| ৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

রুমায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

রুমায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ (বিটিকেএস) রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক, শপথ গ্রহণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রুমা সদরস্থ ত্রিপুরা কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি গর্ডেন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত ত্রিপুরা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি কলেজের প্রভাষক এবং বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ বান্দরবান জেলা শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নোহ ত্রিপুরা, সাবেক ইউপি সদস্য সাথিরাং ত্রিপুরা, ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার সভাপতি ইটেন ত্রিপুরা, মেম্বার জনমণি ত্রিপুরা, লাল বাহাদুর ত্রিপুরা, চিংলকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভে ত্রিপুরা প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পাড়ার কারবারি, ছাত্র প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব ও ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ সময় তাঁদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় করা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে নবনির্বাচিত কমিটির কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মেম্বার আন্তনি ত্রিপুরা ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের নিয়েই তিন বছর মেয়াদি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রুমার দুর্গম এলাকায় হাম প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক পরিবার

রুমায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবান রুমায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল হাসান এর দূরদর্শী পরিকল্পনায় রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাম (Measles) রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যসেবা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন—এমন তিনটি পাড়ায় এ ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।

গত (৫ আগস্ট) ২০২৬ তারিখে রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের নিয়াংক্ষ্যং পাড়া, চাইরাগ্র পাড়া ও পরুয়া পাড়ায় রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হেলেন কেলার ও তহজিংডং প্রকল্পের এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি রুমার বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ, সীমিত যাতায়াত ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও টিকাদানের আওতায় আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রতিকূল পাহাড়ি পরিবেশ ও দীর্ঘ দুর্গম পথ অতিক্রম করে মেডিকেল টিম তিনটি পাড়ায় পৌঁছে প্রায় ১৫০টি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। ক্যাম্পে রোগী পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের উপসর্গ সম্পর্কে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়। হাম প্রতিরোধে ২৪ শিশুকে এমআর টিকা চলমান হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর আওতায় ক্যাম্পে ২৪ জন শিশুকে এমআর (Measles-Rubella) টিকা দেওয়া হয়।

এ সময় অভিভাবকদের হাম রোগের লক্ষণ, সময়মতো টিকা গ্রহণের গুরুত্ব এবং শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দাগ বা হামসদৃশ কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের বিষয়ে সচেতন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুর্গম এলাকায় সরাসরি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।

ক্যাম্পে শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় ১০টি ম্যালেরিয়া Rapid Diagnostic Test (RDT) সম্পন্ন করা হয়।

এর পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে একই ক্যাম্পে চিকিৎসা, রোগ নির্ণয়, টিকাদান, পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ—সবকটি সেবা সমন্বিতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়। শিশুদের পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করা, হাম রোগের উপসর্গ দ্রুত শনাক্ত করা, জ্বর বা শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, নিরাপদ পানি ব্যবহার, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং শিশুদের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গম এলাকায় এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদানের আওতায় আনা এবং রোগ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেডিকেল ক্যাম্পের নেতৃত্ব দেন রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রুবেল মোস্তফা। তাঁর নেতৃত্বে মেডিকেল টিম মাঠপর্যায়ে রোগী পরীক্ষা, চিকিৎসা প্রদান, শিশুদের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, টিকাদান কার্যক্রম এবং ম্যালেরিয়া পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে।

কর্মসূচিতে তহজিংডং উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ইটেন ত্রিপুরা, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা, সাকমো অভিজিৎ চাকমা, জেলা EPI টেকনিশিয়ান উবামং মার্মা, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান, EPI কর্মী, স্বাস্থ্য সহকারী এবং তহজিংডং-এর CNP সদস্যরা অংশ নেন। স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা করেন ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট পাড়াগুলোর সরকারি শিক্ষকরা। দুর্গম এলাকায় জনগণকে সংগঠিত করা, ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় স্থানীয় সমন্বয়ে সহযোগিতা করেন পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

মেডিকেল ক্যাম্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে হেলেন কেলার ও তহজিংডং প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সার্বিক সহযোগিতা ছিল বলে আয়োজকরা জানান। দুর্গম জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য আয়োজকদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত প্রতিবন্ধকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের আসার অপেক্ষায় না থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গম এলাকায় গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এ ধরনের উদ্যোগকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে হামসহ সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদানের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিকতা ও সংগীতচর্চার পাশাপাশি মাস্টার্স পাস করলেন অর্ণব মল্লিক

রুমায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কৃতি সন্তান, সাংবাদিক ও শিল্পী অর্ণব মল্লিক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে অর্ণব মল্লিক কাপ্তাই উপজেলার কেপিএম এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মল্লিক ও গৃহিণী রিপু মল্লিকের সন্তান। মূলধারার সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের একজন নিয়মিত তবলাশিল্পী হিসেবেও সুনামের সাথে যুক্ত আছেন। সাংবাদিকতা, সংগীতচর্চা এবং উচ্চশিক্ষা—এই তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় নিজেকে সমানভাবে সম্পৃক্ত রেখে তাঁর এই অনন্য সাফল্য পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

নিজের এই অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে অর্ণব মল্লিক বলেন, “এই দীর্ঘ যাত্রাটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা ও সুন্দর একটি সময় ছিল। আজকের এই দিনটি দেখা সম্ভব হয়েছে কেবল আমার বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, সম্মানিত শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিনিয়ত জুগিয়ে যাওয়া অনুপ্রেরণার কারণে। আমি সকলের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ এবং আগামী দিনেও সবার ভালোবাসা ও আশীর্বাদ কামনা করি।” ​

এদিকে তাঁর এই সাফল্যে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন বিশিষ্টজন, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন বার্তায় তাঁরা বলেন, “কর্মজীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও প্রবল ইচ্ছাশক্তি, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে শিক্ষাজীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, অর্ণব মল্লিক তাঁর মাস্টার্স পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করেছেন। তাঁর এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে সক্রিয় তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণার বার্তা।”

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০০ পরিবারের পাশে জেলা পরিষদ

রুমায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টার :

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার ১ হাজার ৩০০শত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট)২৬ খ্রিঃ সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তবলছড়ি এডিসি হিলস্থ ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মোঃহাবীব আজমের বিশেষ বরাদ্দের অংশ হিসেবে এবং তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক দুর্যোগে বহু পরিবার বসতঘর হারিয়েছে, অনেকের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

তাদের তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনেই এই উদ্যোগ।ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শফিউল আজম শফি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মোঃনুরনবী-সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এসময় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার উৎস হারিয়ে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দে জেলা পরিষদ এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বক্তারা আরও জানান, শুধু ৪ নং ওয়ার্ডেই নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের মাঝে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার বঞ্চিত না হয়।

এদিকে বিপুল সংখ্যক উপকারভোগীর উপস্থিতিতেও যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে সহায়তা গ্রহণ করেন উপকারভোগীরা। এসময় তারা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, পাহাড় ধস ও বন্যার কারণে ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তির। এজন্য তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবিলাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

×