শিরোনাম:

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সকল মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন —- সাজাই মং মারমা

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সকল মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন —- সাজাই মং মারমা

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেশ ও দেশের বাহিরে থাকা সকল মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন সাজাই মং মারমা সিনিয়র সহ-সভাপতি, কাউখালী উপজেলা বিএনপি, এবং সদস্য, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি।

তিনি আরো বলেন যাদের শ্রমে এই দেশ আজ সাফল্যে মহিমান্বিত তাদের প্রতি রইল অন্তর থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। পহেলা মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যা শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং ৮ ঘন্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

১৮৮৬ সালের ১ মে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়। মে দিবস মনে করিয়ে দেয় শ্রমিকদের ঘামেই সমাজের অগ্রগতি। তারা আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। মে দিবসের চেতনা হলো সমাজের শ্রেণী বৈষম্য ও শোষণের বেড়াজাল ভেঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের শৃংখল মুক্তি। মহান মে দিবস অন্যায়, জুলুম, ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার মনে করিয়ে দেয়। আজকের এই দিনে বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংগ্রামী সালাম।

তিনি শেষে আরো বলেন শ্রমিক মালিক ঐক্য গড়ি, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি, মে দিবস দিচ্ছে ডাক মালিক শ্রমিক বৈষম্য নিপাত যাক।

বাঘাইছড়িতে মে দিবস পালিত

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সকল মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন —- সাজাই মং মারমা

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত আসবে এবার নবপ্রভাত”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলন আয়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি, বাঘাইছড়ি; থানা অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন মজুমদার; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর আলম; উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী এবং সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম জাবেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

সভায় বক্তারা মহান মে দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন,এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক গৌরবময় দিন। ১৮৮৬ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা (৮ ঘণ্টা কর্মদিবস), কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিই এই দিনের মূল প্রতিপাদ্য। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে শ্রমজীবী মানুষের অবদান গুরুত্বপূর্ণ , তাই তাদের অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বক্তারা আরও বলেন, মে দিবস শুধু স্মৃতিচারণের দিন নয়—এটি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, কাজের পরিবেশব্যবস্থা কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা জোরদার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা। সরকারসহ সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও উৎপাদনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ওপর জোর দেন বক্তারা।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাঘাইছড়িতে মে দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

শিক্ষার আলোহীন সিতা পাহাড় ; জীর্ণ ঘরে চলে পাঠদান, সাথে বিশুদ্ধ পানির তীব্র হাহাকার

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সকল মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন —- সাজাই মং মারমা

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​পাহাড়ের বুক চিরে প্রতিদিন সূর্য ওঠে, আবার পাহাড়ের আড়ালেই তা হারিয়ে যায়। কিন্তু রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের অতি দুর্গম নারানগিরি সিতা পাহাড় এলাকার চিত্রটি ভিন্ন। এখানে শতাধিক মারমা পরিবারের শিশুদের ভাগ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছানোর আগেই যেন সন্ধ্যার আঁধার নেমে আসছে। কাপ্তাই উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্ব হলেও, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া থেকে আজও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এই জনপদ। নেই কোনো গাড়ি যাতায়াত ব্যবস্থা, নেই সুপেয় পানির নূন্যতম নিশ্চয়তা।

উঁচু-নিচু পাহাড় আর বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এই এলাকা থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ‘পায়ে হাঁটা’। যাতায়াতের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পক্ষে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হেঁটে শিক্ষা গ্রহণ করা কার্যত অসম্ভব। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী এবং চরম অসচ্ছল। পেটের দায়ে যুদ্ধ করা এসব মানুষের কাছে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এখন বিলাসিতা মাত্র।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ‘সংগ্রাম’ নামক একটি এনজিও সংস্থা এই দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলটি ছিল এই শিশুদের একমাত্র ভরসা। জেলা পরিষদের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৫ বছর আগে স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জীর্ণ ও পরিত্যক্ত বেড়ার ঘরটি অচল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষকরাও স্কুল বন্ধ হওয়ার পর আর এলাকায় ফেরেননি। বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ায় যখন শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তখন আশার প্রদীপ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুব সমাজ। জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভাঙা স্কুল ঘরটিতেই এলাকার শিক্ষিত তরুণ অংসাচিং মারমা ও তরুণী সাইনুচিং মারমা নিজেদের উদ্যোগে শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো বেতন বা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কেবল শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই অসাধ্য সাধন করছেন তারা।

তাদের স্পষ্ট কথা— “প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়া আমাদের জনপদের উন্নতির কোনো বিকল্প নেই। তাই কষ্ট হলেও আমরা হাল ছাড়িনি।” শিক্ষার অভাবের পাশাপাশি এই এলাকায় বড় সংকট সুপেয় পানি। শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক ছড়া শুকিয়ে গেলে এলাকায় পানির হাহাকার পড়ে যায়। আবার বর্ষাকালে পাহাড় থেকে নেমে আসা ময়লা ও ঘোলা পানি বাধ্য হয়ে পান করতে হয়। এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা।

সিতা পাহাড় এলাকার কার্বারি পাইচিংমং মারমা, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ক্যথোয়াই অং মারমা এবং স্থানীয় ব্যক্তিত্ব সের খান আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার অভাবে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া আমাদের স্বপ্নটা আজ ধ্বংসস্তূপ। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই, আমাদের এই দুর্গম এলাকায় একটি স্থায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং পানীয় জলের সুব্যবস্থা করে এই অবহেলিত মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন।”

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমি অনেকবার ওই এলাকা পরিদর্শনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমি শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

​অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সিতা পাহাড় এলাকাটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে এবং যাতায়াত অত্যন্ত দুর্গম। আমি ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি।” ​পাহাড়ের এই দুর্গম জনপদ কি তবে অন্ধকারেই থেকে যাবে? নাকি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে সিতা পাহাড়ের শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে কোনো নতুন বিদ্যালয়? এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এলাকাবাসী।

দিঘীনালায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সকল মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন —- সাজাই মং মারমা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শত্রুবার ১ মে ভোর সকালে দিঘীনালা পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের আয়োজনে তপোবন বৌদ্ধ বিহার থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে এসে দিঘীনালা সরকারি ডিগ্রী কলেজ গেইটে এসে সমাপ্ত হয়।

এসময় প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারি ভুমি কমিশনার মো: সাইফুল ইসলাম, দিঘীনালা ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা ও ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বৌদ্ধ ভিক্ষু, দায়ক-দায়িকা সহ বিভিন্ন বয়সির নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর অংশ নেয়। আজকের এই দিনে ভগবান বুদ্ধ পৃথিবীতে জন্ম নেন, বুদ্ধত্ব লাভ করেন এবং আবার একই দিনটিতে মহাপরিনির্বান লাভ করেন। তাই ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত আজকের দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ দিন। এই দিনটি উপলক্ষে তারা ভগবান বৌদ্ধের উদ্দেশ্যে ভক্তরা মন্দিরে বিহারে বুদ্ধপূর্ণিমায় উপাসক-উপাসিকা ও পূণ্যার্থীরা বুদ্ধপূজা, পিন্ডদান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সংঘদান, অষ্টপরিস্কারদান, বুদ্ধ মূর্তিদান করে। এবং বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। গৌতম বুদ্ধে অহিংসা বানী প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ফিরবে এমন আশা আয়োজকদের।

×