| ২৬ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪ নম্বর গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুইফ পাড়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের একটি সিসি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য (চাল) বরাদ্দের বিপরীতে বর্তমান ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রোর নামে “রুইফ পাড়া হতে ঝিড়ি যাওয়ার রাস্তা সিসি রাস্তা নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য মোট ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৪ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় কোনো ধরনের নির্মাণকাজের অস্তিত্ব নেই। সেখানে দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি গাছের সাঁকো এবং কাঁচা পাহাড়ি রাস্তা ছাড়া উন্নয়নকাজের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, পাড়ার মানুষ এই পথ ব্যবহার করে ঝিড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করেন। ঝিড়িতে পৌঁছানোর আগে একটি ছোট গাছের সাঁকো পার হতে হয়, যা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় এটি এখন “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ওই সাঁকো থেকে পড়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া পানি আনতে যাওয়া বৃদ্ধ নারীরাও প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এখন সমাজের নেতা থেকে শুরু করে অনেক জনপ্রতিনিধির ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। প্রকল্পের নামে সরকারি অফিসে কাগজপত্র দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে কাজ হয় না। অনেক সময় প্রকল্পের বরাদ্দের সুবিধাও সাধারণ মানুষ জানতে পারে না।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রো বলেন, আমার নামে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে শুনে আমি রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) সহকারী জিপঙ্করের সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে থুইসাইঅং মারমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, থুইসাইঅং মারমার সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানান, প্রকল্পের টাকা আমাকে দেওয়া হবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে সংসদ সদস্যের রুমা সফর এবং সাংগ্রাই উৎসবে অনেক ব্যয় হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঙাংরাও ম্রো বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক করেছি। আমি সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি জানাবো। কারণ এমপি মহোদয় তো মনে করবেন আমি প্রকল্পটি পেয়েছি। তিনি কাজ দেখতে এলে আমি কী জবাব দেব?

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য থুইসাইঅং মারমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার সহকর্মী বিপ্লব মারমা বলেন, ২৫ জুন কাজ শুরু করা হবে বলে কথা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার ঙাংরাও ম্রো জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ কেউ কাজ শুরু করতে আসেননি।

এ বিষয়ে রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাউছার আলী বলেন, প্রকল্পটির জন্য মোট ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হয়েছে, যাতে কাজ শুরু করা যায়। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সমাপ্তির ছবি ও প্রতিবেদন জমা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাকি ২ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হবে। নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না হলে অবশিষ্ট বরাদ্দ প্রদান করা হবে না এবং তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হলে রুইফ পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং নিরাপদে চলাচল ও পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

মানিকছড়িতে ৬০০ জন কৃষক/কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি মানিকছড়ি উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ৬০০ জন কৃষক/কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রতি কৃষকের মাঝে উফশী আমন ধান বীজ ৫ কেজি, ডিএপি সার ১০ কেজি, এমওপি সার ১০ কেজি বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেলে মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে মানিকছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক/কৃষাণীদের মাঝে বিনামূল্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক/কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভা মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জহির রায়হান সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য প্রদান রাখেন, মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান। এসময় অন্যান্য মধ্যে আরোও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী মোঃ ইয়াছিন, উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলে সভাপতি মোঃ আল ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিন হোসেন, মানিকছড়ি সদর ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ আব্দুল রাজ্জাক প্রমূখ।

আলোচনা সভা বক্তারা বলেন, পাহাড়ের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা প্রদানে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মানিকছড়িতে ১০৬ জন কৃষকের মাঝে ১২৭২০ টি বিভিন্ন জাতের আম চারা বিতরণ

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

দেশের জলবায়ু সহনশীল জীবিকা নিমার্ণের লক্ষ্যে কৃষক/কৃষাণীদের মাঝে ১২ হাজার ৭শত ২০টি বিভিন্ন জাতের আমের চারা ১০৬ জন কৃষক/কৃষাণীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেলে মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় পুরনো ভবনে মাঠের কৃষকদের হাতে তুলে দেয়া হয়। মানিকছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ উদ্যোগে বিল্ডিং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্টস লাইভলিহুডস ভালনারেবল ল্যান্ডসক্যাপস ইন বাংলাদেশ (বিসিআরএল) প্রকল্পের কৃষক মাঠ স্কুল (এফএফএস) আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন জাতের আমের চারা বিতরণ করা হয়।

বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, বিসিআরএল প্রকল্পের কম্পোনেন্ট ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ লোকমান হোসেন মজুমদার, মানিকছড়ি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ রিপন হোসেন, বিসিআরএল প্রকল্পের রাংগামাটি অঞ্চলের রিজিওনাল কো-অরডিনেটর ড. মো: আবদুল্লাহ আল-ফারুক, মানিকছড়ি উপজেলায় প্রকল্পের কনসালটেন্ট মংসাথোয়াই চৌধুরী, উপজেলা কৃষকদলে সভাপতি মোঃ আল ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিন হোসেন, মানিকছড়ি সদর ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ আব্দুল রাজ্জাক প্রমূখ।

কেপিএম স্কুল এন্ড কলেজের বেঞ্চ চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

 

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা কেপিএম স্কুল এন্ড কলেজের লোহার বেঞ্চ চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবিএম বোরহান উদ্দীন সরকার বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় এই অভিযোগটি দায়ের করেন।

​অভিযোগে মো. ইসমাইল ও মো. হাসান খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৪ জুন) কেপিএম স্কুল থেকে লোহার বেঞ্চের পাঠাতন চুরি করে পাচারের চেষ্টা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে কেপিএম নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা মালামাল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনী চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার করে।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, “বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থান থেকে সরকারি সম্পদ চুরির চেষ্টার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

×