঘাইহাট ৪নং ওযার্ডের মেম্বার দয়াধন চাকমাসহ এলাকার সুশীল সমাজের ধর্ম প্রান দায়ক/দায়িকা উপস্থিত ছিলেন। ভোরে পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ, প্রার্থনা ও সংঘদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম ধর্মীয় আনুষ্টানিকতা শুরু হয়।
পরে বন বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধের জীবনী ও তার মানব কল্যাণমূলক বাণী নিয়ে ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভিক্ষুসংঘ দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল জীবের মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন। দুপুরের পর আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল দিনের অন্যতম আকর্ষণ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার বার্তা ছড়িয়ে দেন।
শোভাযাত্রাটি বনানি বন বিহার থেকে শুরু হয়ে সাজেকের মেইন সড়ক উজো বাজারসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিহার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

অনুষ্টান উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বিমল চাকমা জানান, বুদ্ধ পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতার জন্য শান্তি ও সহমর্মিতার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে দুপুরের ভোজন বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ছিল আধ্যাত্মিক প্রশান্তির ছোঁয়া, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন পুর্ণার্থীরা।


















