বাঘাইছড়ির মুসলিম ব্লকের বসতঘরে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম ব্লক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতবাড়ি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মোঃ শাহ জাহানের বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারা এবং ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা।
স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হলেও এর আগেই ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তা মোঃ শাহ জাহান বলেন, “আমি নতুন একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনে বাসায় নিয়ে এসেছিলাম। চুলার সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে একটি কাপড় দিয়ে চেপে ধরেছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে জীবন বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সদস্যদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এর আগেই আমার ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়। আমি গরু বিক্রি করে কিছু টাকা ঘরে রেখেছিলাম। এছাড়া পরিবারের স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা হতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলায় একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০১৮ সালে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও সাত বছরেও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয় জনসাধারণ। এ ঘটনায় দ্রুত ফায়ার স্টেশন নির্মাণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।

| ৪ জুন ২০২৬
















