শিরোনাম:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন

 

মানিকছড়ি প্রতিনিধি :

যোগ্যাছোলা গঞ্জপাড়া নিবাসী নেপচুন চা বাগানে শ্রমিক হ্রাসুমা মারমা (৫৪) দীর্ঘদিন চোখের সমস্যা ছিল। ঠিক ভাবে চা বাগানে কাজ করতে পারছিলেন না, বয়সে কারনে চোখের ঝাঁপসা ছিল। অর্থাভাব ও যাতায়াত সমস্যার কারণে এতদিন উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি আজকে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে রোটারি ক্লাব অফ চিটাগং পোস্ট সিটি ও রোটার্যাষ্ট ক্লাব অফ চিটাগং লেক সিটি, এলবিয়ন গ্রুপ, জীবনচিত্র এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মংপ্রুসাইন ফাউন্ডেশন সার্বিক সহযোগিতা বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা করতে খুবই উপকৃত হয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা শেষে চশমা পেয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে পিছিয়ে ইউনিয়নে যোগ্যাছোলাতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার যোগ্যছোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোন সদর হতে মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন আকিব ইউসুফ নাজিব (এএমসি) ও লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের ডাঃমাহফারা লাজিম ইজমা আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ডাঃ সাইমুস নাহার চৌধুরী, অপ্টমেট্রিস্ট কাজী আহম্মদ রিফাত এবং আলেয়া বেগম ডালিয়া, প্যারামেডিক্স রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম লায়ন্স আই হাসপাতাল ক্যাম্প অর্গানাইজার মোঃ জসিম উদ্দিন, মা ও শিশু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আব্দুল কাইয়ুম এর নেতৃত্বে এই মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এ সময় রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয় এবং চক্ষু রোগীদের মাঝে চশমা বিতরণ করা হয়।

এছাড়া লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সৌজন্যে ও সিন্দুকছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় ১ শত ৫০ জন’কে চশমা বিতরণ করা হয়। চোখের ছানি ৪৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। তাদেরকে ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের অপারেশন করা হবে।

পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলের দরিদ্র, অসহায় ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিন্দকছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ইসমাইল সামস্ আজিজি, পিএসসি, জি অধিনায়ক, ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা মং রাজা মংপ্রুসাইন বাহাদুর ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মানিত সদস্য কুমার সুইচিংপ্রু সাইন, রোটারি ক্লাব অফ চিটাগাং পোর্ট সিটি ক্লাবের পোস্ট প্রেসিডেন্ট পিপি ইঞ্জিনিয়ার মোরশেদ আলম, পিপি মুহাম্মদ সাজেদুল হক, প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোহাম্মদ এমদাদূর রহমান, যোগ্যাছোলা মৌজা প্রধান কংজরী চৌধুরী, যোগ্যাছোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এম,কে আজাদ, যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন, যোগ্যাছোলা বাজার সভাপতি ইঞ্জিঃ আমিনুল ইসলাম রকি, গ্রাম প্রধান ক্যজাই কার্বারী প্রমূখ।

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নতুন রেস্টুরেন্ট আপন বাড়ি’র শুভ উদ্বোধন

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন

 

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় “আপন বাড়ি” (আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট)-এর শুভ উদ্বোধন ১৬ এপ্রিল দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে রেস্টুরেন্টটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট এলাকাবাসীর জন্য মানসম্মত ও সুস্বাদু খাবারের নতুন একটি ঠিকানা হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও উন্নত সেবার মাধ্যমে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান, তারা দেশীয় ও বিভিন্ন পদের খাবার সুলভ মূল্যে পরিবেশন করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করবে বলে জানান। রেস্টুরেন্টের মালিকরা বলেন, আমরা বাঘাইছড়ির মানুষের জন্য একটি আরামদায়ক খাবারের পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে ‘আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট’-কে আরও উন্নত সেবার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।”

ঠিকানা: আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট চৌমুহনী, কলেজ রোড, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি মোবাইল: ০১৮৮৪২০৯১৪৭

সাংগ্রাইং জলকেলী উৎসবের প্রস্তুতি পরিদর্শনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন

 

জেলা প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি মারি স্টেডিয়াম (মাসস) প্রাঙ্গণে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলকেলী উৎসবকে সামনে রেখে চলমান প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টু। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াই সুঁই খইং চৌধুরী (মাসস) সভাপতি, মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস)- উদযাপন কমিটির এর আহ্বায়ক পাইচিংমংসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

এ সময় নেতৃবৃন্দ উৎসবস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি, মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আয়োজন ঘুরে দেখেন। তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংগ্রাইং জলকেলী উৎসব মারমা সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক। তারা আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ প্রস্তুতি ও সবার সহযোগিতায় এবারের উৎসব আনন্দঘন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

রুমা জোনের ৩৬ ব্যাটেলিয়নের মানবিক ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে পাহাড়ে ফিরছে শান্তি

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের রুমা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অনন্য ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ ব্যাটেলিয়ন (রুমা আর্মি জোন)। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করে পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে এই ব্যাটেলিয়ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুমা জোনের সেনা সদস্যরা শুধু নিরাপত্তা কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা।

এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সহায়তা প্রদান করে পার্বত্য এলাকায় সম্প্রীতির বন্ধন জোরদার করছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর ফলে সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।

৩৬ ব্যাটেলিয়নের বর্তমান অধিনায়কের নেতৃত্বে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফলে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতির পরিবেশ অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রুমার একাধিক বাসিন্দা বলেন, সেনাবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে এখন আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করি। আগের তুলনায় এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমেছে। যেকোনো প্রয়োজনে তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে, পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে ৩৬ ব্যাটেলিয়নের পেশাদারিত্ব ও মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা আরও সুদৃঢ় হবে।

×