| ২৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

মাদকাসক্তির নির্মম বলি: পারিবারিক সুরক্ষার ভাঙন ও আমাদের সামাজিক দায়

মাদকাসক্তির নির্মম বলি: পারিবারিক সুরক্ষার ভাঙন ও আমাদের সামাজিক দায়

ছবি – প্রতিকী

 

বিশেষ (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

মাদক নামক এক মরণনেশা আজ আমাদের সমাজব্যবস্থার শিকড়ে আঘাত হানছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে এটি এখন এমন এক সামাজিক ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে, যা রক্তের সম্পর্ককেও রক্তাক্ত করতে দ্বিধা করছে না। সম্প্রতি রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি আমাদের পারিবারিক সুরক্ষা, সামাজিক অবক্ষয় এবং মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণতির এক করুণ দলিল। নেশার টাকার জন্য মায়ের হাতে ২১ বছরের তরতাজা যুবকের প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় এবং গভীর আত্মোপলব্ধির সময় এনে দেয়।

ঘটনার অন্তরালে: পারিবারিক ট্র্যাজেডির নেপথ্য চিত্র
​গত শনিবার দুপুরে রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় যা ঘটেছিল, তা যেকোনো সভ্য সমাজের জন্যই লজ্জাজনক। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন সাকিফুল ইসলাম। নেশার টাকার জোগান না পেয়ে নিজের বাবা-মাকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক মামলা ছিল, এমনকি জেল খেটেও এসেছিলেন তিনি।

ঘটনার দিন নেশার ঘোরে তিনি যখন নিজ মা রেখা বেগমের কাছে টাকার আবদার করেন এবং অস্বীকার করায় হাতের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র (দা) দিয়ে বাবা-মাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন, তখনই আত্মরক্ষার লড়াইয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মা যখন নিজের ও স্বামীর জীবন বাঁচাতে ছেলের হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, ঠিক তখনই অসাবধানতাবশত সেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখম হন সাকিফুল। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পিতা মো. রফিকুল ইসলাম ও মাতা রেখা বেগমকে পুলিশ আটক করেছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং একটি পরিবারের ভেতরে মাদকাসক্তির তীব্র বিষবাষ্প কীভাবে এই চরম পরিণতির জন্ম দিল, তা আজ আমাদের গভীরভাবে ভাবাচ্ছে।

​মাদকাসক্তি: পারিবারিক কাঠামোর অদৃশ্য ধ্বংসলীলা
​মাদক আজ কেবল যুবসমাজকে ধ্বংস করছে না, বরং এটি পরিবার নামের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোকেও ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। রাঙামাটির এই ঘটনায় একদিকে যেমন একজন তরুণ তার জীবন হারিয়েছেন, অন্যদিকে একজন মা আজ সন্তানের ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন—যিনি একসময় একই সন্তানকে বুকে আগলে বড় করেছিলেন।

মাদকের নেশা মানুষের মস্তিষ্কের বিচারবুদ্ধি এমনভাবে লুপ্ত করে দেয় যে, সে ভুলে যায় আপন-পরের ব্যবধান। যে সন্তানের মায়ায় বাবা-মা নিজেদের সুখ বিসর্জন দেন, সেই সন্তানই যখন মাদকের অন্ধত্বে বুঁদ হয়ে বাবা-মার ওপর চড়াও হয়, তখন সমাজ ও পরিবারের মৌলিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির পতন ঘটায় না, বরং পুরো পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

উত্তরণের উপায়: সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রতিরোধ
​রাঙামাটির এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি থেকে আমাদের কিছু অত্যন্ত কঠোর ও সময়োপযোগী শিক্ষা নিতে হবে:
​পারিবারিক সচেতনতা ও কাউন্সেলিং: সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার শুরুতেই তাকে অপরাধী হিসেবে না দেখে একজন রোগী হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত রিহ্যাবে বা চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। অনেক পরিবার সামাজিক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখে, যা পরবর্তীতে এমন ভয়াবহ রূপ নেয়।

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন: পাড়া-মহল্লায় মাদকের সরবরাহ ও সিন্ডিকেটগুলো ধ্বংস করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
​পুনর্বাসন কেন্দ্র ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা: প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দরিদ্র বা সাধারণ পরিবারগুলো নামমাত্র খরচে তাদের সন্তানকে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারে।

​মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাঙামাটির আসামবস্তির এই ঘটনা যেন একটি বার্তা হয়ে থাকে—মাদকের কালো থাবা থেকে আমাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পারলে এ ধরনের মর্মান্তিক পরিণতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। সময় এখনই, সম্মিলিতভাবে এই সামাজিক ব্যাধিকে প্রতিহত করার।

বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে এগিয়ে এসেছেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা-ও

মাদকাসক্তির নির্মম বলি: পারিবারিক সুরক্ষার ভাঙন ও আমাদের সামাজিক দায়

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখা।

রবিবার (২৬ জুলাই) রাত ৯ টায় শাক্যপ্রিয় ভিক্ষু এক মেসেজ বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, গত ২৪ তারিখ, শুক্রবার হতে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মোট ১০৪ পরিবারকে পরিবার প্রতি ১০০০/-টাকা করে সর্বমোট- ১০৪,০০০/- (একলক্ষ চার হাজার টাকা) নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গ্রামগুলো হলো- চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তক্তানালা উত্তর

পাড়া, তারাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, গোয়াইনছড়ি ও তক্তানালা দক্ষিণ পাড়া। মোট ৭টি গ্রাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি আর্য্যলঙ্কার মহাথের, সাধারণ সম্পাদক বিপুল জ্যোতি মহাথের-সহ অন্যান্যা ভিক্ষু সংঘ।

রামগড়ে চুরির আতঙ্ক, তিন দিনে দুই বাড়িতে চুরি

মাদকাসক্তির নির্মম বলি: পারিবারিক সুরক্ষার ভাঙন ও আমাদের সামাজিক দায়

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বাড়ি দুটি রামগড় থানা থেকে মাত্র প্রায় ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত। থানার এত কাছাকাছি এলাকায় পরপর চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, একটি বাড়ির নির্মাণাধীন ছাদ থেকে দুর্বৃত্তরা লোহার রড কেটে নিয়ে গেছে। অপর একটি বাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক তার, সিলিং ফ্যান, বাতি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরি হয়েছে।

প্রথম ঘটনায় ভুক্তভোগী রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক আব্দুল হাই জানান, কয়েক দিনের মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদের রড কেটে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “ঘরের ছাদ থেকে রড চুরি হতে দেখে আমি হতবাক হয়েছি। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি।”অপর চুরির ঘটনা ঘটে সাংবাদিক বেলাল হোসাইনের ভাড়া বাসায়। ঘটনার সময় তাঁর ভাড়াটিয়া বাসায় না থাকায় সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক তার, সিলিং ফ্যান, বাতি এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।

সাংবাদিক বেলাল হোসাইন বলেন, “আমার ভাড়াটিয়া ওই সময় বাসায় ছিলেন না। দুর্বৃত্তরা এ সুযোগে ঘরে ঢুকে বৈদ্যুতিক তার, সিলিং ফ্যান, বাতি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ভাড়াটিয়াকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন। চুরির ঘটনার সঙ্গে ওই বিষয়টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ পিএম

থানচির বড়পাথরে নৌকাডুবি; দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার।

মাদকাসক্তির নির্মম বলি: পারিবারিক সুরক্ষার ভাঙন ও আমাদের সামাজিক দায়

 

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড়পাথর এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মোঃ জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) নামে এক পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ৩৮ বিজিবির অধীনস্থ তিন্দু মুখ ক্যাম্প সংলগ্ন নদীর ঘাটে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেন। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। বর্তমানে মরদেহটি তিন্দু মুখ বিজিবি ক্যাম্পের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে থানচি উপজেলার বড়পাথর এলাকায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা ডুবে গেলে পর্যটক মোঃ জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান নিখোঁজ হন। ঘটনার পর নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

নিখোঁজের পরদিন ২৫ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল থানচিতে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে থানচি ফায়ার সার্ভিসের আরও পাঁচজন সদস্য যোগ দিয়ে মোট আটজন ডুবুরি নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও সেদিন নিখোঁজ পর্যটকের কোনো সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে ২৬ জুলাই সকালে তিন্দু মুখ ক্যাম্প সংলগ্ন নদীর ঘাটে ভেসে ওঠে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।

নিহত মোঃ জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) ময়মনসিংহ জেলার মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ হেলাল উদ্দীন এবং মাতার নাম মোছাঃ দেলোয়ারা আক্তার।

নৌকাডুবির ঘটনায় পর্যটকের নিখোঁজ হওয়া এবং দুই দিন পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকবাহী নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নৌযান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

×