শিরোনাম:

লংগদু উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাজার পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

লংগদু উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাজার পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্কঃ

রাঙ্গামাটি সদরস্থ লংগদু উপজেলার মাইনী বাজারে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর)২৫ খ্রিঃ বিকেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ’২৫ খ্রিঃ সকাল ১০ঃ০০ ঘটিকার সময় ক্ষতিগ্রস্ত মাইনী বাজার পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস প্রধান শেষে বানভাসি ক্ষতিগ্রস্থ ২০ পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ, মাইনি বাজার ও লংগদু পল্টুনে ২টি সোলার, ২টি ব্যাটারি এবং ৪টি ফ্যান বিতরণ এবং এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রধান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুরশীদ। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. মামুনুর রশীদ (মামুন) লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতিঃ তোফাজ্জল হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ নেওয়াজ, মাইনী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিঃ আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদকঃ মো. আলাউদ্দিন সওদাগর সহ জনপ্রতিনিধিগণ।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনকালে কাজল তালুকদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত যাতে ভালো সহায়তা পায় সেজন্য পার্বত্য উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করে সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি উপজেলায় রিজার্ভ পানির ট্যাংক নির্মাণসহ জরুরি অগ্নিনির্বাপনে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামাদি প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের খাদ্যশস্য, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান ও বাজারের জন্য সোলার প্যানেল প্রদান করেন।

খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটার অভিযোগে দুইজন আটক

লংগদু উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাজার পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বেতছড়ি আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাচা মেরুং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. ইউসুফ আলী (৩০) কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই একটি পাহাড়ের মাটি কাটছিলেন। এসময় তিনি দাবি করেন আশরাফুল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে ইউসুফ আলী ও এক্সকাভেটর চালক মো. সেলিমকে আটক করে। পরে তাদের ব্যবহৃত এক্সকাভেটরসহ দীঘিনালা থানা পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবে অর্থ সহায়তা দিলো সিন্দুকছড়ি জোন

লংগদু উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাজার পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সিন্দুকছড়ি জোনের (গুইমারা রিজিয়ন) মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সিন্দ জোনের পক্ষ থেকে আসন্ন মহাশাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে আর্থিক অনুদান প্রদাণ করা হয়েছে।

সিন্দুকছড়ি জোন সদরসহ মানিকছড়ি ও বাটনাটলি আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মসূচি পরিচালিত হয়। জোন সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৬টি মহাশাংগ্রাই উদযাপন কমিটির হাতে উৎসব পালনের জন্য নগদ ৪৭ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়াও ৪ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির (২ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ২ জন বাঙালি) মাঝে ১৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

শিক্ষার প্রসারে ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর (৬০ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ৪০ জন বাঙালি) মাঝে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ২২ জন বাঙালির মাঝে ৭ হাজার টাকা মূল্যের ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

আবাসন সহায়তার অংশ হিসেবে ৩টি পরিবারের (২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ১টি বাঙালি পরিবার) মাঝে ২২ হাজার পাঁচশো টাকা মূল্যের টিন বিতরণ করা হয়। আজকের এই কর্মসূচিতে মোট ১ লাখ ২১ হাজার পাচশো টাকার আর্থিক ও বস্তুগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

সহায়তা প্রাপ্তির পর সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীরা সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সুবিধাভোগীরা জানান, সেনাবাহিনীর এ ধরণের মানবিক কার্যক্রম দুর্গম পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে।

সিন্দুকছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে তাদের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় মেতেছে বিজুর আমেজে-নদীতে ফুল অর্পণের মধ্য দিয়ে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব শুরু

লংগদু উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাজার পরিদর্শনে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

পুরোনো বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনায় নদীতে ফুল অর্পণের মধ্য দিয়ে আজ ১২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জাতিসত্তা সমূহের জাতীয় ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব। তবে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই উৎসবকে ঘিরে চলছে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, র্যালি, বৈশাখী মেলা সহ নানা আয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহ নিজেদের রীতি-নীতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন নামে এই উৎসব পালন করে থাকে। ত্রিপুরারা “বৈসুক”, মারমারা “সাংগ্রাই”, চাকমাvf “বিজু”, তঞ্চঙ্গ্যারা “বিষু”, গুর্খা-অহোমিরা, “বিহু” খেয়াংরা, “সাংলান” খুমিরা, “সাংক্রাই” চাকরা, “সাংগ্রাইং”ম্রোরা, “চাংক্রান” সান্তালরা, “বাহা পরব” নামে এবং অন্যান্য জাতিসত্তা গুলোও নিজস্ব নামে উৎসবটি পালন করে থাকে।

