| ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

বন্যায় বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন শওকত আলীর; পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা

বন্যায় বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন শওকত আলীর; পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা


‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বসতবাড়ি হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন শওকত আলী। প্রবল স্রোতে তার একমাত্র বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

‎জানা গেছে, শওকত আলীর বাড়ি বাঘাইছড়ি পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মুসলিম ব্লক গুচ্ছগ্রামে। সাম্প্রতিক বন্যার তীব্র স্রোতে তার বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় মালামাল ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রও পানিতে ভেসে বা নষ্ট হয়ে যায়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

‎শওকত আলী বলেন, “বন্যায় আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে এখন খুব কষ্টে আছি। মাথা গোঁজার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে আবার নতুন করে ঘর নির্মাণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শওকত আলীর পরিবার বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

‎এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা শওকত আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা আবার একটি নিরাপদ আশ্রয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

বান্দরবানে বন্যার মাঝেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা: প্রকৌশলী সৈয়দ মো আমির হোসেন।

বন্যায় বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন শওকত আলীর; পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা

মো. আলম; বান্দরবান সংবাদদাতা:

প্রকৃতির রুদ্ররূপ বন্যা কবলিত করেছে বান্দরবানের জনজীবন। পাহাড়ি ঢল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর দুর্যোগের মধ্যেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগ। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বিদ্যুৎ সেবা স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিভাগের কর্মীরা।

বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল নেতৃত্বে বন্যার পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত, সাব-স্টেশন সচল রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠে ছিলেন পুরো টিম।

এই সাফল্যের পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন।

বন্যার শুরু থেকেই তিনি নিজে মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করেছেন। কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে হলেও বিদ্যুৎ লাইন চালু রাখার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে যখন চারদিক অন্ধকার হয়ে যাওয়ার কথা, তখনও বিদ্যুৎ বিভাগের দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও ঘরবাড়িতে আলো ছিল। এজন্য তারা প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন ও তার টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের এমন পেশাদারিত্ব ও মানবিক সেবা দুর্যোগের সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেনের নেতৃত্বে বিভাগ যে সেবার নজির স্থাপন করল, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের পাশে তাঁতী দল নেতা আফসার উদ্দিন

বন্যায় বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন শওকত আলীর; পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাপ্তাই উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি আফসার উদ্দিন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া প্রায় ২৫০ জন মানুষের মাঝে আজ দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি উন্নতমানের খাবার বিতরণ করেছেন। ​

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে এসব খাবার বিতরণ করা হয়। পাহাড় ধসের ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে এই উদ্যোগ নেন তিনি। ​খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হারুনুর রশিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইমাম উদ্দিন, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,মহিউদ্দিন সওদাগর ও শাহজালাল চৌধুরী। ​ত্রাণ বিতরণের সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ​

আয়োজক আফসার উদ্দিন বলেন, “দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আমাদের সহায়তার হাত অব্যাহত থাকবে।” ​নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এই মানবিক সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিত্তবানদের এমন সংকটে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকায়  পৌঁছে গেছে মেডিকেল টীম

বন্যায় বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন শওকত আলীর; পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা কামনা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে একটি মেডিকেল টীম পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত।

রবিবার (১২ ই জুলাই) ইউএনও মো. জাকির হোসেন এরঁ  নির্দেশে এই টীম পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, মেডিকেল অফিসার ডা. রনি সরকারের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টীম ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা ও ফারুয়া বাজার ও গোয়াইছড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে ভাসমান মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে বা হবে।

সিনিয়র নার্স প্রবীর তঞ্চঙ্গ্যা’র স্টারলিং এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ১১০ জনকে সেবা দিয়েছেন, বেশিরভাগ জ্বর ও চর্ম রোগী।তাদেরকে সহযোগিতা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের অসীম চাকমা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এবং সবসময় পাশে রয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি,হেডম্যান – কার্বারী ও সুশীল সমাজ।

×