চট্টগ্রামে প্রবল বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী




খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ
“শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন”—এই মূলনীতি ধারণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বহু বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গারাম ও শুকনা নন্দারাম এলাকায় বাঘাইহাট জোন ও ফায়ার সার্ভিসের এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুনরায় বাঘাইহাট টু সাজেক যানচলাচল চালু হয়েছে।
আজ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের শুকনা নন্দারাম এবং গঙ্গারাম উভয় এলাকায় রাস্তার উপর বিশালাকার গাছ উপড়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে টুরিস্ট ও সাধারন জনগন আটকে পড়ে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য ১৪ ইবি বাঘাইহাট জোন থেকে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল ও দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস এর একটি বিশেষ দল উদ্ধার সরঞ্জামসহ গমন করেন এবং সড়ক থেকে গাছ কেটে পুনরায় যানচলাচল স্বাভাবিক করেন।
স্থানীয়দের মতে,বাঘাইহাট জোনের এমন উদ্যোগ পাহাড়ি ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশাব্যাক্ত করেন।
স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ সকালে তিনি মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড়সহ জলাবদ্ধতা প্রবণ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ভোগান্তির বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছ থেকে খাল সংস্কার কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
মেয়র জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)’র অধীনে নগরীর বিভিন্ন খালে সংস্কার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে হিজরা খাল ও জামালখান খালের সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “উন্নয়ন কাজের কারণে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। কাজ শেষ হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে।”
মেয়র আরও জানান, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে সিডিএ’র খাল সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে করে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি আসবে এবং জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমেই চট্টগ্রামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলা কলেজ এলাকায় আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ায় একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে দুটি বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বসতঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কর্ণফুলী কলেজের দপ্তরি রহমত আলী। তিনি বর্তমানে অবসর পূর্বকালীন ছুটিতে (এলপিআর) রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, তার ঘরটি বিশাল গাছের নিচে চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে। একই সময়ে গাছের অংশবিশেষ আবুল বশর নামে আরেক বাসিন্দার ঘরের ওপর পড়লে সেটিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভুক্তভোগী রহমত আলী জানান, মুহূর্তের মধ্যে ঝড় শুরু হয়ে গাছটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। অল্পের জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমিন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষকে এই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর বিষয়ে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো গাছগুলো অপসারণ করা হলে আজ এই ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলার আরও কয়েকটি স্থানে ঝড়ে গাছ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।