তবে কয়েকটি জাতিসত্তার উৎসবের নামের আদ্যক্ষরের সম্মিলনে উৎসবটি “বৈ-সা-বি” বা “বৈসাবি” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যা-জাতিসত্তাগুলোর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এ উৎসবের মূল চেতনাই হচ্ছে জাতীয় ঐক্য-সংহতি জোরদার করা। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে অতীতের কিছু নিয়ম-কানুন বাতিল হয়ে গেলেও নতুনভাবে উৎসবের শুরুর দিন কিংবা তার আগে পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও জমায়েত সহকারে নদীতে ফুল নিবেদনের রীতি সংযোজন করা হয়েছে। এতে পাহাড়িরা সম্মিলিতভাবে স্ব স্ব জাতীয় পোশাক পরিধান করে, নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি তুলে ধরে শোভাযাত্রা ও নদীতে ফুল নিবেদন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে ও উৎসব উদযাপন কমিটি গঠন করে এ ধরনের শোভাযাত্রা, র্যালি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বৈচিত্র্যময় এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি জাতিসত্তাগুলো নিজেদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ধারণ করে সামাজিক মিলনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগ্রত করে। পুরাতন বছরের সকল গ্লানি মুছে গিয়ে সকল মানব জাতি ও প্রাণীকূল নিরাপদে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকুক– এমন ভাবমানসই এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ত্রিপুরাদের বৈসু-বৈসুক ত্রিপুরারা উৎসবের প্রথম দিনকে হারি বৈসু, দ্বিতীয় দিনকে বৈসুমা বা বৈসুকমা, এবং তৃতীয় দিন অর্থাৎ নববর্ষ প্রথম দিনটিকে বিসিকাতাল বলে। হারি বৈসুর দিন নানান ধরণের ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে ঘরগুলোকে সুবাসিত করে তোলা হয়। ঘরের গৃহপালিত প্রাণি গরু-ছাগলকে ফুলের মালা পরানো হয়। এরপর কিশোর কিশোরীরা দলবেঁধে ছড়া নদীতে গোসল করে ফুল দিয়ে মঙ্গল কামনা করে বাড়িতে ফিরে মাইলোংমা (লক্ষ্মী) আসনে ফুল-ধূপবাতি দিয়ে পুজা সম্পন্ন করে থাকে। বিশেষ করে বাড়ির মায়েরাই ফুল দিয়ে গঙ্গা পুজা করে থাকে। বৈসুমা দিনে ত্রিপুরারা তাদের বাড়িতে অতিথিদের বিভিন্ন সবজির মিশ্রণে রান্না করা পাচন, পিঠা সহ নানা খাদ্য-পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। উৎসবের শেষ দিনে আগের দুইদিনের মতো অন্যান্য অনুষ্ঠান ছাড়াও এ দিনে বাড়ির মাতা-পিতা, দাদা-দাদীদের নদী থেকে জল তুলে এনে স্নান করানো হয়। নতুন কাপড় দান করা হয়। এদিন ত্রিপুরাদের প্রতিটি বাড়িতে পিঠা-পায়েস ছাড়াও মাছ-মাংসের আয়োজন চলে। বিশেষ করে এই দিনেই বড়োদের পানাহারের উৎসব চলে। বৈসু উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলো তাঁদের প্রধান দেবতা গরিয়া দেবের খেরাবই নৃত্য। গরিয়া পূজায় যাঁরা নাচে তাঁদেরকে বলা হয় খেরাবই। গরিয়া দেবের প্রতিমূর্তিকে বহন করে এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় নৃত্য পরিবেশন করে খেরবাই দল। দেখানো হয় ত্রিপুরাদের জীবন-জীবিকার উপর খেলা ও অভিনয়।

