বলি বাজার হতে ক্যচুক পাড়া সড়ক বেহাল, চরম দুর্ভোগে ১০/১২ হাজার মানুষ
মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমা ও থানছি উপজেলার সংযোগ সড়ক বলি বাজার থেকে ক্যচুক পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার ইটের সলিং (এইচবিবি) রাস্তার বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ ২ থেকে ৩ বছর আগে নির্মিত এ সড়কটি এখনো পাকা বা পিচঢালাই না হওয়ায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রায় ১০-১২ হাজার মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে ক্যচুক পাড়া, আদিগা পাড়া, সত্যিচন্দ্র পাড়া, বিশায়চন্দ্র পাড়া, বলি পাড়া মিশন, হেডম্যান পাড়া, জিগন পাড়া, মুগহা পাড়া, লহ পাড়া, নিশি পাড়া, বাসিরাং পাড়া, তিল পাড়া, চিংলোক পাড়া ও সাথীরাং পাড়াসহ আশপাশের শতাধিক গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ জায়গায় ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইটের অস্তিত্ব নেই—শুধু কাদা ও অসমতল মাটি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে ট্রাক, ভ্যান, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও বোলেরো গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইটের সলিং করার পর থেকে আর কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি। এতে সড়কটি এখন একপ্রকার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ক্যচুক পাড়ার বাসিন্দা মং এথোয়াই মার্মা বলেন, রাস্তাটির বেহাল অবস্থা বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুত পিচঢালাইয়ের দাবি জানাচ্ছি। এলাকায় একাধিক সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও খারাপ সড়কের কারণে শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারছেন না, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। একইসঙ্গে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে উঠেছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে কাঁধে বহন করে বাজারে আনতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের করুণ অবস্থার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুমচাষী ও বাগান মালিকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্যচুক পাড়ার সাবেক ইউপি সদস্য ক্যচিংঅং মার্মা বলেন, ইটের সলিং রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না করলে বর্ষায় সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত টেকসই পিচঢালাই সড়ক নির্মাণ জরুরি।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পিচঢালাই বা কার্পেটিংয়ের আওতায় এনে চলাচলের উপযোগী করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।











