বৌদ্ধ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও রাতব্যাপি সাংস্কৃতিক অনুষ্টান
সিএইচটি বার্তা ডেস্ক :
হাজার হাজার মানুষ উৎসবের পোশাকে রঙিন পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে পথে নেমেছে। সবার মুখে আনন্দের হাসি। ছবিতে আদিবাসী নারীরা নীল, লাল এবং সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরছেন। পুরুষরা গায়ে ধুতি এবং মাথায় পাগড়ি বেঁধেছেন। সবার গায়েই অলঙ্কার দেখা যাচ্ছে। র্যালিতে নানা ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজানো হচ্ছে।

কেউ গানে গানে কেউবা নেচে গেয়ে, আর কেউবা বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মেতেছেন অসংখ্য তরুন-তরুনী, কিশোর-কিশোরীরা। যেমন: মন্দিরা, ঝাঝঁ, ঢাক ইত্যাদি। অনেকে বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করছেন। প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার: ছবিটির মাঝখানে বড় বড় প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যাচ্ছে। সেখানে লেখা আছে- ”বিজু উৎসবের শুভেচ্ছা” ”ফুল বিজু, মূল বিজু, গোজ্যেপজ্যে- সবাইকে জানাই ভালোবাসা” ”১২ তারিখ ফুল বিজু, ১৩ তারিখ মূল বিজু, ১৪ গোজ্যেপজ্যে” ”বিজু র্যালি – ২০২৬ পুরো রাস্তা মানুষে ভরে গেছে।

বৈসাবির শোভাযাত্রায় অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার দিপু, কাউখালী ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান, বিএনপি নেতা অর্জুন মনি চাকমা, বৌদ্ধ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি পূর্ণ্যধন চাকমা, ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চন্দ্রা দেওয়ান, বিএনপি নেতা বিমল চাকমা সহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ সহ ঘাগড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।

রাস্তার দু’পাশে বাড়ির ছাদ এবং বারান্দা থেকেও মানুষ র্যালি দেখছে। উৎসবের আনন্দ পুরো পরিবেশকে মুগ্ধ করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: ছবিটির ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে সুন্দর পাহাড় এবং নদী। বিজু উৎসবের সময় প্রকৃতির রূপ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। সবার মুখে উজ্জ্বল হাসি এবং চোখে আনন্দের উচ্ছ্বাস। এই ছবিটি দেখলে বিজু উৎসবের আনন্দ এবং ঐতিহ্য মনে গেঁথে যাবে। ছবিটি তৈরি করতে আধুনিক ছবি তৈরির সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎসবের ছবি এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ছবিগুলি একসাথে করে এই সুন্দর ছবিটি তৈরি হয়েছে।

বিজু উৎসব মূলত তিনদিনের উৎসব। প্রথমদিন হলো ‘ফুল বিজু’। এই দিনে মানুষ ঘর-বাড়ি সাজায় এবং ফুল দিয়ে পূজো করে। দ্বিতীয় দিন হলো ‘মূল বিজু’। এই দিনে বড় ধরণের উৎসব এবং র্যালি হয়। তৃতীয় দিন হলো ‘গোজ্যেপজ্যে’। এই দিনে মানুষ বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এভাবে বিজু উৎসবের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা। অসেকে বন্ধু-বান্ধবদের সবাইকে অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আজ ১০ এপ্রিল শুক্রবার রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বৌদ্ধ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে এবং ঘাগড়া এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় আদিবাসীদের সার্বজনীন ভাবে দিনব্যাপী ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে বৈসাবির শোভাযাত্রা। এ উপলক্ষে সকালে বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গন থেকে একটি শোভাযাত্র বের করে ঘাগড়া এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে এসে সমাপ্তি ঘটে। এ লক্ষে দিনব্যাপী পাহাড়িদের সামাজিক রীতিনীতিতে ঘিলা খেলা, দৌড়, রশি টানাটানি, বলি খেলা সহ নানাধরনের খেলা আয়োজন করা হয়। এরপর বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় শিল্পী ও অতিথি শিল্পীদের একটি নাচ, গানের ডিসপ্লে প্রদর্শনী করা হয়। পরে বৈসাবি শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বৈসাবির পাহাড়িদের পাজন পরিবেশন করা হয়। এবং বিকেলে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সন্ধ্যা থেকে রাতব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্টান আয়োজন করা হয়েছে।