মারমাদের সাংগ্রাই, মারমারা চারদিন সাংগ্রাই উৎসব পালন করে থাকে। সাংগ্রাইয়ের ১ম দিনকে পেইংছুয়ে (১৩ এপ্রিল), ২য় দিনকে আক্যেই (মুল সাংগ্রাই ১৪ এপ্রিল), ৩য় দিনকে আতাদা (১৫ এপ্রিল) ও ৪র্থ দিনকে আপ্যেইং (১৬ এপ্রিল) হিসেবে পালন করে। সাংগ্রাইকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী পানি খেলার আয়োজন করা হয়। এই পানি খেলার মাধ্যমে তারা পুরানো বছররের গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী ‘ধ’ খেলারও আয়োজন করা হয়ে থাকে। উৎসবের প্রথম দিন পাড়ার যুবক যুবতীরা নদী থেকে পানি তুলে প্রবীণদের গোসল করিয়ে আশীর্বাদ নেয়। দল বেঁধে বুদ্ধ মূর্তিগুলোকে গোসল করানো হয়। উৎসবের ২য় দিনে প্রত্যেকের বাড়িতে নানা মূখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। এতে পাচন, পানীয়সহ নানা খাদ্য পরিবেশন করা হয়। সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে বিহার-মন্দির বা ক্যায়াং ঘর ভালভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। দায়ক-দায়িকারা টানা তিনদিন অবস্থান নিয়ে ধর্মীয় দীক্ষায় অভিভূত হয়ে বুদ্ধ মূর্তির সামনে ফুল রেখে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রণাম করে। পাড়ার লোকজন ক্যায়াং ঘরে গুরু ভিক্ষু, শ্রমণ, সাধু-সাধুমাদের উদ্দেশ্যে ছোয়াইং প্রদান করে। চন্দনের পানি, দুধ ও ডাবের পানি দিয়ে বুদ্ধ মূর্তিকে স্নান করানোর মধ্য দিয়ে সূচনা হয় এর নতুন বছর। এদিন তরুণ-তরুণীরা নতুন বছরকে বরণ করতে দলে দলে এসে পানি খেলায় মেতে উঠে।

চাকমাদের বিজু, চাকমারা ১ম দিনকে ‘ফুল বিজু’ (১২ এপ্রিল), ২য় দিনকে ‘মূর বিজু-মুল বিজু’ (১৩ এপ্রিল) ও ৩য় দিন (১৪ এপ্রিল) “গয্যপয্যা” বিজু (নতুন বছরকে বরণ) হিসেবে পালন করে থাকে। উৎসবের প্রথম দিনে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে ফুল সংগ্রহে নেমে পড়ে। ঘরবাড়ি ও আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও ফুল দিয়ে ঘর সাজানো হয়। গৃহপালিত পশুদের (গরু, ছাগল) পরিয়ে দেওয়া হয় ফুলের মালা। এরপর পাহাড়ি ছড়া, ঝর্ণা বা নদীতে গিয়ে গোসল করে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে মঙ্গল কামনা করা হয়। অনেকে পরবর্তী দিনে (মুর বিঝুর) ’পাজন’ রান্নার জন্য জঙ্গলে গিয়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত নানা সবজিজাত তরিতরকারি সংগ্রহ করে নিয়ে আসে (এখন অবশ্য সবকিছু বাজারে পাওয়া যায়)। উৎসবের ২য় দিনে প্রত্যেকের বাড়িতে নানা মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। এতে কমপক্ষে ৩০ প্রকার বা তার বেশী আনাসপাতি দিয়ে রান্না করা ‘পাচন(পাজন)সহ নানা খাদ্য-পানীয় পরিবেশন করা হয়। নানা বয়সী লোকজন সারাদিন দল বেঁধে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। উল্লেখ্য, এদিন ভোরে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পালিত মুরগীদের খাদ্য দেয়ার রীতি প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে তা আর তেমন দেখা যায় না। ৩য় দিনে বিহার-মন্দিরে গিয়ে নতুন বছরের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করা হয়। এই দিন অনেকে পাড়ার বয়স্ক মুরব্বীদের বাড়িতে ডেকে উন্নত খাবাবের আয়োজন করেন। আর অনেকে উৎসবের তিন দিনই (অনেক ক্ষেত্রে ৭ দিন) বিহার-মন্দির, বাড়ি আঙ্গিনা, নদীর ঘাট, বটবৃক্ষ বা সবুজ গাছের নীচে এবং গোয়াল ঘরে বিভিন্ন দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোও একইভাবে যার যার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রীতি-নীতি অনুসারে উৎসবটি পালন করে থাকে। এর মধ্যে তঞ্চঙ্গ্যাদের ঐতিহ্যবাহী ঘিলাখেলা প্রধান আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।

×