শিরোনাম:

দুর্গম পাহাড়ে আলোর দিশা : বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের আবেগঘন বিদায়

দুর্গম পাহাড়ে আলোর দিশা : বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের আবেগঘন বিদায়

 

উচ্চপ্রু মারমা,  রাজস্থলী প্রতিনিধি :

ড়রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গনে বিভিন্ন ধর্মীয় পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কনক বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অভিভাবকহীনতা ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিশু ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখ্যই মং মারমার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন অতিথিরা। তারা বলেন, “তোমরাই পাহাড়ের প্রকৃত সম্পদ। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তোমরাই এই অঞ্চলের ভাগ্য পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থোয়াইসুইখই মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জামাল উদ্দিন, লিয়াকত আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাইমুল ইসলাম রনি, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জোনায়েদ আহম্মেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদায়ী শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তারা জানায়, এই বিদ্যালয় তাদের কাছে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। শিক্ষকদের স্নেহ, ভালোবাসা ও অক্লান্ত পরিশ্রমেই তারা আজ এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।

সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থোয়াইসুইখই মারমা।বলেন,,আজকের এই বিদায় তোমাদের জীবনের শেষ নয়, বরং নতুন স্বপ্নের পথে যাত্রার শুরু। দুর্গম পাহাড়ের প্রতিকূলতা পেরিয়ে তোমরা যে এখানে পৌঁছেছ, সেটাই তোমাদের শক্তি ও সম্ভাবনার প্রমাণ। মনে রাখবে—শিক্ষাই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তোমরা নিজেদের জীবন গড়বে, পাশাপাশি এই পাহাড়ি জনপদের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন,, সৎ পথে থেকো, পরিশ্রম করো এবং কখনো নিজের শিকড়কে ভুলে যেও না। তোমাদের সফলতাই একদিন এই এলাকার গর্ব হয়ে উঠবে। আমি সকল পরীক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। তোমাদের জীবন হোক আলোকিত, সফলতা ও মানবিকতায় ভরপুর।”

অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মারক উপহার প্রদান করা হয় এবং তাদের সার্বিক সাফল্য কামনা করা হয়।

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নতুন রেস্টুরেন্ট আপন বাড়ি’র শুভ উদ্বোধন

দুর্গম পাহাড়ে আলোর দিশা : বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের আবেগঘন বিদায়

 

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় “আপন বাড়ি” (আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট)-এর শুভ উদ্বোধন ১৬ এপ্রিল দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে রেস্টুরেন্টটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট এলাকাবাসীর জন্য মানসম্মত ও সুস্বাদু খাবারের নতুন একটি ঠিকানা হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও উন্নত সেবার মাধ্যমে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান, তারা দেশীয় ও বিভিন্ন পদের খাবার সুলভ মূল্যে পরিবেশন করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করবে বলে জানান। রেস্টুরেন্টের মালিকরা বলেন, আমরা বাঘাইছড়ির মানুষের জন্য একটি আরামদায়ক খাবারের পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে ‘আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট’-কে আরও উন্নত সেবার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।”

ঠিকানা: আপন বাড়ি রেস্টুরেন্ট চৌমুহনী, কলেজ রোড, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি মোবাইল: ০১৮৮৪২০৯১৪৭

সাংগ্রাইং জলকেলী উৎসবের প্রস্তুতি পরিদর্শনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

দুর্গম পাহাড়ে আলোর দিশা : বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের আবেগঘন বিদায়

 

জেলা প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি মারি স্টেডিয়াম (মাসস) প্রাঙ্গণে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলকেলী উৎসবকে সামনে রেখে চলমান প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টু। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াই সুঁই খইং চৌধুরী (মাসস) সভাপতি, মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস)- উদযাপন কমিটির এর আহ্বায়ক পাইচিংমংসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

এ সময় নেতৃবৃন্দ উৎসবস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি, মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আয়োজন ঘুরে দেখেন। তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংগ্রাইং জলকেলী উৎসব মারমা সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক। তারা আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ প্রস্তুতি ও সবার সহযোগিতায় এবারের উৎসব আনন্দঘন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

রুমা জোনের ৩৬ ব্যাটেলিয়নের মানবিক ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে পাহাড়ে ফিরছে শান্তি

দুর্গম পাহাড়ে আলোর দিশা : বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের আবেগঘন বিদায়

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের রুমা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অনন্য ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ ব্যাটেলিয়ন (রুমা আর্মি জোন)। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করে পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে এই ব্যাটেলিয়ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুমা জোনের সেনা সদস্যরা শুধু নিরাপত্তা কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা।

এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সহায়তা প্রদান করে পার্বত্য এলাকায় সম্প্রীতির বন্ধন জোরদার করছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর ফলে সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।

৩৬ ব্যাটেলিয়নের বর্তমান অধিনায়কের নেতৃত্বে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফলে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতির পরিবেশ অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রুমার একাধিক বাসিন্দা বলেন, সেনাবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে এখন আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করি। আগের তুলনায় এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমেছে। যেকোনো প্রয়োজনে তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে, পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে ৩৬ ব্যাটেলিয়নের পেশাদারিত্ব ও মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা আরও সুদৃঢ় হবে।

×