| ১২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের পাশে তাঁতী দল নেতা আফসার উদ্দিন

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের পাশে তাঁতী দল নেতা আফসার উদ্দিন

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাপ্তাই উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি আফসার উদ্দিন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া প্রায় ২৫০ জন মানুষের মাঝে আজ দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি উন্নতমানের খাবার বিতরণ করেছেন। ​

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে এসব খাবার বিতরণ করা হয়। পাহাড় ধসের ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে এই উদ্যোগ নেন তিনি। ​খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হারুনুর রশিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইমাম উদ্দিন, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,মহিউদ্দিন সওদাগর ও শাহজালাল চৌধুরী। ​ত্রাণ বিতরণের সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ​

আয়োজক আফসার উদ্দিন বলেন, “দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আমাদের সহায়তার হাত অব্যাহত থাকবে।” ​নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এই মানবিক সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিত্তবানদের এমন সংকটে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বান্দরবানে বন্যার মাঝেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা: প্রকৌশলী সৈয়দ মো আমির হোসেন।

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের পাশে তাঁতী দল নেতা আফসার উদ্দিন

মো. আলম; বান্দরবান সংবাদদাতা:

প্রকৃতির রুদ্ররূপ বন্যা কবলিত করেছে বান্দরবানের জনজীবন। পাহাড়ি ঢল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর দুর্যোগের মধ্যেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগ। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বিদ্যুৎ সেবা স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিভাগের কর্মীরা।

বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল নেতৃত্বে বন্যার পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত, সাব-স্টেশন সচল রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠে ছিলেন পুরো টিম।

এই সাফল্যের পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন।

বন্যার শুরু থেকেই তিনি নিজে মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করেছেন। কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে হলেও বিদ্যুৎ লাইন চালু রাখার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে যখন চারদিক অন্ধকার হয়ে যাওয়ার কথা, তখনও বিদ্যুৎ বিভাগের দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও ঘরবাড়িতে আলো ছিল। এজন্য তারা প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন ও তার টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের এমন পেশাদারিত্ব ও মানবিক সেবা দুর্যোগের সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেনের নেতৃত্বে বিভাগ যে সেবার নজির স্থাপন করল, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকায়  পৌঁছে গেছে মেডিকেল টীম

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের পাশে তাঁতী দল নেতা আফসার উদ্দিন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে একটি মেডিকেল টীম পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত।

রবিবার (১২ ই জুলাই) ইউএনও মো. জাকির হোসেন এরঁ  নির্দেশে এই টীম পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, মেডিকেল অফিসার ডা. রনি সরকারের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টীম ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা ও ফারুয়া বাজার ও গোয়াইছড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে ভাসমান মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে বা হবে।

সিনিয়র নার্স প্রবীর তঞ্চঙ্গ্যা’র স্টারলিং এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ১১০ জনকে সেবা দিয়েছেন, বেশিরভাগ জ্বর ও চর্ম রোগী।তাদেরকে সহযোগিতা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের অসীম চাকমা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এবং সবসময় পাশে রয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি,হেডম্যান – কার্বারী ও সুশীল সমাজ।

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় রুমা কার্যত বিচ্ছিন্ন, আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের পাশে তাঁতী দল নেতা আফসার উদ্দিন

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত বৃষ্টি, পাহাড় ধস এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে মুননাম পাড়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও মাটি সরে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একইভাবে রুমা–বগালেক–কেওক্রাডং সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গত ৮ জুলাই থেকে রুমা–বান্দরবান সড়কও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন অংশে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জেলা সদরের সঙ্গে রুমার সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত শনিবার থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে সচল হলেও এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। কবে নাগাদ সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। টানা ছয় দিনের বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা বলেন, টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসে জুমচাষ ও বিভিন্ন ফলবাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

রুমা বাজারের মারমা লাইনে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী বাসন্তী দাস জানান, গত ৭ জুলাই রাত থেকে তার ভাড়া বাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। কবে নিজের ঘরে ফিরতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। একই এলাকার বাসিন্দা মেচিংথুই জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তিনি নিজের ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ করছেন। তিনি বলেন, ঘর ডুবে যাওয়ার সময় টানা দুই দিন কোনো খাবার খেতে পারেননি।

এদিকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রুমা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

×