শিরোনাম:

বাঘাইছড়ি মিনি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

বাঘাইছড়ি মিনি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমি এবং বাঘাইছড়ি ফুটবল একাডেমি। খেলাটি উপভোগ করতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো স্টেডিয়ামকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (পিএসসি), অধিনায়ক, মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিওএম. শাহিনুর রহমান, উপ-অধিনায়ক, মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি এবং বিজিবি এমএস মোঃ হাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক (কোয়ার্টার মাস্টার), মারিশ্যা জোন, ২৭ বিজিবি।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ওমর আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা, রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন বাহারী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আশিকুর রহমান মানিক। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করে বাঘাইছড়ি ফুটবল একাডেমি। খেলা শুরুর আগে অতিথিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ, শৃঙ্খল জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ম্যাচে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুমতি ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমি বিজয়ী হয়। খেলা শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

গালেংঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়লেট সংকট: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

বাঘাইছড়ি মিনি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

 

মথি ত্রিপুরা , রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে অবস্থিত “গালেংঙ্গ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এ দীর্ঘদিন ধরে অচল ও জরাজীর্ণ ল্যাট্রিনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

গত (২০ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একমাত্র ল্যাট্রিনটি বহু বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ল্যাট্রিনটির ছাদের টিন খুলে গেছে, ফলে বর্ষা মৌসুমে ভেতরে পানি জমে থাকে। দেয়ালের রং উঠে গিয়ে কাঠামোটি ভঙ্গুর অবস্থায় পরিণত হয়েছে। চারপাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল গড়ে ওঠায় এটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত স্থাপনায় রূপ নিয়েছে।

বিদ্যালয়ে ওয়াশরুমের অভাবও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য এটি মারাত্মক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যা বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বিদ্যালয়ের জন্য সরকারি বরাদ্দ এলেও তার সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, বছরের পর বছর কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উটিংশেয়ে মারমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, টয়লেট রয়েছে এবং আমি নিজেও ব্যবহার করছি। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তব চিত্র তার বক্তব্যের সাথে মিলছে না।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক উহাইনু মারমা বলেন, টয়লেটের অভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত একটি ব্যবহারযোগ্য টয়লেটের ব্যবস্থা করা হলে সবাই উপকৃত হবে।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে টয়লেট সংস্কার ও আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রামগড়ে বকেয়া টাকা চাওয়ায় দোকানদারের ওপর হামলা, দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

বাঘাইছড়ি মিনি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় দোকানের বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক দোকানদারের ওপর হামলা এবং তার দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের ছয় মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত দোকানদার মোঃ ইউনুস (২৬) জানান, গত ২১ এপ্রিল বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাদেক মিয়ার ছেলে ইদ্দিস (২০)-এর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনার জেরে ক্ষোভ থেকে শুক্রবার ভোরে ইদ্দিস তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, হামলায় আহত হয়ে তিনি রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ইউনুস নামে এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় হাসপাতালে এলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার হাতে কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইদ্দিস (পিতা সাদেক মিয়া) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রামগড় থানার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয়রা জানান তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এমন সহিংস ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

কাপ্তাইয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভেলাফা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের শুভ উদ্বোধন

বাঘাইছড়ি মিনি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি ভেলাফা পাড়া এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত ‘সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) সকালে ফিতা কাটা, বুদ্ধ পূজা, পিন্ডদান ও ধর্মসভার মাধ্যমে এই মহতি পুণ্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিহারের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পার্বত্য চট্টগ্রাম রাজ নিকায় মার্গের ৬ষ্ঠ মহা সংঘনায়ক এবং কাপ্তাই চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পামোক্ষা মহাথের।

এসময় বিহার প্রাঙ্গণে এক পবিত্র ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ​কাপ্তাই ওয়াগ্গা নোয়াপাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত পূঞঞাওয়াইন্সা মহাথেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম রাউজান ধর্মগোদা বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত ঞানাওয়াইন্সা মহাথের।

শুক্রবার সকাল ৯টায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় যুবক-যুবতীরা অতিথিদের পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করে নেন। নবনির্মিত বিহার উৎসর্গ, বুদ্ধমূর্তি দান, পিন্ডদান ও অস্টপরিষ্কার দানসহ নানাবিধ সঙ্ঘদান অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ভিক্ষুসংঘের পক্ষ থেকে হিতোপদেশ ও পবিত্র ধর্মদেশনা প্রদান করা হয়। ​পুরো আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, ভেলাফা পাড়া সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের সকল দায়ক-দায়িকা ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

নবনির্মিত এই বিহারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ ধর্মপ্রাণ নর-নারী অংশ নেন, যার ফলে বিহার প্রাঙ্গণ ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।সবশেষে বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও মঙ্গল সূত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

×