| ১০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রামে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রামে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে রবিবার (৯ আগস্ট)২৬ খ্রিঃ রাতে নগরীর রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

রাত সোয়া ৮টার দিকে শুরু হওয়া এ সভা চলে রাত ১০ঃ০০ টা পর্যন্ত। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।

দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামের সামগ্রিক সাংগঠনিক পরিস্থিতি, মহানগর ও দুই জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভূমিকা এবং দলকে আরও সুসংগঠিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে সক্রিয় করার পাশাপাশি সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা দেন।

দলীয় কর্মকাণ্ড যেন শুধু কেন্দ্রীয় বা মহানগর পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে নেতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংগঠনকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সাংগঠনিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়।

সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংগঠনিক এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। কোথাও সংগঠনের কার্যক্রমে দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের নিজ নিজ সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

চট্টগ্রামে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়েও নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তারেক রহমান।
এসব সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি মূল দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, সভায় চট্টগ্রামকে বিএনপির সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এর আগে দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে রোববার চট্টগ্রামে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেলে হেলিকপ্টারে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়িতে পৌঁছান তিনি।
সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন তিনি।
হাটহাজারী কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবস্থাপনা এবং বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক সভায় অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

রাত ১০টা ২০ মিনিটের সময় নগরীর রেডিসন ব্লু থেকে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার পথে যাত্রা করেন।

রাত সোয়া ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম সফরের শেষ মুহূর্তের এই সাংগঠনিক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল বার্তা ছিল-দলকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও তৃণমূলমুখী করে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং নেতাকর্মীদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা।

​নদী ভরাট ও বন উজাড়ের কারণে বন্যার তীব্রতা বাড়ছে: ইউপি চেয়ারম্যান

চট্টগ্রামে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙামাটি :

​রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিলফ্লাওয়ারের উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ৩ নম্বর ফারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যা লাল তঞ্চঙ্গ্যা। এতে উপস্থিত ছিলেন ফারুয়া ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ তঞ্চঙ্গ্যা, হিলফ্লাওয়ারের পিআরএলসি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী জ্যোতি বিকাশ চাকমা, সাংবাদিক সত্রং চাকমা ছাড়াও স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। সভার শুরুতে জ্যোতি বিকাশ চাকমা সম্প্রতি ফারুয়ায় সৃষ্ট বন্যা ও দুর্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হিলফ্লাওয়ারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস তুলে ধরেন।

ক্ষয়ক্ষতি কমেছে, তবে বন্যার রূপ আগ্রাসী সভাপতির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যা লাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘২০২৩ সালের তুলনায় এবারের বন্যায় ফারুয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে। এলাকার মানুষ দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতন থাকায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।’

তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে বন্যা হলেও তা এতটা ক্ষতিকর ছিল না। কিন্তু বর্তমানের বন্যা অনেক বেশি ভয়ংকর ও আগ্রাসী রূপ নিচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি মূলত তিনটি বিষয়কে দায়ী করেন: রাইখিয়াং নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া। নির্বিচারে বন উজাড় করা। ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় এলাকার লোকজনকে আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রকল্পের নেপথ্যে :

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) সহযোগিতায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে সহনশীল জীবিকার জন্য সহায়তা (পিআরএলসি)’ প্রকল্পটি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করছে হিলফ্লাওয়ার। বর্তমানে প্রকল্পটি বিলাইছড়ি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন—বিলাইছড়ি সদর, কেংড়াছড়ি ও ফারুয়ায় কাজ করছে।

চিৎমরমে দুই বছর ধরে ঝুঁকির মুখে ৩৫ পরিবার। 

চট্টগ্রামে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩নং চিৎমরম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বটতলী দুর্গম পাড়ায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা ও বসতঘরের ওপর ভেঙে ও হেলে পড়ে আছে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের খুঁটি ও সংযোগ তার। এতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চরম আতঙ্ক ও মরণ ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অন্তত ৩৫টি পরিবার।

​রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার প্রধান সড়কের মাঝেই অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে পড়ে রয়েছে ১১ কেভি ভোল্টের সঞ্চালিত বৈদ্যুতিক তার। এছাড়া বেশ কয়েকটি বসতঘরের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে ও ভেঙে পড়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

​স্থানীয় বাসিন্দা ক্যাউথোয়াই চিং মারমা ও আদোমা মারমা অভিযোগ করে জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরাজীর্ণতার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ও তার ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই খুঁটিগুলো মাটিতে ও ঘরের চালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করা হলেও তাঁরা কেবল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন, নেননি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী লাইনটি ঠিক করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। সেই চাহিদা পূরণ না করায় পরবর্তীতে তারা আর কোনো খোঁজ নেয়নি।

​অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দা মানু মারমা ও উসুই থোয়াই মারমা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি গবাদিপশু (গরু-ছাগল) মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশুসহ পুরো পাড়ার মানুষ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

​কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিৎমরমের স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই মং মারমা বলেন, কিছুদিন পূর্বে বটতলী এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানাই। ওই এলাকার মানুষ অত্যন্ত হতদরিদ্র হওয়ায় নিজ দায়িত্বে বিদ্যুৎ সংস্কার করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। অর্থের জোগান দিতে না পারায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো সংস্কার কাজ করেনি।

