শিরোনাম:

চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টার :

রবিবার (৩ মে) ’২৬ খ্রিঃ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের সময় আগ্রাবাদ ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ক্লাবের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রেষ্ঠ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্ত যুব সংগঠক এম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী দুলদুল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক কাজী জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন সোহেল, কামাল উদ্দিন, এনামুল হক রাশেদী, তৌহিদুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আবদুল হান্নান হীরা, আবু কাহার হৃদয় প্রমুখ।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আবু মুছা বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব নয়। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক সাংবাদিকতাই সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। বর্তমান সময়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ কায়সার বলেন, গণমাধ্যম শুধু খবর পরিবেশন করে না, বরং সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তারা আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে তথ্যের সঠিকতা যাচাই এবং ভুয়া খবর প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভা শেষে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে একটি যৌথ বাণীও প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সকল সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের পেশাগত সাফল্য ও নিরাপত্তা কামনা করা হয়।

বাঘাইছড়িতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক আটক

চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‎বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কলেজ পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসআই মো. রাকিবুল হাসান ও এসআই রিয়াজুল ইসলাম রানা’র নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে সাগর হুসাইন মনিরকে আটক করেন।

পুলিশ জানায়, আটক যুবক লংগদু উপজেলার মাইনী এলাকার মৃত তাইজুল ইসলামের ছেলে। তিনি কলেজ পাড়া এলাকায় হাবিব উল্লাহ’র বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

‎বাঘাইছড়ি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন মহলের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের মরিয়া লড়াই

চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ের পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কৃষকরা। মাঠজুড়ে এখন একটাই চিত্র—বোরো ধান বাঁচাতে কৃষকদের অবিরাম লড়াই। প্রকৃতির প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা যেন থেমে গেছে। সারা বছরের কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে পানির স্রোতে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে শত শত কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক জমিতে পাকা ও আধাপাকা ধান ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও স্রোতের পানিতে ধান ভেসে যাচ্ছে।


স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে তারা হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ের পানির কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় তাদের সব পরিশ্রম এখন হুমকির মুখে।

কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে ধান লাগাইছিলাম। ঋণ করে সার, বীজ, সেচের খরচ দিছি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।” আরেক কৃষক জানান, অনেক জমিতে এখনো হাঁটুসমান পানি জমে আছে। দ্রুত পানি না নামলে অবশিষ্ট ধানও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের চোখে এখন হতাশার ছায়া। তারা বলছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে একা সম্ভব নয়। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পেলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।


স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃষকদের দাবি—ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা হোক। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। প্রকৃতির সঙ্গে এই কঠিন লড়াইয়ে কৃষকরা এখনো হাল ছাড়েননি। তারা আশাবাদী—সময়মতো সহায়তার হাত বাড়ালে আগামীতে আবারও সোনালী বোরো ধানে ভরে উঠবে বাঘাইছড়ির মাঠ।

ডাক্তার না হয়েও ‘ডাক্তার’ পরিচয় ব্যবহার ; রামগড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

সাইফুল ইসলাম,

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কালাডেবা বাজারে ডাক্তার না হয়েও নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার দায়ে শহিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ শামীম। এ সময় তাকে হাতেনাতে প্রমাণসহ আটক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ হওয়ায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় এনে তাৎক্ষণিকভাবে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শামীম সাংবাদিকদের জানান, “ডাক্তার না হয়েও ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৮\৩ দ্বারা লঙ্ঘনের অপরাধে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।”

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ এবিএম মোজাম্মেল হক, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে।।

×