| ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধিঃ

রাঙামাটির রাজস্থলীর এক সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়েটি খই খই সাই মারমা আজ বাংলাদেশের টেবিল টেনিস ইতিহাসে নতুন আলো ছড়িয়েছেন। পাহাড়ের বুকে জন্ম নেওয়া এই মেয়েটির গল্প যেন স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সাফল্যের এক অসাধারণ যাত্রাপথ। রাজস্থলীর দুর্গম চুশাক পাড়ার ছোট্ট কোয়ান্টাম স্কুলের হলরুমে প্রথম র্যাকেট ছোঁয়া ছোট্ট মেয়েটি আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে তুলেছেন। ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জিতে তিনি প্রমাণ করেছেন—দারিদ্র্য, সীমিত সুযোগ আর কঠিন পরিবেশ কখনোই বড় স্বপ্নকে থামাতে পারে না। কিন্তু তাঁর সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে আরও কঠিন বাস্তবতা—চরম রাস্তার দুর্ভোগ।

চুশাক পাড়া থেকে রাজস্থলী সদর কিংবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেতে তাঁর প্রতিদিনই পাড়ি দিতে হয়েছে ভাঙাচোরা, পাথুরে পথ, বর্ষায় হাঁটু-ডোবা কাদা রাস্তা, আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। অসুস্থকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো রাস্তা নেই, কারো প্রয়োজনে মাইলের পর মাইল হেঁটে নামতে হয়। এই দুর্ভোগই ছিল খই খইয়ের প্রতিদিনের বাস্তবতা। কিন্তু তিনি থামেননি।

চুশাক পাড়ার বাসীরাে বলেন—“আমরা চোখের সামনে দেখেছি, মেয়েটা কীভাবে এই রাস্তায় হেঁটে হেঁটে স্কুলে গেছে, আবার প্রশিক্ষণও নিয়েছে। বর্ষায় তো রাস্তায় কাদা কোমর পর্যন্ত উঠে যায়। তবুও খই খই একদিনও হাল ছাড়েনি। আজ আমাদের পাড়ার নাম সে বিশ্বে তুলে ধরেছে—এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

স্থানীয় যুবক উথোয়াইহ্লা মারমা বলেন—“সরকার যদি একটু এই রাস্তাটা করে দিত, খই খইয়ের মতো আরও ছোটরা উঠে আসতে পারত। খই খই আমাদের আশা, আমাদের অনুপ্রেরণা।

খই খইয়ের মা মোহ্লাচিং মারমা গর্ব ও কান্না জড়িত স্বরে বলেন, “আমরা দরিদ্র পরিবার। ঠিকমতো জামা কিনে দিতে পারিনি, র্যাকেটও কখনো নতুন দিতে পারিনি। কিন্তু মেয়েটা বলত—‘মা, আমি একদিন কিছু না কিছু হবো।’ এই রাস্তায় পড়ে গিয়েও উঠেছে, কাদার ভেতর দিয়ে গেছে। আজ যখন রুপার পদক গলায় ঝুলাইতে দেখি, তখন মনে হয়—মেয়েটার সব কষ্ট সফল হলো।”

 

খই খইয়ের বড় বোন হ্লাহ্লাউ মারমা বলেন—“আমরা চাইতাম ও পড়াশোনার পাশাপাশি খেলায়ও এগিয়ে যাক। কিন্তু রাস্তাঘাটের অবস্থার কারণে ওকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল সবসময়। প্রতিদিন দেরি করে ফিরত। তবুও খই খইয়ের মনোবল এত শক্ত ছিল যে কিছুতেই তাকে থামানো যেত না। আজ তার অর্জনে পুরো পরিবার গর্বিত।”

 

চুশাক পাড়া কারবারি উনুমং মারমা বলেন—“খই খইয়ের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়; এটি পুরো বাংলাদেশ এবং আমাদের রাজস্থলীর গর্ব। এই এলাকা থেকে কেউ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন সাফল্য এনে দেবে—এটা ভাবতেই পারিনি। তবে আমরা চাই সরকার জরুরিভাবে আমাদের রাস্তাটির দিকে নজর দিক। রাস্তা ঠিক হলে আরও অনেক প্রতিভা উঠে আসবে। খই খই এই এলাকার একটি আলোকবর্তিকা।” খই খইয়ের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণ নয়, এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন— “প্রতিভা যদি সুযোগ পায়, পাহাড়ের দুর্গম পথও একদিন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়।” কোয়ান্টাম স্কুলের সাদামাটা হলরুমে প্রতিদিনের অনুশীলন, সহপাঠীদের উৎসাহ, শিক্ষকদের পরামর্শ—সবকিছু মিলেই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তাঁর কোচ বলেন— “খই খই এমন এক খেলোয়াড়, যাকে যত কষ্টই আসুক, সে থামে না। রাস্তাঘাটের সমস্যা, দারিদ্র্য—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। ভবিষ্যতে সে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় কিছু করবে।”

