| ১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

সাজেকে বনানি বন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

সাজেকে বনানি বন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বাঘাইহাট বনানি বন বিহারে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। শনিবার ২ মে ২০২৬ দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ ভুক্ত অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্টানে সংঘ প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুধর্ম লংকার মহাস্হবির ভান্তে সাজেক, কল্যান সিদ্দি ভান্তে দুলুবনিয়া অরণ্য কুঠির, ধর্ম সিদ্দি মহাস্থবির ভান্তে নন্দরাম অরণ্য কুঠির লুংবিনি কুঠির ও বাঘাইহাট বনানি বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় কৃপারত্ন মহাস্থবির ভান্তে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা, বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবদি চাকমা, বাঘাইহাট ৪নং ওযার্ডের মেম্বার দয়াধন চাকমাসহ এলাকার সুশীল সমাজের ধর্ম প্রান দায়ক/দায়িকা উপস্থিত ছিলেন। ভোরে পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ, প্রার্থনা ও সংঘদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম ধর্মীয় আনুষ্টানিকতা শুরু হয়।

পরে বন বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধের জীবনী ও তার মানব কল্যাণমূলক বাণী নিয়ে ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভিক্ষুসংঘ দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল জীবের মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন। দুপুরের পর আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল দিনের অন্যতম আকর্ষণ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার বার্তা ছড়িয়ে দেন।

শোভাযাত্রাটি বনানি বন বিহার থেকে শুরু হয়ে সাজেকের মেইন সড়ক উজো বাজারসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিহার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

অনুষ্টান উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বিমল চাকমা জানান, বুদ্ধ পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতার জন্য শান্তি ও সহমর্মিতার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে দুপুরের ভোজন বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ছিল আধ্যাত্মিক প্রশান্তির ছোঁয়া, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন পুর্ণার্থীরা।

বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার; হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে পুলিশ, এলাকাবাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

সাজেকে বনানি বন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

ছবি- প্রতিকী

একা থাকা বৃদ্ধাকে নৃশংস হত্যা, মধুপুরের দিঘিরপাড়ে চাঞ্চল্য

 

প্রিন্স এডওয়ার্ড মাংসাং – বিশেষ প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল :

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের দিঘিরপাড় এলাকায় এক বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় কোনো এক সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর মা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিবেশী রেজাউল করিম রেজার স্ত্রী পান খাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃদ্ধার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই খবরটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত, আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের ধারণা, বৃদ্ধা একা বসবাস করায় দুর্বৃত্তরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে। তবে বৃদ্ধা তাদের চিনে ফেলায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য কিংবা কারা এ ঘটনায় জড়িত—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকায় আতঙ্কও বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো মধুপুর উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দিকে এখন সবার দৃষ্টি।

রামগড় কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের ৩০ শ্রমিক-১২ আনসারের নিরাপত্তার মাঝেও সেগুন গাছ চুরি !

সাজেকে বনানি বন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে একটি সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি এই গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ও ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি গবেষণা কেন্দ্রের কাছেই রয়েছে বিজিবির চেকপোস্ট। এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে একটি বড় সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাগানের একটি সেগুন গাছ কাটা হয়েছে। তবে গাছ কাটার সময় দায়িত্বরত শ্রমিক, আনসার সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ ঘটনাটি টের পাননি বলে দাবি করেছেন।

৩১ জুলাই (শুক্রবার) সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা দেখতে পান। এবং গাছের কিছু অংশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে— এতজন শ্রমিক ও আনসার সদস্যের উপস্থিতি এবং পাশেই বিজিবির চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কারা বাগানে ঢুকে গাছটি কাটল ? কীভাবে গাছ কেটে তা গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো ? নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কারও নজরে ঘটনাটি না আসার কারণই বা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সকাল ৭টার দিকে বাগানের দিক থেকে একটি গাড়িতে গাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা দেখতে পান। তাদের ভাষ্য, গাছটি কেটে নিয়ে যাওয়ার পরই ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। তবে কারা ওই গাছ কেটে নিয়ে গেছে এবং তাদের সঙ্গে বাগানের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গবেষণা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি সেগুন গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে গাছ কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, কখন গাছটি কাটা হয়েছে এবং কীভাবে তা বাগান থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও ২০২৩ সালে রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গাছ কেটে বিক্রির ঘটনা নিয়ে আলোচনা ও অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি বাগান থেকে বারবার গাছ কাটার অভিযোগ থাকলেও এসব ঘটনায় দাপ্তরিকভাবে কী ধরনের তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে নতুন করে সেগুন গাছ কাটার ঘটনায় আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ও সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে রামগড় পাহাড় অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমদাদুল হক বলেন, তিনি বর্তমানে স্টেশনের বাইরে রয়েছেন। গাছ কাটার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মানিকছড়িতে বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল সভাপতি হাবিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন সাংগঠনিক নুরুজ্জামান মাষ্টার

সাজেকে বনানি বন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে মানিকছড়ি উপজেলা টাউন হল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজন করে কাউন্সিলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠিত কাউন্সিল এর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এড. আব্দুল মালেক মিন্টু, মোশাররফ হোসেন অনিমেষ চাকমা রিংকু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব রাজা, বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমাসহ বিভিন্ন উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি অপকর্ম করে সেই যত বড় মাপের নেতা কোন ছাড় দেয়া হবে না। কোন বিএনপি নেতা নিরীহ মানুষের বিচার সালিশের নামে হয়রানি করলে কঠোর দলীয় ব্যবস্থা করবেন বলেন।

আলোচনা সভা শেষে দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি হাবিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ মীর হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান মাষ্টারসহ ১০১ সদস্যে নাম ঘোষণা করা হয়।

×