| ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রামে উদীচীর উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপনে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম

চট্টগ্রামে উদীচীর উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপনে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

“রক্তে ধোয়া মে তোমায় সেলাম’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ চট্টগ্রাম শাহআমানত মার্কেট সংলগ্ন আমতল চত্বরে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে মহান মে দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

১ মে সকাল ১০ টায় উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক জসীম চৌধুরী সবুজের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক এডভোকেট অসীম বিকাশ দাশের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ-সভাপতি ডা: অসীম কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম থিয়েটার এর দলপ্রধান এডভোকেট দীপক চৌধুরী, ভাস্কর ধর, লেকচারার নরেন সাহা প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, মে দিবস হলো দুনিয়ার মেহনতী মানুষের সঙ্কল্প গ্রহণের দিন। এই সঙ্কল্প হলো সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শ্রেণী বৈষম্যের বিলোপসাধন। মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকের এক হওয়ার ব্রত। আন্তর্জাতিক সংগ্রাম আর সৌভ্রাতৃত্বের দিন, শ্রমজীবী মানুষের উৎসবের দিন, জাগরণের গান, সংগ্রামে ঐক্য ও গভীর প্রেরণা। মে দিবস শোষণ মুক্তির অঙ্গীকার, ধনকুবেরের ত্রাস, সমাজতন্ত্র গড়ার নতুন শপথ। মে দিবস হলো কাজের সময় হ্রাস ও মজুরি বৃদ্ধির এক আন্দোলন এবং দুনিয়ার শ্রমিক সংহতি দিবস, পুঁজিবাদী শোষণ মুক্তির সংগ্রামী শপথ। শ্রমিকশ্রেণীর আন্দোলন থেকেই উঠে এসেছে এইদিনটি। আন্দোলনের পথ কখনই মসৃণ ছিল না, মসৃণ থাকেও না, সময়ের নিয়মেই ছিল নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে, জুলুম অত্যাচারে, প্রতিরোধে, ধর্মঘটে, মিছিলে, সংগ্রামী ঐক্যে রক্তলাঞ্ছিত। মে দিবস একদিনে এই আন্তর্জাতিক চেহারা পায়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। রয়েছে অনেক রক্তঝরার কাহিনী। জন্মলগ্ন থেকেই শ্রমিকশ্রেণীর ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। শ্রমিকশ্রেণীকে উদয়াস্ত কাজ করতে হবে আঠারো ঘণ্টা, কুড়ি ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল কাজের সময়-সীমা এই অসম সীমারেখার প্রতিবাদ জানিয়েই ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকশ্রনীর প্রতিবাদ এবং পরবর্তীতে রক্তাক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শ্রমিক দিবসের প্রতিষ্ঠা পায়।

উক্ত আয়োজনে, শ্রমিকের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীকর্মীরা, প্রতিবাদী আবৃত্তি পাঠ করেন শান্তা সেন গুপ্ত, একক সংগীত পরিবেশন করেন সীমা দাশ। স্কেচ গ্যালারি নন্দনের পরিবেশনায় পথনাটক “গুপ্তবিদ্যা “মঞ্চস্থ করা হয়।

সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন “বিশ্বতান ”এর শিল্পীবৃন্দ, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা-আন্তর্জাতিক বিশ্বতান নৃত্য পরিচালনা -হৃদিতা দাশ পূজা, নৃত্য পরিচালনায়-নরেন সাহা, সংগীত পরিচালনা – নিভূ সেন, তবলা সংগীতে-নরেন সাহা, তবলা সংগীতে-দূর্জয় দাশ, আবৃত্তি – রুনা বড়ুয়া, আবৃত্তি – আলেয়া বড়ুয়া, জিপসি সংগীতে-পম্পি চৌধুরী।

চন্দ্রঘোনায় অভিযানে একাধিক মামলার আসামি কুখ্যাত মাদক কারবারি মাসুম গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে উদীচীর উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপনে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):

​রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাসুম তালুকদার ওরফে ছোট মাসুমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ।

​রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৩নং সফিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ​

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম বাঙ্গালহালিয়ার সফিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এবং এলাকার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মাসুম তালুকদারকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজস্থলী থানাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। ​

চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাকের আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সোমবার তাকে চন্দ্রঘোনা থানা ও রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

চট্টগ্রামে উদীচীর উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপনে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম

 

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে সুমন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২ আগস্ট) পরিচালিত এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বান্দরবান সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(খ) ও ১৫(১) অনুযায়ী এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সুমন কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে মাটি অপসারণ করছেন। ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকার এবং আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ: চন্দ্রঘোনা থেকে বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক উদ্ধার, আদালতে সোপর্দ ১

চট্টগ্রামে উদীচীর উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপনে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে পাল্পউড বন বিভাগ ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ও রাইখালী এলাকা থেকে পাচার চক্রের হাত থেকে একটি বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির ‘হাঁসপা তক্ষক’ উদ্ধার করেছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বন্যপ্রাণীটি অবৈধভাবে আটকে রেখে পাচারচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং তিনছড়ি বিট কাম রাইখালী ডিপো কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দেওয়ানের নেতৃত্বে কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগ ও চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা অবস্থায় বিরল প্রজাতির তক্ষকটি উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে উদ্ধারকৃত তক্ষকটি রাইখালী রেঞ্জে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং বিট কর্মকর্তা ফিরোজ আল-আমিনের উপস্থিতিতে বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণীটিকে রাইখালী রেঞ্জের অধীন গহীন অরণ্যের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদে অবমুক্ত করেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই পাল্পউড বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যপ্রাণী আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের অমূল্য সম্পদ। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় যেকোনো বন্যপ্রাণী ধরা, কেনাবেচা বা পাচার করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক।

×