রুপার পদক হাতে খই খই বলেন—“আমার যাত্রা সহজ ছিল না। গ্রামের রাস্তাগুলো বর্ষায় ভয়ংকর হয়ে যায়। কতদিন পড়ে গেছি, কতদিন হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা করেছে। কিন্তু আমি কখনো থামতে চাইনি। দেশের জন্য আরও ভালো ফল আনতে চাই। আমার গ্রামের রাস্তাগুলো ঠিক হলে আমি বিশ্বাস করি—আমার মতো আরও মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে আসবে।” খই খই সাই মারমার রুপালি অর্জন শুধু তাঁর একার নয়—এটি পাহাড়ি জনপদের সংগ্রাম, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। হাসিমুখে ঝুলে থাকা সেই রুপার পদক যেন পুরো রাজস্থলীকে নতুন করে জানান দেয়— “অদম্য ইচ্ছা থাকলে ভাঙাচোরা রাস্তা, কাদা কিংবা দারিদ্র্য—কোনো কিছুই পাহাড়ি মেয়ের স্বপ্ন থামাতে পারে না।” দুর্গম রাজস্থলীর ছোট্ট মেয়েটি আজ বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা উড়িয়েছে—এটাই নতুন ইতিহাস।

আলীকদমে শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে রিজিয়ন কমান্ডারের মতবিনিময়

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।

‎ শনিবার (২০ জুন) আলীকদমের মুরুং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ সভায় পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং মুরুং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

‎সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম।

‎এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

‎সভায় জানানো হয়, বর্তমানে মুরুং কমপ্লেক্সের ছাত্রাবাসে ১২৪ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে আবাসনের সুযোগ দিতে ছাত্রাবাসের ধারণক্ষমতা ২০০ থেকে ২৫০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন রিজিয়ন কমান্ডার।

‎এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত দুইজন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হলে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় কুরুকপাতা ইউনিয়নে নতুন একটি মুরুং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন,“শিক্ষাই পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

‎সভায় বক্তারা মুরুং জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও জীবনমান উন্নয়নে মুরুং কমপ্লেক্সের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এর অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎বক্তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে আলীকদম জোন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মুরুং কমপ্লেক্স সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষে সফলতা অর্জন রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষে সফলতা অর্জন করেছে পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। দীর্ঘ গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

জানা গেছে, রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা চাষ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শুরুতে বিষয়টি গবেষকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ সমতল এলাকার তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় এ ফলের চাষ উপযোগী করা সহজ ছিল না। তবে নিরলস গবেষণা, উন্নত পরিচর্যা পদ্ধতি ও উপযোগী জাত নির্বাচন করে গবেষকরা ধীরে ধীরে সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে গবেষণা কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক বাগানে উৎপাদিত আলুবোখারা গাছে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক ফল চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে গবেষণা কেন্দ্র। আলুবোখারা চাষ সফল হওয়ায় পাহাড়ি কৃষকদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “পাহাড়ি মাটিতে আলুবোখারা (বারি ১) চাষ একসময় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দীর্ঘ গবেষণা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা সফলতা পেয়েছি। এখন পাহাড়ি এলাকার কৃষকরাও এ ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে আলুবোখারা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় বহুমুখী ফল চাষের সম্ভাবনাও আরও বিস্তৃত হবে।

রাশিয়ায় ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন রামগড়ের মেধাবী তরুণ ফারহান

দুর্গম রাজস্থলী থেকে রুপালী গৌরব—চরম রাস্তার দুর্ভোগ পেরিয়ে খই খই সাই মারমার এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার কৃতী সন্তান এসানুল বারী ফারহান রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য মর্যাদাপূর্ণ ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষাঙ্গন ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ফারহান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অবস্থিত মস্কো পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এমপিইআই)-এ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। স্কলারশিপের আওতায় তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাসিক ভাতা ও অন্যান্য শিক্ষা-সুবিধা পাবেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির জন্য ইতোমধ্যে তাঁর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বর মাসে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে জানা গেছে।

ফারহান রামগড় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গর্জনতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মাওলানা এমদাদুর রহমান ও আলেমা হাছিনা আক্তারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। ২০০৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী ফারহান শৈশব থেকেই মেধাবী ও অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছিলেন।

তাঁর সেই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ রাশিয়ার অন্যতম স্বনামধন্য প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করেছেন। ফারহানের এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন নিঃসন্দেহে একটি গৌরবজনক ঘটনা। এটি রামগড়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ফারহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় সংকল্পই তাকে এ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। তারা সকলের কাছে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করেছেন, যাতে তিনি সফলভাবে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

×