| ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়ি ঢলে ফের ডুবলো ফারুয়ার ২০ গ্রাম : স্রোতের কারণে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ত্রাণ

পাহাড়ি ঢলে ফের ডুবলো ফারুয়ার ২০ গ্রাম : স্রোতের কারণে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ত্রাণ

 

​সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির টানা ভারী বর্ষণের ফারুয়া  ইউনিয়নে ফের ডুবে গেলো প্রায় ২০টি গ্রাম।টানা ৮ দিন ধরে বৃষ্টিপাতে ৭ তারিখে একবার গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে ডুবে গেলেও এতটুকু উপরে উঠেনি পানি। কিন্তু গত রাতে হঠাৎ  মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে বানের পানি। ডুবে গেছে ফারুয়া ইউনিয়নে বাজার এলাকা। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকা বাসী। ভয়ে মালামাল সামলাতে রাত জেগে এলাকা বাসী নির্ঘুম কাটিয়েছেন বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা।

এছাড়াও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন জানান, গতবারে প্লাবিত হয়েছে সবেমাত্র শতাধিক দোকান, আজরাতে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পুরো বাজার একেবারে ডুবে গেছে। তাই প্রতিবছর বন্যা বা পাহাড়ি ঢলে  বাজারটি ডুবে তলিয়ে যায়। যা কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়। বাজারটা স্থানান্তরিত করার জন্য আমি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে বিদ্যালয়ের নীচতলা ডুবে রয়েছে। পাঠদানে চরম অসুবিধা হচ্ছে।

ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক খুশি বাবু তঞ্চঙ্গ্যা জানান, আমারা ইউনিয়ন বিএনপি বন্যা দুর্গতদের সবসময় পাশে রয়েছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। অন্য এলাকা গুলো হলো – তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনা ছড়ি, যামু ছড়া, শুক্কর ছড়ি, চাইন্দা, আলেচং, রোয়াপড়া ছড়া, এগুজ্যা ছড়ি, ঝাংবিল, ফারুয়া বাজার, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দা পাড়া, গোয়াইন ছড়ি পাড়া, রোয়াপাড়া ছড়া,আকাটা ছড়া, ফঁ ছড়া,চংড়াছড়ি সহ বেশকিছু এলাকা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, স্রোত কমানোর সাথে সাথে পৌঁছানো হবে। তাছাড়া রাজাস্থলী – বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়ক উদয় চর এলাকায় ধসে  পড়েছে। বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। তাদের পাশে থাকার জন্য।

ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাড়াতে সরকারের পাশাপাশি – বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, দাতা গোষ্ঠী ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জরুরী প্রয়োজন।

বান্দরবানে বন্যার মাঝেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা: প্রকৌশলী সৈয়দ মো আমির হোসেন।

পাহাড়ি ঢলে ফের ডুবলো ফারুয়ার ২০ গ্রাম : স্রোতের কারণে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ত্রাণ

মো. আলম; বান্দরবান সংবাদদাতা:

প্রকৃতির রুদ্ররূপ বন্যা কবলিত করেছে বান্দরবানের জনজীবন। পাহাড়ি ঢল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর দুর্যোগের মধ্যেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগ। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বিদ্যুৎ সেবা স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিভাগের কর্মীরা।

বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল নেতৃত্বে বন্যার পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত, সাব-স্টেশন সচল রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠে ছিলেন পুরো টিম।

এই সাফল্যের পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন বান্দরবান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন।

বন্যার শুরু থেকেই তিনি নিজে মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করেছেন। কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে হলেও বিদ্যুৎ লাইন চালু রাখার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে যখন চারদিক অন্ধকার হয়ে যাওয়ার কথা, তখনও বিদ্যুৎ বিভাগের দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও ঘরবাড়িতে আলো ছিল। এজন্য তারা প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন ও তার টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের এমন পেশাদারিত্ব ও মানবিক সেবা দুর্যোগের সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেনের নেতৃত্বে বিভাগ যে সেবার নজির স্থাপন করল, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবারের পাশে তাঁতী দল নেতা আফসার উদ্দিন

পাহাড়ি ঢলে ফের ডুবলো ফারুয়ার ২০ গ্রাম : স্রোতের কারণে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ত্রাণ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাপ্তাই উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি আফসার উদ্দিন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া প্রায় ২৫০ জন মানুষের মাঝে আজ দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি উন্নতমানের খাবার বিতরণ করেছেন। ​

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে এসব খাবার বিতরণ করা হয়। পাহাড় ধসের ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে এই উদ্যোগ নেন তিনি। ​খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হারুনুর রশিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইমাম উদ্দিন, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,মহিউদ্দিন সওদাগর ও শাহজালাল চৌধুরী। ​ত্রাণ বিতরণের সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ​

আয়োজক আফসার উদ্দিন বলেন, “দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আমাদের সহায়তার হাত অব্যাহত থাকবে।” ​নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এই মানবিক সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিত্তবানদের এমন সংকটে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকায়  পৌঁছে গেছে মেডিকেল টীম

পাহাড়ি ঢলে ফের ডুবলো ফারুয়ার ২০ গ্রাম : স্রোতের কারণে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না ত্রাণ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে একটি মেডিকেল টীম পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত।

রবিবার (১২ ই জুলাই) ইউএনও মো. জাকির হোসেন এরঁ  নির্দেশে এই টীম পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, মেডিকেল অফিসার ডা. রনি সরকারের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টীম ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা ও ফারুয়া বাজার ও গোয়াইছড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে ভাসমান মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে বা হবে।

সিনিয়র নার্স প্রবীর তঞ্চঙ্গ্যা’র স্টারলিং এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ১১০ জনকে সেবা দিয়েছেন, বেশিরভাগ জ্বর ও চর্ম রোগী।তাদেরকে সহযোগিতা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের অসীম চাকমা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এবং সবসময় পাশে রয়েছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি,হেডম্যান – কার্বারী ও সুশীল সমাজ।

×