শিরোনাম:

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

 

ছন্দ সেন চাকমা :

আজ পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে এই দিনে সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ ঘটেছিল। এই তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করেছে। ​বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটি। ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ভক্তদের ঢল নামে। জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ত্রিপিটক পাঠ এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়।​

রাঙ্গামাটি বনরুপা মৈত্রী বিহার সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে ভক্তরা বুদ্ধ মূর্তিতে ফুল, ফল এবং মোমবাতি উৎসর্গ করে বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধ মুর্ত্তি দান, সংঘ দান,অষ্টপরিস্কার দান ও নানা ধরনের উপকরণ দান, ভিক্ষুদের পিণ্ডদান এবং সন্ধ্যায় হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, “যুদ্ধ ও সংঘাতময় বিশ্বে বুদ্ধের অহিংসার বাণী আজও সমান প্রাসঙ্গিক।” প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও একতার ওপর জোর দিয়েছেন।

জাতিসংঘ ও বিশ্ব​ ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ বুদ্ধ পূর্ণিমাকে আন্তর্জাতিক ‘ভেসাক দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জন্য এটি আত্মশুদ্ধি, করুণা এবং মৈত্রীর প্রতীক।

​নেপালের লুম্বিনিতে, বুদ্ধের জন্মস্থানে, সকাল থেকেই বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দিনটি উৎসবের আমেজে পালিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিশাল ফানুস ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের দিল্লি এবং বুদ্ধগয়াতে হাজারো তীর্থযাত্রী সমবেত হয়েছেন।
​বুদ্ধের দর্শন: আজকের প্রেক্ষাপটে।

এমন এক সময়ে এই উৎসব পালিত হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে জাতিগত বিদ্বেষ, যুদ্ধ এবং অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুদ্ধের মূল মন্ত্র— ‘অহিংসাই পরম ধর্ম’ —এবং তার অহিংসা, সাম্য ও করুণার দর্শন মানুষকে শান্তির পথে পরিচালিত করতে পারে। আজকের এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং পণ্ডিতরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন।
​পরিশেষে, বুদ্ধ পূর্ণিমার এই আলো বিশ্বব্যাপী শান্তি, সুখ এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এটিই আজকের দিনের সবার কামনা।

আলীকদমে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ১ম ডিজিটাল ব্যানার প্রিন্টিং মেশিন শুভ উদ্বোধন– স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দ্বিতীয় প্রাণকেন্দ্র রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজারে নতুন যাত্রা শুরু করলো আর.বি ডিজিটাল প্রিন্টিং এন্ড প্রেস। আজ ১ মে ২০২৬ইং রোজ শুক্রবার বিকেলে বাঙ্গালহালিয়া বাজারের, শওকত তালুকদার মার্কেটে ডিজিটাল ব্যানারের প্রিন্টিং মেশিন নিয়ে ব্যবসা শুরু করলো, আর.বি আর ডিজিটাল প্রিন্টিং এন্ড প্রেস এর স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, এই উপজেলাটি অনেক বড় এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া ও এরকম ডিজিটাল মেশিনের কাজগুলা বাহির থেকে করে আনতে হয়। তাই মনে মনে চিন্তা করলাম – বাঙ্গালহালিয়া বাজারটি এখন মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়, মানুষ আগে কোন নির্বাচনী বা অন্যান্য ব্যানার করতে চন্দ্রঘোনা বা শহরে যেতে হতো। এখন সেই সেবাগুলো আমরা দিচ্ছি,আমাদের এখানে পাবেন বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট, ভিজিটিং কার্ড, বিয়ের কার্ড, কম্পিউটার কম্পোজ, ছবি প্রিন্ট, ডকুমেন্ট স্কেনিং, জন্ম নিবন্ধনের আবেদন, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, পাসপোর্ট এর আবেদন, এনআইডি কার্ড এর আবেদন, এনআইডি কার্ড সংশোধন, স্থায়ী বাসিন্দার সনদ এর আবেদন, স্থায়ী বাসিন্দার সনদ সংশোধন, ওয়ারিশন সনদের আবেদন, ফটোকপি, গেঞ্জি প্রিন্ট, মগ প্রিন্ট, ক্রেস্ট প্রিন্ট, সীল, স্টেশনারী সামগ্রী পাওয়া যাবে। এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সরকারী যে কোন আবেদন সহ-সকল প্রকার অনলাইনে কাজ করতে পারবেন। আমি চেষ্টা করব আপনাদেরকে দ্রুত সেবা দিতে পারবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত প্রচারণার জন্য ব্যানারের চাহিদা অনেক বেশি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করেন ফলাহারিয়া হযরত পাঠান আউলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ মাওলানা আব্দুল হাকিম, সুপার ফলাহারিয়া হযরত পাঠান আউলিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আলমগীর হোসেন নয়েমী, মাওলানা মোঃ নাসির হোসেন, মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মাওলানা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, গণমাধ্যম কর্মী ও এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য উপস্থিত ছিলেন।

বিলাইছড়িতে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে পালবার লিং সেন্টার কর্তৃক খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে পালবার লিং সেন্টার শিশু সদন সংস্থার পক্ষ থেকে অসহায়, হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত ১০৬ টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়। শুক্রবার (১লা মে) বিকাল তিনটায় বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ হতে এইসব  ত্রাণ বিতরণ করেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি, বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, পালবার লিং সেন্টার শিশু সদন সংস্থা বাংলাদেশ এঁর ভদন্ত: দেবতিষ্য ভিক্ষু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত করুনা তিষ্য ভিক্ষু, উপাধ্যক্ষ, বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার ও অর্থ-সম্পাদক, পালবার লিং সেন্টার শিশু সদন সংস্থা বাংলাদেশ, অংসাখই মার্মা (কার্বারী), সাধারণ সম্পাদক, পালবার লিং সেন্টার শিশু সদন সংস্থা বাংলাদেশ, সুবল বিকাশ চাকমা (কিরণ), সদস্য, পালবার লিং সেন্টার শিশু সদন সংস্থা বাংলাদেশ স্মৃতি কুমার চাকমা, ম্যানেজার, পালবার লিং সেন্টার শিশু সদন সংস্থা বাংলাদেশ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পালবার লিং সেন্টার শিশু সদন সংস্থার সকল ভলান্টিয়ার বৃন্দ। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে – চাউল — ১০ কেজি, আলু — ২ কেজি, সরিষার তেল — ৫০০ মি.লি, পিঁয়াজ — ৫০০ গ্রাম, মসুর ডাল — ৫০০ গ্রাম, লবণ — ৫০০ গ্রাম, সাবান — ১ পিস, নুডুলস — ১ প্যাকেট,  ওআর স্যালাইন — ৫ পিস।

এই মহৎ দান ও সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের বা পালবার লিং সেন্টারের মূল উদ্দেশ্য। বুদ্ধের মৈত্রী, করুণা ও মানবতার বাণী সকলের জীবনে শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

×