| ২৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

রুমা উপজেলায় ইউনিসেফ-সহায়তাপুষ্ট পাড়াকেন্দ্রে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ

রুমা উপজেলায় ইউনিসেফ-সহায়তাপুষ্ট পাড়াকেন্দ্রে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প এবং ইউনিসেফের (UNICEF) সহায়তায় পরিচালিত পাড়াকেন্দ্রগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে। পাড়াকর্মীদের বেতন-ভাতা কমে যাওয়া, কেন্দ্রগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পাড়াকর্মীরা।

পাড়াকর্মীরা জানান, ২০২৪ সালে প্রকল্প কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে গেছেন। তবে বর্তমানে অনেক পাড়াকেন্দ্র অগোছালো ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রগুলোতে পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় নিজ নিজ বাড়িতে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। একজন পাড়াকর্মী বলেন, পাড়াকেন্দ্রগুলো মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণ করা হলে শিশুদের জন্য সুষ্ঠুভাবে পাঠদান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

পাড়াকর্মীদের অভিযোগ, আগে মাসিক ৯ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পেলেও বর্তমানে তা কমে ৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। ফলে পরিবার পরিচালনা করতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে স্বল্প বেতনে দায়িত্ব পালন করেও অনেকেই আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতন-ভাতার সংকট ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে বেশ কয়েকটি পাড়াকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক ও পাড়াকর্মীরা দ্রুত পাড়াকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করে কার্যক্রম সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প ম্যানেজার (UPM) থুইসাচিং মারমা বলেন, বেতন কমে যাওয়ার কারণে অনেক পাড়াকর্মী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগে ১০৯ জন পাড়াকর্মী কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ জন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রকল্প অফিসের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। বৃষ্টির সময় অফিসে পানি জমে যায়। এছাড়া একটি ফটোকপি মেশিন ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প ম্যানেজার জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকায় পরিচালিত পাড়াকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা প্রদান করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬ থেকে ২৪ মাস বয়সী ৫৩৫ জন শিশুকে নিয়মিত পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, পাড়াকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, পাড়াকর্মীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক, যাতে দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ব্যাহত না হয়।

বিভিন্ন ইভেন্টে পর্যালোচনা, প্রশিক্ষণ ও ধর্মীয় গুরুদের নিয়ে কক্সবাজারে ৩ দিনব্যাপী “যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার” বিষয়ক মাস্টার ট্রেনিং সম্পন্ন

রুমা উপজেলায় ইউনিসেফ-সহায়তাপুষ্ট পাড়াকেন্দ্রে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ

 

অরূপ কুমার মুৎসুদ্দী, বিশেষ প্রতিবেদক :

পপুলেশন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) এর উদ্যোগে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার হোটেল সী প্যালেস, কলাতলী রোড, কক্সবাজারে শুরু হওয়া ৩ দিনব্যাপী রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য

জেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরুদের সমন্বয়ে “যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধীকার” সম্পর্কিত মাস্টার (টট) ট্রেনিং আজ ২৫ জুলাই শনিবার সারাদিন বিভিন্ন ইভেন্টে সকলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে আলোচনা পর্যালোচনার পর দলীয় কাজ এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশিক্ষণের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশ এবং ঢাকা থেকে আগত প্রশিক্ষকগণ এবং কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তেরর উপপরিচালক জনাব বিপ্লব বড়ুয়ার বক্তব্যের মধ্যদিয়ে ৩ দিনব্যাপী এই “যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার” বিষয়ক মাস্টার ট্রেনিং সম্পন্ন হয়েছে।

এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসাবে ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ঢাকা এর আইইএম ইউনিট’র উপ পরিচালক (প্রোগ্রাম মনিটরিং) ইসরাত জাবিন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঢাকা এর আইইএম ইউনিটের পপুলেশন কমিনিকেশন অফিসার মোহাম্মদ সফি উদ্দিন।

পিএসটিসির হেড অব প্রোগ্রামস্ ডাঃ মোঃ মাহবুবুল আলম। ৩ দিনব্যাপী পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন পিএসটিসির এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ আজিম। এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রশিক্ষণে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ধর্মের ২০ জন ধর্মীয় গুরু এই অংশ গ্রহণ করেন।

ফারুয়া ইউনিয়নে হেডম্যান  রিনলম বম পালম এর নেতৃত্বে ২০০ পরিবারের মাঝে  এান বিতরণ

রুমা উপজেলায় ইউনিসেফ-সহায়তাপুষ্ট পাড়াকেন্দ্রে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।  শনিবার (২৫ জুলাই) যমুনা ছড়ির রিনলম বম পালম হেডম্যানের নেতৃত্বে এবং সরাসরি হেডম্যানের ছোট ভাই রেভা: জন বম নাজিরিন চার্চ আমেরিকার- এর অর্থায়নে দুর্যোগে ক্ষতি গ্রস্ত পরিবারের মাঝে এ-ই ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্তিত ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এসএম সালাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, ফারুয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা, সহ-সভাপতি মো. হারুন এবং হেডম্যান সমূল্ল্য তঞ্চঙ্গ্যাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হেডম্যান রিনলম বম (পালম) জানান, পাস্টার জন বম পক্ষ থেকে ফারুয়া বাজার, তারাছড়ি, গয়াইনছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, শুক্কুরছড়ি, যমুনাছড়ি এলাকায় দুর্যোগ ক্ষতিগ্রস্তদের ২০০ পরিবারের মাঝে চাউল, আলু, তৈল সহ অন্যান্য ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

DSF Do Something Foundation-এর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

রুমা উপজেলায় ইউনিসেফ-সহায়তাপুষ্ট পাড়াকেন্দ্রে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত, এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে DSF (Do Something Foundation)-এর উদ্যোগে এক দিনব্যাপী বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ২৫ জুলাই খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বাজারসহ পাঁচ শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন পরামর্শও প্রদান করা হয়।

এসময় DSF (Do Something Foundation) ডা: মো: মিজানুর রহমান জানান, সমাজের অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা বলেন এমন মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে DSF (Do Something Foundation)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে অনেক অসহায় মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

এসময় উপস্তিত ছিলেন সংগঠনের মো: শাহিল আলম, মো: রাসেল আহমদ এবং দীঘিনালা যুব ইউনিয়ন রেড ত্রুিসেন্ট সোসাইটির সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

×