​এ বিষয়ে কাপ্তাই বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর অধীনস্থ কেউ আমাকে অবগত করেনি। তবে খুব দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিলাইছড়িতে দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশে কৃষি জরিপ করতে হাঁপিয়ে যাচ্ছেন কৃষি অফিসাররা।।

চট্টগ্রামে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ:-

পাহাড়ে কৃষি বিষয়ক তথ্য বা কৃষি জরিপ করতে গিয়ে চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ কারীদের। যাদের অভ্যাস নেই তারা হাপিঁয়ে যাচ্ছেন। রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় কৃষি অফিসের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের সঙ্গে কিছু এলাকায় গিয়ে জানতে পারি। প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ছড়ার উচ্ছ্বসিত স্রোত, পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ,  নেই যানবাহন, নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক।

এমন প্রতিকূল পরিবেশেও কাঁধে ব্যাগ, হাতে কাগজপত্র ও  মোবাইল নিয়ে কৃষকের বাড়ির পাহাড়ী পথে হাঁটছেন উপ-সহকারী কৃষি  অফিসাররা। ১৮০০-২০০০ ফুঁট পর্যন্ত পাহাড়ে চূড়ায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।

কারণ কৃষকের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা তাদের সরকারি দায়িত্ব। দেশের কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে ওঠে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ওপর। সেই তথ্য সংগ্রহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উপসহকারী কৃষি অফিসাররা।

দুর্গম পাহাড়, নদী, খাল, ছড়া, কাদা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে তারা প্রতিদিন কৃষকের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে একটি গ্রামে পৌঁছাতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বৈরী আবহাওয়াও তাদের দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। পথহারা পথিক হয়ে পড়েন। সমতল হতে পাহাড়ে।পাহাড় হতে পাহাড়ে।

বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে এই ‘দায়িত্ব আরও কঠিন। কোথাও নৌকায়, কোথাও মোটরসাইকেলে, আবার কোথাও দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হয়। পাহাড় ধস, দুর্ঘটনা, সাপ বা বন্য প্রাণীর ঝুঁকি সবকিছুর মধ্যেও তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই কঠিন দায়িত্ব পালনে নেই কোন পর্যাপ্ত সরকারি লজিস্টিক সহায়তা বা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ। যাতায়াত, জ্বালানি, নৌকা ভাড়া, মোবাইল ও ইন্টারনেট খরচসহ নানা ব্যয় নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। অথচ এসব তথ্যের ভিত্তিতেই কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সহায়তা এবং জাতীয় কৃষি পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ।

একাধিক উপসহকারী কৃষি অফিসার জানান, “সরকারি দায়িত্ব মনে করেই আমরা সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে কৃষকের কাছে যাই। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা অনেক কঠিন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও সেই ঝুঁকির তুলনায় আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাই না। বর্তমানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ধাপে ধাপে একটি একটি করে ব্লকের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ করছেন।

এর ফলে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিজের নির্ধারিত ব্লকের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও যেতে হচ্ছে।বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময়, শ্রম ও অর্থ তিনটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে।একজন কর্মকর্তাকে বারবার দূরবর্তী এলাকায় যেতে হওয়ায় যাতায়াত খরচ, সময়ের অপচয় এবং দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এক্ষেত্রে যদি যে ব্লকের দায়িত্বে যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন, তাকে শুধুমাত্র তার নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি তার এলাকার কৃষকদের সম্পর্কে অধিকতর ভালোভাবে জানেন এবং দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের   ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে,সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হবে,দুর্গম এলাকায় বারবার যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে,কৃষকের তথ্য আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে,প্রত্যেক কর্মকর্তা নিজ নিজ ব্লকের কাজের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে পারবেন,একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সহজ হবে।

অতএব, কৃষক তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্লকভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিজ নিজ ব্লকের কাজ সম্পাদনের সুযোগ দেওয়া হলে অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল, কার্যকর ও সুশৃঙ্খল হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তারাই কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার প্রাণ। তাদের সংগ্রহ করা তথ্য ছাড়া কৃষি খাতের সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত যাতায়াত ভাতা, আধুনিক সরঞ্জাম এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজের জন্য বিশেষ ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে যারা নীরবে কাজ করে চলেছেন, তাদের কষ্ট ও ত্যাগ যেন আড়ালেই থেকে যায়। রাষ্ট্রের উচিত এই নীরব যোদ্ধাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা এবং  দায়িত্ব  পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। কারণ, মাঠে উপসহকারী কৃষি অফিসারদের পদচারণা যত শক্তিশালী হবে, দেশের কৃষি ততই সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষক পাবেন আরও কার্যকর সরকারি সেবা ।

কৃষি অফিসার রাজেশ প্রসাদ রায় এবং ওমর ফারুক জানান, নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের জন্য নিয়মিত  দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে সমতলের তুলনায় পাহাড়ে এভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং  চ্যালেন্জিং।এতে তথ্য সংগ্রহ করতে ও দিতে  অসুবিধায় পড়েন মাঠ সংগ্রহের পাশাপাশি কৃষকরা। বাড়িতে গেলে একসাথে তাদের পাওয়া যায়না। একজন থাকলে আরেকজন থাকে না। স্বামী থাকলে স্ত্রী থাকেননা। কয়েকবার যেতে হয়। বার বার যেতে হয়।

স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা জানান, সবার মতামতের ভিত্তিতে একটা সুবিধাজনক স্থানে করলে সবার সুবিধা হয়।এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

×