শিরোনাম:

গোবিন্দগঞ্জে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

গোবিন্দগঞ্জে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ভাতিজা আব্দুল জলিল শেখের লাঠির আঘাতে চাচা কপিল উদ্দিন (৫৫) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কপিল উদ্দিন ওই গ্রামের ফজর উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, হরিরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ছমছেল শেখের ছেলে আব্দুল জলিল শেখের সাথে কপিল উদ্দিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালের দিকে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এসময় লাঠি-ধারালো অস্ত্র নিয়ে উত্তেজিত হয়ে জলিল শেখরা হামলা করে। এতে লাঠির আঘাতে কপিল উদ্দিন নিহত হন। একইসঙ্গে আহন হন আব্দুল জলিল শেখ নামের অপর একজন। তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাপ্তাইয়ে ঝড়ে উপড়ে পড়ল গাছ দুই বসতঘর বিধ্বস্ত, অল্পের জন্য রক্ষা

গোবিন্দগঞ্জে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলা কলেজ এলাকায় আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে দুটি বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বসতঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কর্ণফুলী কলেজের দপ্তরি রহমত আলী। তিনি বর্তমানে অবসর পূর্বকালীন ছুটিতে (এলপিআর) রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, তার ঘরটি বিশাল গাছের নিচে চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে। একই সময়ে গাছের অংশবিশেষ আবুল বশর নামে আরেক বাসিন্দার ঘরের ওপর পড়লে সেটিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

​ভুক্তভোগী রহমত আলী জানান, মুহূর্তের মধ্যে ঝড় শুরু হয়ে গাছটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। অল্পের জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমিন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

​পরিদর্শন শেষে ইউএনও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

​এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষকে এই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর বিষয়ে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো গাছগুলো অপসারণ করা হলে আজ এই ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।

​উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলার আরও কয়েকটি স্থানে ঝড়ে গাছ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আলীকদমে হামের প্রাদুর্ভাবঃ রোগীর পাশে থেকে নিরলস কাজ করছে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন

গোবিন্দগঞ্জে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

 

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আলীকদম উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে হাম আক্রান্ত রোগীদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে দুর্গম এলাকার রোগীদের চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হানিফের নেতৃত্বে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় সরকারি টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য সহকারীদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৫ জন এবং লামা উপজেলায় ৫ জনসহ মোট ৬০ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা সেবার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৪৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১৮ জন রোগী বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে আলীকদম, লামা ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন জানায়, তারা দুর্গম এলাকার হাম আক্রান্ত রোগীদের সরাসরি পাশে থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে। রোগীদের হাসপাতালে আনা-নেওয়া, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, পরামর্শ এবং জটিল রোগীদের রেফার করতেও সংগঠনটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

নেতৃত্ব ও সমন্বয় :

সংগঠনটির সভাপতি সেথং ম্রো (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, লামা) বলেন, “দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা রোগীদের পাশে থেকে কাজ করছি, যাতে কোনো রোগী অবহেলায় না থাকে এবং দ্রুত চিকিৎসা পায়।”

সাধারণ সম্পাদক পাতলাই ম্রো (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, “স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আলীকদম ও লামার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেনথাব ম্রো (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, “মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি রোগীর খোঁজখবর রাখা, হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা নিরলসভাবে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

কোষাধ্যক্ষ মেনতং ম্রো জানান, “সংগৃহীত অনুদান স্বচ্ছতার সাথে রোগীদের চিকিৎসা, পরিবহন ও প্রয়োজনীয় খরচে ব্যয় করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি সহযোগিতা সঠিকভাবে কাজে লাগে।”

নারী বিষয়ক সম্পাদক কারসিং ম্রো (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম) বলেন, “নারী ও শিশু রোগীরা যাতে নিরাপদ ও প্রয়োজনীয় সেবা পায়, সেজন্য আমরা বিশেষভাবে কাজ করছি এবং তাদের পাশে থেকে মানসিক সহায়তাও প্রদান করছি।”

এছাড়া সভাপতি আরও বলেন, “এই মানবিক কার্যক্রম সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা দুর্গম এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবো এবং এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারবো।”

লামা হাসপাতাল সমন্বয় :

ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের পাশাপাশি লামা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে “বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন” লামা শাখার প্রতিনিধিত্বে ক্রইঙন ম্রো ও প্রেনপং ম্রো সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিশেষ কার্যক্রম টিম :

ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের একটি দায়িত্বশীল টিম মাঠ পর্যায়ে সরাসরি রোগীদের পাশে থেকে কাজ করছে। এই টিমে রয়েছেন—পারাও ম্রো,মাংইন ম্রো, মেনরিং ম্রো, মেনতে ম্রো, পারিং ম্রো, চামলে ম্রো, রাংরেং ম্রো, রেংকুর ম্রো, পুষা ম্রো, লেংরাও ম্রো, রেংঅং ম্রো, মানিক ম্রো, মাংরুম ম্রো, থংতান ম্রো এবং প্রেনপং ম্রো।

আর্থিক সহায়তা ও ব্যয় :

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে এ পর্যন্ত মোট ১,৯১,৭০৮.৮০ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, যা রোগীদের চিকিৎসা, পরিবহন ও প্রয়োজনীয় সেবায় ব্যয় করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম এলাকায় হাম রোগ মোকাবেলায় ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের এই মানবিক উদ্যোগ একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও প্রগতিশীলভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

লোহাগাড়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ২ বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ ৩ জন নিহত

গোবিন্দগঞ্জে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

 

স্টাফ রিপোর্টার :

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বৌদ্ধ ভান্তে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে চুনতি জাঙ্গালিয়া মাজার গেট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে রাস্তার পাশের গভীর খাদে ছিটকে পড়ে। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহাসড়কের এই অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

চালকের বেপরোয়া গতি কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

×