| ৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

রুমায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

রুমায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

 

রুমা প্রতিনিধি:

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বান্দরবানের রুমায় উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া ও বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় রুমা সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন বোধিবৃক্ষে পবিত্র চন্দন জল ছিটিয়ে পূর্ণ্য উৎসর্গের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে বুদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে পঞ্চশীল গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিশু-কিশোরসহ নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। একইভাবে ছাইপো পাড়া বৌদ্ধ বিহার, আমতলী বৌদ্ধ বিহার, পলিকা পাড়া বৌদ্ধ বিহার, মিনঝিরি পাড়া বৌদ্ধ বিহার, পান্তলা পাড়া বৌদ্ধ বিহার, পাইন্দু ইউনিয়নের মুলপি পাড়া বৌদ্ধ বিহার, চাঁন্দা হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার, পাইন্দু হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার, নিয়াংক্ষ্যং পাড়া বৌদ্ধ বিহার ও সেঙ্গুম পাড়া বৌদ্ধ বিহারেও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হয়। এসব বিহারে বোধিবৃক্ষে পবিত্র জল ছিটানো, পূজা, শীল গ্রহণ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় রুমা দেব বুদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাদের উদ্যোগে বিশ্বশান্তি কামনায় বিকেল ৪টায় একটি বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা বের করা হয়। এতে বিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি সাধন বড়ুয়া ও উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুম্রাউ মার্মাসহ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ অংশ নেন। শুভযাত্রাটি দেব বুদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে রুমা বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিহারে এসে শেষ হয়। পরে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ ও দায়ক-দায়িকাদের অংশগ্রহণে পঞ্চশীল গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পঞ্চশীল প্রদান করেন দেব বুদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উ চাইন্দাসারা ভিক্ষু। এ সময় লুংঝিরি পাড়া বৌদ্ধ বিহার ও থানা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন।

বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য:

বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত এ দিনটি ‘ত্রিস্মৃতি বিজড়িত পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত। কারণ, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা একই পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হয়েছিল বলে বৌদ্ধরা বিশ্বাস করেন।

রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের নির্বাহী পরিচালক ও আশ্রম পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উ নাইন্দিয়া থেরো বলেন, বুদ্ধ পূর্ণিমা মানবতার কল্যাণ, মৈত্রী, করুণা, অহিংসা ও সাম্যের শিক্ষা স্মরণ করার দিন। বুদ্ধের চতুরার্য সত্য ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ মানুষের আত্মশুদ্ধি ও মুক্তির পথ দেখায়। তিনি আরও বলেন, এ দিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা উপোসথ শীল পালন, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, দান-ধ্যান এবং জীবহত্যা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আত্মসংযমের চর্চা করেন।

সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা:

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বিহারগুলোতে ধর্মসভা, প্রদীপ প্রজ্বালন, অন্নদান ও অসহায় মানুষের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সম্মিলিতভাবে এ উৎসব উদযাপন করেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

উ নাইন্দিয়া থেরো বলেন, জীবে দয়া ও মানবসেবাই বুদ্ধের মূল শিক্ষা। তাই এ দিনে অসহায়দের সাহায্য, রোগীর সেবা ও দান কর্মের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করা হয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালে বৈশাখী পূর্ণিমাকে আন্তর্জাতিক ভাবে “Vesak Day” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বুদ্ধ পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মানবতার জয়গান ও আত্মশুদ্ধির এক পবিত্র দিন।

টানা বর্ষণে নাইক্যছড়ায় ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০ পরিবারের বসতভিটা — জরুরি ভিত্তিতে গ্রেটওয়াল নির্মাণের দাবি

রুমায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে ছড়ার তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ছড়ার দুই পাশের পাহাড়, চাষযোগ্য জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির ছড়ায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। মাত্র প্রায় ৫ ফুট প্রস্থের ছোট এই ছড়ায় প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দুই তীর ভাঙতে শুরু করে। পানির স্রোতে ছড়ার পাড়ের মাটি সরে গিয়ে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, কৃষিজমি এবং বসতভিটার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছড়ার পানি ইতোমধ্যে পাড়ার ভেতরে প্রবেশ করছে। বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ছড়ার পাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাতের বেলায় ভারী বৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে ভাঙনের ভয় আরও বেড়ে যায়।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এবারের বর্ষায় ছড়ার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত গ্রেটওয়াল নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা হোক।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ গ্রেটওয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হলে পানির স্রোতের চাপ কমবে এবং ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, ছড়ার দুই পাশে বসবাসকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের ভাঙন হলে এসব পরিবারের জানমাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখনই গ্রেটওয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে নাইক্যছড়া পাড়ার মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং গ্রেটওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা নিরাপদ করবেন।

বিলাইছড়িতে আশিকা কর্তৃক আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

রুমায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েট বিলাইছড়ি উপজেলায় আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। গতকাল সহ দুই দিনে ছয়শত পরিবারের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টা হতে আশিকার ইউনিয়ন ফোকাল পারসন সুজন তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে  ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এইসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা (হেডম্যান), ভরত চন্দ্র কার্বারী এবং সংস্থা’র অন্যান্য মাঠ কর্মীরা।

ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে চাল ৪০ কেজি, তেল ৩ লিটার, চিনি ১ কেজি, ডাল ২ কেজি, লবণ ১ কেজি, আলু ১ কেজি, পেঁয়াজ ১ কেজি, রসুন ৫০০ গ্রাম, নাপ্পি ১ কেজি, বালতি ২০ লিটার ১টি, লাইফ বয় সাবান ২টি, প্লাস্টিক মগ ১টি, ওরস্যালাইন ১০টি, গামছা ১টি, ডিটারজেন্ট পাউডার ১ কেজি, বদনা ১টি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ১০টি।

বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বীজ ধান বিতরণ

রুমায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে কৃষি অফিস কর্তৃক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা ঘাট হতে এইসব বীজ ধান বিতরণ করা হয়। মোট ধানের বীজ- ৩৫৫ জনের মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে ২৫৫, সদর ৭০, কেংড়াছড়ি ৩০ জনকে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুময় চাকমা, বদিউল আলম, সুকান্ত কুমার মোদক, রুবেল বড়ুয়া প্রমূখ।

×