শিরোনাম:

সকল রাজনৈতিক দল ও নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

সকল রাজনৈতিক দল ও নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টার :

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবি এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে জানাজার মাধ্যমে বিদায় জানানো হলো রণাঙ্গণের সেনানী, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে)২৬ খ্রিঃ বেলা ১১ঃ০০ টায় সময় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০ টা থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নিতে মাঠে জড়ো হতে থাকেন। জানাজা শেষে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলে চারদিক থেকে হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারী ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে নেতাকর্মীরা মরদেহ বাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন।

এ সময় মাঠের মূল ফটকে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। জানাজায় সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ণাঢ্য একজন রাজনীতিবিদ বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন।
মহানগর বিএনপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার অবদানের জন্য চট্টগ্রামবাসী সবসময় তাকে স্মরণে রাখবে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেলেন।

সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে তার সঙ্গে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির নেতা ছিলেন তিনি। উন্নয়ন পরিকল্পনা তিনি খুব ভালো বুঝতেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।

এ সময় সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ২০১৪-২০১৯ মেয়াদেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট তাকে কারা হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান তিনি। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে মীরসরাইয়ে দাফনের আগে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

আলীকদমে হাম ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু

সকল রাজনৈতিক দল ও নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

 

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম (বান্দরবান)প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ভেওলা ম্রো পাড়ার সংপ্রং ম্রো (১৮) হাম ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ‎শুক্রবার (১৫ মে) আজ সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট (৬) ছয় জনের মৃত্যু হলো। ‎

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে পর্যন্ত এই উপজেলায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৪ জন। এর মধ্যে ২৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে ৭৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ১৭৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া জরুরি ও বহির্বিভাগ থেকে আরও অর্ধশতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ৬ জনকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ‎

দুর্গম কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায় হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ দুটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এসব ক্যাম্প থেকে এখন পর্যন্ত ৪১০ জন শিশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান ও প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ‎

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্গমতার কারণে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ও পুষ্টি কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। ‎

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ হানিফ বলেন, হাম ও ডায়রিয়াজনিত জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।

বান্দরবানে শেষ হলো মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

সকল রাজনৈতিক দল ও নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

মো আলম; বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার সাংবাদিকদের অনলাইন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ দিন ব্যাপী মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে ) বিকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবে হল রুমে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ( পিআইবি) এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস প্রশিক্ষনার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন  প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহ‌ী ম‌্যাজি‌ষ্ট্রেট বুলবুল আক্তার সেতু, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক এন এ জাকিরসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

এসময় জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিকরা আরও মানসম্মত, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চারও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর আয়োজনে বান্দরবান প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজমের গুরুত্ব, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের কৌশল, আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন ধরণ, তথ্য উপস্থাপনায় বস্তুনিষ্ঠতার প্রয়োজনীয়তা এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা ও পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকেরা।

বিলাইছড়ির এলপন দীর্ঘ লাফে প্রথম স্থান অধিকারী

সকল রাজনৈতিক দল ও নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধিঃ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস – ২০২৬ উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় নয় উপজেলাকে হারিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বিলাইছড়ি উপজেলা এলপন চাকমা। সে বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণি ছাত্র এবং সদর ইউনিয়ন দীঘলছড়ি ঢেবামাথার প্রহর কান্তি চাকমার ছেলে। মাতার নাম- কালা মিলা চাকমা।

দীর্ঘলাফে প্রথম স্থান অধিকারী (১৬.৯ ফুট) ছিলো। আটটি ইভেন্টে ৬২ জন প্রতিযোগির মধ্যে সে একমাত্র বিলাইছড়ি উপজেলার ভগ্যবান প্রতিযোগী। ইউএনও’র সঙ্গে দেখা করতে আসলে এলপনের জন্য শুভ কামনা জানান ইউএনও হাসনাত জাহান খান।

আগামী ১৭ মে রাঙ্গামাটি জেলা পক্ষ হয়ে লড়বে এলপন। সব জেলাকে হারিয়ে বিভাগীয় পর্যায় ও জাতীয় পর্যায়ে যেতে এলপনের জন্য সকলের প্রতি দোয়া প্রার্থী।

×